ইসলামী ব্যাংক নির্বাচনের আগে একটি দলকে ১১ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে একটি দলকে ইসলামী ব্যাংকের একটি প্রকল্প থেকে ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
আজ মঙ্গলবার সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৬৮ বিধির আওতায় আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি করেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, 'আরডিএস নামে ইসলামী ব্যাংকের একটা ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প আছে যার মূল লক্ষ্য ৫, ১০ কিংবা ২০ হাজার টাকা ঋণ দেওয়া, এতে নারী গ্রাহকের সংখ্যাই বেশি।'
‘ভোটের আগে ১০ হাজার টাকা করে অনেক নারীকে দেওয়া হয়েছে। এক ভোটারকে জিজ্ঞেস করেছে আমার এক কর্মী, মা আপনি কোথায় ভোট দেবেন। তিনি বলছেন, “বাবা কোরআনের দলকে ভোট না দিলে তো জান্নাতে যাওয়া যাবে না। ১০ হাজার টাকাও দিয়েছে, বলেছে এটা মাফ হয়ে যাবে। আরও ১০ হাজার টাকা পাব”,’ বলেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, 'এভাবে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে জান্নাত পাওয়ার নিশ্চয়তাও দিয়েছে। এই আরডিএস প্রকল্পের মধ্যে ২২ হাজার কোটি টাকা ডিস্ট্রিবিউট হয়েছে। ১১ হাজার কোটি টাকা আগে দেওয়া হয়েছিল। ৫ আগস্টের পর নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়ার জন্য আরও ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এর কোনো হদিস নাই।'
'এছাড়া নাবিল গ্রুপকে ৭০০ কোটি টাকা এবং আরেকটি গ্রুপকে প্রধান কার্যালয়ের অনুমতি ছাড়াই ৪০ কোটি টাকা লোন দেওয়ার মতো অনিয়ম হয়েছে,' বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি জানান, ব্যাংকটিতে কোনো আইন না মেনে প্রায় ৯ হাজার দক্ষ কর্মীকে নিয়মবহির্ভূতভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এর বিপরীতে ৬ হাজার নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে যাদের রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে এবং ১৩ হাজার কর্মীকে অনিয়মিতভাবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় অনাকাঙ্ক্ষিত, অবৈধ ও অপ্রত্যাশিত হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবিতে একটি নোটিশ জমা দিয়েছিলেন।
সেই নোটিশের সূত্র ধরে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, 'বিরোধীদলীয় উপনেতা দাবি করেছেন যে শেয়ার লুট করে কেনা হয়েছে। কিন্তু উদাহরণ হিসেবে আমি বলতে চাই, ইবনে সিনা ব্লক মার্কেটে তিনগুণ দামে তাদের ২ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করেছে। বর্তমান শেয়ারহোল্ডিং অবস্থা অনুযায়ী প্রায় ৮১ শতাংশ শেয়ার একটি গ্রুপের বলে মনে হচ্ছে। প্রকৃত শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানা ফিরিয়ে দিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'বাংলাদেশ ব্যাংক আইনি ক্ষমতায় জনস্বার্থে যেকোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বাতিল বা পরিচালক অপসারণের পূর্ণ ক্ষমতা রাখে। রেগুলেটরি অথরিটি হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের ও আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় নিজস্ব ক্ষমতা প্রয়োগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।'