কিশোরী হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার ফোর্টনাইটখ্যাত র‍্যাপার

স্টার অনলাইন ডেস্ক

গত বছর নিখোঁজ হওয়া এক কিশোরীকে (১৪) হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন উদীয়মান মার্কিন র‍্যাপার ডেভিড। 

আজ শুক্রবার যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে। 

শিল্পী হিসেবে নিজের নামের একটি অনন্য বানান ব্যবহার করেন ডেভিড। D4VD নামে তিনি বিশেষ পরিচিতি পান। 

পাশাপাশি, বিশ্বজুড়ে তুমুল জনপ্রিয় ভিডিও গেম ফোর্টনাইটের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণেও লাখো তরুণ-কিশোরীর কাছে সুপরিচিত ডেভিড। 

লকড অ্যান্ড লোডেড নামের ওই গানটি ২০২৫ সালের ফোর্টনাইট গ্লোবাল চ্যাম্পিয়নশিপে (এফএনসিএস) থিম সং হিসেবে ব্যবহার হয়। 

মার্কিন র‍্যাপারের আসল নাম ডেভিড অ্যান্থনি বার্ক। 

গত বছর ডেভিডের নামে নিবন্ধন করা একটি টেসলা গাড়ির ভেতর সেলেস্তে রিভাস হারনান্দেজ নামের এক কিশোরীর মরদেহ খুঁজে পাওয়া যায়। 

ওই কিশোরীকে হত্যার অভিযোগে ডেভিডের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। 

গতকাল বৃহস্পতিবার লস অ্যাঞ্জেলসের পুলিশ বিভাগ জানায়, ২১ বছর বয়সী গায়ক ডেভিডকে অজামিনযোগ্য অপরাধের দায়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

ডেভিডের বিরুদ্ধে এখনো কোন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি। সোমবার হত্যা মামলাটি জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয়ে উপস্থাপন করা হবে।

মার্কিন গণমাধ্যমকে ডেভিডের আইনজীবীরা বলেন, ‘একটা বিষয় স্পষ্ট হওয়া দরকার—এই মামলার প্রকৃত সাক্ষ্য-প্রমাণ আমাদেরকে দেখাবে যে ডেভিড বার্ক সেলেস্তে রিভাস হারনান্দেজকে হত্যা করেননি এবং তার মৃত্যুর জন্য ডেভিড দায়ী নন।’

‘ডেভিডের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে’, দাবি করেন তার আইনজীবীরা। 

এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, ডেভিডকে ‘সেলেস্তে রিভাসের হত্যাকাণ্ডের দায়ে’ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর একটি টেসলা গাড়ির ভেতর থেকে ওই ১৪ বছর বয়সী কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারের আগে গাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পেয়ে কর্তৃপক্ষ টো ইয়ার্ডে রেখে আসে। 

গাড়িটি থেকে পচা গন্ধ বের হয়ে আসার অভিযোগ পেয়ে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়।  

তদন্তকারীরা একটি ব্যাগে ওই নারীর খণ্ডিত মাথা ও দেহের অন্যান্য অংশ খুঁজে পায়। ততদিনে মরদেহে পচন ধরেছে। 

গাড়িটি ডেভিডের নামে নিবন্ধন করা এবং টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ঠিকানা সম্বলিত। 

ময়না তদন্তে জানা যায়, মরদেহ খুঁজে পাওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে নিহত হয়েছেন ওই নারী। 

এখনো কিশোরীর মৃত্যুর কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। 

এতদিন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ একে হত্যাকাণ্ড নয়, বরং অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবেই বিবেচনা করে এসেছে। অন্তত, আনুষ্ঠানিক বয়ানে এ কথাই বলা হয়েছে। 

২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন রিভাস হারনান্দেজ। যেখানে তার মরদেহ পাওয়া যায়, সেখান থেকে অন্তত ১২০ কিলোমিটার দূরে বসবাস করতেন তিনি। 

লাতিন আমেরিকার দরিদ্র দেশ এল সালভাদর থেকে অভিবাসন নিয়ে আসা বাবা মায়ের সন্তান রিভাস। তিনি এর আগেও লেক এলসিনোরের বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন।

ডিসেম্বর থেকেই গ্র্যান্ড জুরি এই মামলা নিয়ে কাজ করছে।  

তবে বৃহস্পতিবার ডেভিডকে গ্রেপ্তারের ঘটনাই এই মামলার বিচারিক কার্যক্রমে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। 

নিজের গাড়িতে কিশোরীর মরদেহ খুঁজে পাওয়ার খবর গণমাধ্যমে আসার পর থেকেই পাদপ্রদীপের আলো থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করে গেছেন ডেভিড। 

শুরুতে ‘ওয়ার্ল্ড ট্যুর’ বাতিল করেন তিনি। 

এরপর মার্কিন প্রতিষ্ঠান হলিস্টার ও ক্রকস তাদের প্রচারণা থেকে ডেভিডকে বাদ দেয়।