ডাকরা গণহত্যা

কয়েকশ হিন্দুকে গলা কেটে হত্যা করে রাজাকারেরা

আহমাদ ইশতিয়াক
আহমাদ ইশতিয়াক

‘ঠাকুরবাড়ি ও আশপাশের বাড়িগুলো থেকে সব পুরুষদের ধরে এনে তারা লাইনে দাঁড় করিয়ে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করেছিল। বিশ্বাস বাড়িতে পাঁচ ভাই ছিল। বাকিদের মতো তাদেরও এক লাইনে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করেছিল। গণহত্যা শেষে রাজাকারেরা সব বাড়িঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছিল। যে দৃশ্য আমি দেখেছিলাম, তা ভাষায় বর্ণনা করার মতো নয়।’

দ্য ডেইলি স্টারের এই প্রতিবেদককে ডাকরা গণহত্যার বর্ণনা দিতে গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী অতীন্দ্রনাথ হালদার দুলাল ফিরে যান স্মরণকালের এক লোমহর্ষক অধ্যায়ে। চোখ বুজলে আজো তাকে তাড়া করে বেড়ায় সেদিনের সেই নৃশংসতা আর পৈশাচিকতার ভয়াল দৃশ্য।

তিনি বলেন, ‘রাজাকারেরা চলে যাওয়ার পর মুসলমান পাড়া থেকে বের হয়ে আমি যে দৃশ্য দেখেছিলাম, মৃত্যুর আগে তা ভুলতে পারব না। কালী মন্দিরের সামনে তখন শুধু লাশ আর লাশ ছড়িয়ে ছিল। গুলি খাওয়ার পরও যারা বেঁচেছিল, কালী মন্দিরের সামনে ধরে এনে আকিজ উদ্দিন আর মজিদ কসাই তাদের গলা কেটে হত্যা করেছিল।’

একাত্তরের ২১ মে বাগেরহাটের ডাকরায় রাজাকারেরা যে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল, তা রীতিমতো নির্মমতা ও পৈশাচিকতাকে হার মানায়। ভয়াল এই গণহত্যায় সেদিন শহীদ হন অন্তত ৬০০ নিরীহ হিন্দু শরণার্থী। যাদের অনেককে সেদিন রাজাকারেরা কালী মন্দিরের সামনে গলা কেটে হত্যা করেছিল।

ডাকরা ও একটি কালী মন্দির

সুন্দরবনের নিকটবর্তী বাগেরহাটের রামপাল থানার পেড়িখালী ইউনিয়নের শান্ত নিভৃত গ্রাম ডাকরা। গ্রামটির মধ্য ও পাশ  দিয়ে বয়ে গেছে কুমারখালী, মাদারতলা খাল ও মোংলা নদী। মাদারতলার দক্ষিণ পাড়ে ডাকরা বাজারের অবস্থান।

গ্রামের শতবর্ষী কালী মন্দিরকে কেন্দ্র করে ঠাকুর বাড়িতে বাস করত কয়েকটি ব্রাহ্মণ পরিবার। যুগ যুগ ধরে বংশ পরম্পরায় মন্দিরের সেবায়েত হিসেবে নিয়োজিত ছিল তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তৎকালীন সময়ে কালী মন্দিরের ধর্মগুরু ছিলেন বিনোদ বিহারী চক্রবর্তী। ভক্তদের কাছে  ‘নোয়াকর্তা’ নামে সুপরিচিত এই ধর্মগুরুর পুরো অঞ্চলে অনেক ভক্ত ছিল।

একাত্তরের মে মাসের শুরুতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর নিপীড়ন বাড়তে থাকে। তখন পেড়িখালী ইউনিয়নের হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা দেশত্যাগ করতে শুরু করেন। তখন ডাকরা গ্রামের মুসলিম লীগ সমর্থক ইনাম আলী শেখ, জোনাব আলী শেখ ও দেলোয়ার হোসেন হিন্দুদের পূর্ণ নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে দেশত্যাগ করতে নিষেধ করেন।

এসময় বাঁশতলী গ্রামের শান্তি কমিটির সদস্য আফসার উদ্দিন কালী মন্দিরের প্রধান সেবায়েত বাদলচন্দ্র চক্রবর্তীকে এই মর্মে আশ্বাস দেন, ‘রাজাকার বা পাকিস্তানি বাহিনী ভক্তদের ওপর কোন ধরনের নির্যাতন ও নিপীড়ন চালাবে না।’

