শতবর্ষের চিত্র নিয়ে 'নিষুপ্ত জাগরণ' উপন্যাস

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

প্রকাশিত হয়েছে জীবনীভিত্তিক উপন্যাস নিষুপ্ত জাগরণ। মোহাম্মদ শামছুজ্জামানের উপন্যাসটি বিশ শতকের প্রথমার্ধে বাঙালি মুসলিম মানসে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' এবং 'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলনের প্রাণপুরুষ আবুল হুসেনের জীবন ও কর্মকে কেন্দ্র করে আবর্তিত।

জাগৃতি থেকে প্রকাশিত ৫৪০ পৃষ্ঠার এই বিস্তৃত উপন্যাসে লেখক ১০০ বছর আগের ঢাকা ও সমকালীন মুসলিম সমাজের বাস্তব চিত্র নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। যশোরের ঝিকরগাছায় জন্ম নেওয়া এই মহান মনীষী কীভাবে জরাগ্রস্ত কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজকে 'শিখা'র আলোয় জাগিয়ে তুলতে সংগ্রাম করেছেন, তা এখানে জীবন্ত হয়ে উঠেছে। 

'জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব'—এই মূলমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে আবুল হুসেনের সমাজ সংস্কার, চিন্তার গভীরতা এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক অনন্য উপাখ্যান হলো এই গ্রন্থটি।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে ১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম হলে মুসলিম সাহিত্য সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়। সংগঠনটি ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্র ও শিক্ষকের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়। মুসলিম সাহিত্য সমাজের সারথি কাজী আবদুল ওদুদ, আবুল হুসেন, কাজী মোতাহার হোসেন, আবদুল কাদির, আনোয়ারুল কাদির ছাড়াও উপন্যাসে সৈয়দ এমদাদ আলী এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার ধারক হিসেবে হিন্দু বুদ্ধিজীবী যেমন রমেশচন্দ্র মজুমদার ও চারু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাব ও ভাষা পাওয়া যায়। 

নিষুপ্ত জাগরণ উপন্যাসে এসেছে আবুল হুসেনের শৈশব থেকে কৈশোররের গল্পের পাশাপাশি পুরো জীবন। শিক্ষা জীবন থেকে চিন্তা জীবনের বাঁকে বাঁকে খ্যাতিমানদের সঙ্গে কাটানো স্মৃতি, পারিবারিক গল্প ও অজানা অধ্যায়। এই ছাড়াও অসাম্প্রদায়িক চিন্তার কারণে আবুল হুসেনের ওপর রক্ষণশীল সমাজের ভয়াবহ চাপ। আর তা এতোটাই তীব্র ছিল যে, তাকে শেষ পর্যন্ত ঢাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। 

কেবল তাই নয়, তার প্রগতিশীল ও যুক্তিবাদী রচনার জন্য তাকে 'ধর্মদ্রোহী' ও 'কাফের' আখ্যা দেওয়া হয়। রক্ষণশীল সমাজপতিরা তার ওপর শারীরিক হামলার হুমকি এবং তাকে একঘরে করার চেষ্টা করে। ১৯২৯ সালে ঢাকার রক্ষণশীল মুসলিম নেতারা তাকে নবাব বাড়িতে (আহসান মঞ্জিল) তলব করেন। সেখানে মানসিক চাপের মুখে এবং সামাজিক বিশৃঙ্খলা এড়াতে তাকে নিজের কিছু বক্তব্যের জন্য লিখিতভাবে দুঃখ প্রকাশ করতে বাধ্য করা হয়। 

মুসলিম সাহিত্য সমাজের শতবর্ষ উপলক্ষে প্রকাশিত বইটির ভূমিকা লিখেছেন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।