১ জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল, বাস্তবায়ন তিন ধাপে

রেজাউল করিম বায়রন
রেজাউল করিম বায়রন

আগামী ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেনশনার এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর হতে যাচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার এই নতুন পে স্কেল চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী গতকাল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আগামী ১ জুলাই থেকে আমরা নতুন পে স্কেল চালু করছি। তবে সরকারের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টিও আমাদের মাথায় রাখতে হচ্ছে। তাই এটি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তার রূপরেখা নিয়ে এখন কাজ চলছে।’

প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নতুন পে স্কেলের আংশিক বাস্তবায়নের জন্য আগামী বাজেটে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হতে পারে।

জানা গেছে, নতুন পে স্কেলি তিন বছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। আগামী অর্থবছরে সুপারিশকৃত মূল বেতনের (বেসিক) ৫০ শতাংশ বাড়ানো হবে। পরের বছর বাকি অংশটুকু কার্যকর হবে। আর তৃতীয় বছরে গিয়ে দুই ধাপে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা পরিশোধ করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল দুই ধাপে কার্যকর হয়েছিল। সেবার ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে মূল বেতন এবং এক বছর পর নতুন হারে ভাতা কার্যকর হয়।

পে কমিশনের সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে সরকারের ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে শুধু সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্যই লাগবে ৮০ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থ পেনশনার এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য ব্যয় হবে।

নবম পে কমিশন চলতি বছরই বেতনকাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছিল। এ জন্য অন্তর্বর্তী সরকার চলতি অর্থবছরের বাজেটে ৩০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দও রেখেছিল।

তবে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং রাজস্ব আদায় কম হওয়ায় নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি আগামী অর্থবছর পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কমিশন এবার ২০টি স্তরে (গ্রেড) পে স্কেল নির্ধারণের সুপারিশ করেছে। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

নবম পে কমিশনের প্রধান ও সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান জানান, বৈশ্বিক ও জাতীয় অর্থনীতির প্রায় সব সূচকের বড় ধরনের পরিবর্তন এবং গত এক দশকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ব্যাপক বাড়ার বিষয়টি পর্যালোচনা করে নতুন বেতন কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।

নতুন কাঠামোর অধীনে সরকারি কর্মচারীদের প্রকৃত আয় যেন ২০১৫ সালের স্তরের নিচে নেমে না যায় সেদিকে লক্ষ্য রেখেছে পে কমিশন।

২০১৪-১৫ অর্থবছরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ সরকারের বরাদ্দ ছিল ২৮ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা। অষ্টম পে স্কেল বাস্তবায়নের পর পরের বছরই এই বরাদ্দ একলাফে বেড়ে ৫০ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকায় পৌঁছায়।

আর বর্তমানে দেশের ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনারের পেছনে সরকারের বছরে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। নতুন পে স্কেল পুরোপুরি কার্যকর হলে সরকারের এই ব্যয়ের অঙ্ক প্রায় দ্বিগুণ হবে।