এই আশ্বাসে বিনোদ বিহারী চক্রবর্তী ভক্তদের এখনই দেশত্যাগ করতে নিষেধ করেন।

কিন্তু তাতেও নিপীড়ন বন্ধ না হওয়ায় ভক্তরা বিনোদ বিহারী চক্রবর্তী, বাদল চন্দ্র চক্রবর্তীকে সঙ্গে নিয়ে ২১ মে ডাকরা থেকে রওয়ানা হয়ে সুন্দরবনের ভিতর দিয়ে ভারতে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেন। লোকমুখে বিষয়টি জানতে পেরে ১৮-১৯ মে’র মধ্যে আশপাশের অঞ্চল ছাড়াও রামপাল,  বাগেরহাট সদর, মোড়েলগঞ্জ, বাঁশবাড়িয়াসহ দূরবর্তী বিভিন্ন অঞ্চল থকেও অসংখ্য শরণার্থী ও ‘নোয়াকর্তা’র ভক্তরা হেঁটে, নৌকায় করে ডাকরায় আসতে শুরু করেন।

ডাকরায় আসা শরণার্থীরা কালী মন্দির ও ঠাকুর বাড়ির পার্শ্ববর্তী মোংলা নদী, মাদারতলা নদী ও কুমারখালী খালের তীরে শতাধিক নৌকায় অবস্থান নেন।

ডাকরা গণহত্যায় শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ
ডাকরা গণহত্যায় শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ। ছবি: স্টার

২০ মে রাতের মধ্যেই ডাকরা কালী মন্দির, কালী মন্দিরের চত্বর, খালের ঘাট এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘর এবং পার্শ্ববর্তী এলাকা অনেকটা শরণার্থী শিবিরে পরিণত হয়। এ সময় ডাকরা ঠাকুর বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় অন্তত সাড়ে চার হাজার ভক্ত ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীর উপস্থিতি ছিল।

এই উপস্থিতি এবং সেখানে উপস্থিতির উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে পেরে বাঁশতলী গ্রামের শান্তি কমিটির সদস্য আফসার উদ্দিন, ইনাম আলী শেখ ও জোনাব আলী শেখ ২০ মে রাতেই লিয়াকত আলী গজনবী নামের এক মেডিকেল শিক্ষার্থীর মাধ্যমে কুখ্যাত রাজাকার কমান্ডার রজ্জব আলী ফকিরের কাছে চিঠি পাঠান।

এরপর রজ্জব আলী ফকির বৃহত্তর খুলনার শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান ও জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির এ কে এম ইউসুফের কাছে গণহত্যা চালানোর অনুমতি চান। ইউসুফ তাকে ডাকরায় গণহত্যা চালানোর নির্দেশ দেন। ২১ মে সকালে রাজাকার কমান্ডার রজ্জব আলী ফকিরের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জন রাজাকারের একটি দল দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে দুটি বড় ছইওয়ালা নৌকায় করে বাগেরহাট থেকে ডাকরার উদ্দেশে রওনা দেয়।

গণহত্যার প্রত্যক্ষদর্শী অতীন্দ্রনাথ হালদার দুলাল বলেন, ‘তখন নদীতে ভাটা চলছিল। জোয়ার এলেই আমরা নৌকা ছেড়ে দেব। এমন সময় দেখা গেল বৈঠা আনা হয়নি। বৈঠা আনতে যখনই আমি পাশের একটা বাড়িতে যাই, তখনই রাজাকারেরা  মাদারতলী আর কুমারখালী দিয়ে ডাকরায় প্রবেশ করে। আমি দ্রুত মুসলিম পাড়ার একটা বাড়িতে লুকিয়ে পড়ি।’

গণহত্যার একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুপুর ১টার দিকে রাজাকারদের একটি নৌকা মোংলা নদী দিয়ে কালীগঞ্জ বাজারের এসে পার্শ্ববর্তী মাদারতলী নদী দিয়ে ডাকরা বাজারে প্রবেশ করে। রাজাকারদের আরেকটি নৌকা তখন আড়াআড়িভাবে মোংলা নদী পাড়ি দিয়ে কুমারখালি খালের তীরে ভেড়ে।

নৌকায় থাকা রাজাকারেরা নেমেই নদীতে ও খালে ভারতের উদ্দেশে পাড়ি জমানোর জন্য অপেক্ষমাণ ভক্ত ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নৌকাগুলোতে ঢুকে ঢুকে তাদের গুলি করে হত্যা করে। এরপর সব নৌকায় চিরুনি তল্লাশি চালায়। তারপর রাজাকারদের প্রথম নৌকাটি পশ্চিম দিক দিয়ে ও দ্বিতীয় নৌকাটি দক্ষিণ দিক দিয়ে গুলি করতে করতে ডাকরা গ্রামে প্রবেশ করে।

মোংলা নদী তীরবর্তী ডাকরা ঘাটেও সেদিন অনেক মানুষকে হত্যা করেছিল রাজাকারেরা
মোংলা নদী তীরবর্তী ডাকরা ঘাটে সেদিন অনেক লাশ পড়েছিল। ছবি: স্টার

এ সময় দুদিক থেকে রাজাকারদের বৃষ্টির মতো গুলিবর্ষণের মধ্যেই প্রাণ বাঁচাতে ভক্তরা ছুটতে শুরু করেন। যাদের অনেকেই তখন কালী মন্দিরের সামনে এসে উপস্থিত হন। এ সময় ভক্তরা জানতে পারেন, বিনোদ বিহারী চক্রবর্তী ও বাদল চন্দ্র চক্রবর্তী নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে পারছেন। তখন রাজাকারদের দুটি দলই ঠাকুরবাড়ি ও কালী মন্দিরের সামনে চলে আসে।

রাজাকারেরা প্রথমে নারী ও পুরুষদের আলাদা করে। তারপর আরও পুরুষ লুকিয়ে আছে কি না, তা খুঁজে দেখার জন্য কয়েকজন রাজাকার ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে শাড়ি পরা অবস্থায় কয়েকজন পুরুষকে খুঁজে পায়। এ সময় তাদের টেনে হিঁচড়ে বাইরে বের করে এনে মন্দির চত্বরে লাইনে দাঁড় করিয়ে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করে।

বাকি ভক্তরা তখন প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করলে রাজাকারেরা তাদের ওপরও ব্রাশফায়ার চালায়। গুলিবিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও যে ভক্তরা তখনো প্রাণে বেঁচেছিলেন, তাদের মন্দির চত্বরে এনে গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে আকিজ উদ্দিন ও মজিদ কসাই। দুপুর ১টায় শুরু হওয়া পৈশাচিক এই গণহত্যা শেষ হয় বিকেল ৪টার দিকে।

৩ ঘণ্টাব্যাপী চলা এই গণহত্যায় শহীদ হন অন্তত ৬০০ নিরীহ মানুষ। গণহত্যা শেষে রজ্জব আলী ফকিরের নির্দেশে ডাকরা ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বাড়ি জ্বালিয়ে দেয় রাজাকারেরা।

গণহত্যা শেষে ফিরে যাওয়ার সময় রাজাকারেরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী বেশ কয়েকজন তরুণীকে জোরপূর্বক নৌকায় তুলে বাগেরহাটে নিয়ে যায়।

ডাকরা গণহত্যায় চার চাচাকে হারিয়েছিলেন গণহত্যার আরেক প্রত্যক্ষদর্শী শিশির কুমার বিশ্বাস। ভাগ্যক্রমে গণহত্যা থেকে প্রাণে বেঁচে যাওয়া ডাকরা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষক বলেন, ‘রাজাকারেরা যখন নৌকা নিয়ে গ্রামে ঢুকছিল, আমি তখনই তাদের স্পষ্ট দেখতে পেলাম। প্রথমে আমি লুকাইনি, শুধু ওদের গতিবিধি দেখছিলাম। একপর্যায়ে ওরা যখন কাছাকাছি চলে এলো, তখন আমি নিজেকে আড়াল করার জন্য একটা পরিত্যক্ত ঘরে লুকিয়ে পড়ি।’

‘রাজাকারেরা চলে যাওয়ার পরে সন্ধ্যার দিকে আমি যখন সেখান থেকে বেরিয়ে এলাম, দেখলাম আমার এক কাকাত ভাই গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। ঠাকুরবাড়ির দিকে পা বাড়াতেই চারদিকে দেখি শুধু লাশ আর লাশ। যেন রক্তের বন্যা বইছিল। এক ইঞ্চি মাটিও ফাঁকা নেই। যেখানেই পা দিচ্ছিলাম, সেখানেই লাশ।’

শিশিরকুমার বিশ্বাস আরও বলেন, ‘ঠাকুর বাড়ির ভেতরে ঢুকতেই দেখলাম আমরা চার কাকা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মরে পড়ে আছে। দেখেই বুঝতে পারলাম তাদের লাইনে দাঁড় করিয়ে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হওয়া এক দুজন তখনো মুমূর্ষু অবস্থায় কাতরাচ্ছিল আর পানি চাইছিল। গুলিবিদ্ধ অনেককে গলা কেটে হত্যা করলেও তাদের করেনি। কারণ ওরা যখন গুলি খেয়েছিল তখন মৃত্যুর ভান করে পড়ে থাকায় ওদের আর গলা কেটে করেনি। সেই মর্মান্তিক দৃশ্য আসলে ভাষায় বর্ণনা করার মতো নয়।’

ডাকরা গণহত্যা
বিষ্ণুপদ বাগচীর বই ডাকরা গণহত্যা। ছবি: ছবি: সংগৃহীত

ডাকরা দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা দীপক রায় সেই গণহত্যায় ভগ্নিপতিসহ ছয় স্বজনকে হারিয়েছিলেন। দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে তখন নদীর ধারে বসে ডাব খাচ্ছিলাম। আচমকা গুলির শব্দ। প্রথমে বুঝতে পারিনি, গুলির শব্দ কোন দিক থেকে আসছে। এরপর  নদীর দিকে তাকিয়ে দেখি রজ্জব আলী ফকির রাজাকারের দলবল নিয়ে গুলি করতে করতে আসছে। আমরা তখন যে যেদিকে পারলাম ভাগলাম। অঙ্কুর হালদার নামে এক বন্ধু ছিল, সে রাজাকারদের হাতে ধরা পড়ে গেল। ওরা ওকে বাকিদের মতো লাইনে দাঁড় করিয়ে গুলি করে মারল। সেদিন যে ভয়ে বাড়ি ছাড়লাম; বাড়ি ফিরে এলাম দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে।’

ডাকরা গণহত্যায় শহীদের সংখ্যা যত

‘ডাকরা গণহত্যা’ শীর্ষক একটি বই লিখেছিলেন গবেষক বিষ্ণুপদ বাগচী। দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘ডাকরা গণহত্যায় শহীদের প্রকৃত সংখ্যা ছয় শতাধিক। যদিও আমি ডাকরা ও পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে খোঁজ নিয়ে ১১১ জনের একটি তালিকা করেছিলাম। এর মধ্যে ১০৯ জনের নাম স্মৃতিস্তম্ভে স্থান পেয়েছে।’

ডাকরা গণহত্যায় স্থানীয়দের মধ্যে শহীদের সংখ্যা কম ছিল। বেশির ভাগই শহীদই ছিলেন দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা। যার ফলে আমরা বাকিদের নাম ঠিকানা কিছুই পাইনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘তখন মাদারতলা, কুমারখালী ও মোংলা প্রচণ্ড খরস্রোতা ছিল। ফলে বেশির ভাগ লাশই নদী-খালে ভেসে গিয়েছিল। তবে গণহত্যার পরে দেলোয়ার হোসেন নামের গ্রামের এক চিকিৎসক স্থানীয় তরুণদের নিয়ে প্রায় ২০০ লাশের সৎকার করেছিলেন। তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম আমাকে বলেছিলেন, তিনি নিজেই ৪৬৪টি পর্যন্ত লাশ গুনেছিলেন। যদিও এরইমধ্যে অনেক লাশই নদীর স্রোতে ভেসে গিয়েছিল।’

বিষ্ণুপদ বাগচী আরও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে ডাকরা গণহত্যার মতো রাজাকারদের মাধ্যমে সংঘটিত এতো বিশাল গণহত্যার উদাহরণ আর একটিও পাওয়া যায় না। এটিই রাজাকারদের হাতে সংঘটিত মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে বড় গণহত্যা।’