ফটো স্টোরি

চাঁদের দিকে অর্ধেক পথ পেরিয়ে পৃথিবীর ছবি পাঠাল আর্টেমিস

স্টার অনলাইন ডেস্ক

নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের ক্রুরা চাঁদের পথে যাত্রার অর্ধেক শেষ করেছে। এই সময় তারা মহাকাশ থেকে পৃথিবীর কিছু উচ্চ-রেজোলিউশনের ছবি তুলেছে, যেগুলো ইতোমধ্যে প্রকাশ করেছে নাসা।

নাসার বরাতে বিবিসি জানায়, পৃথিবী ও চাঁদের মাঝামাঝি পৌঁছানোর সময় এই ছবিগুলো তোলা হয়। মিশনের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান চূড়ান্ত ইঞ্জিন বার্ন শেষ করে চাঁদের পথে ঢোকার পর ছবিগুলো তোলেন।

বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টার দিকে নাসার ড্যাশবোর্ডে দেখা যায়, ওরায়ন মহাকাশযানটি তখন পৃথিবী থেকে প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার মাইল (২ লাখ ২৮ হাজার ৫০০ কিলোমিটার) দূরে ছিল। চাঁদ থেকে এর দূরত্ব ছিল প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার মাইল।

নভোচারী ক্রিস্টিনা কোচ বিবিসিকে বলেন, উৎক্ষেপণের প্রায় দুই দিন পাঁচ ঘণ্টা ২৪ মিনিট পর এই অবস্থানে পৌঁছানোর খবর পেয়ে ক্রুরা খুব আনন্দিত হন।

‘হ্যালো, ওয়ার্ল্ড’ নামের প্রথম ছবিতে আটলান্টিক মহাসাগরের বড় অংশ দেখা যায়। চারপাশে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের হালকা আভা ছিল। সেই সময় পৃথিবী সূর্যকে আড়াল করছিল এবং দুই মেরুতে সবুজ অরোরাও দেখা যাচ্ছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ছবিতে পৃথিবীকে উল্টো অবস্থায় দেখা যায়। বাম পাশে পশ্চিম সাহারা ও আইবেরীয় উপদ্বীপ এবং ডান পাশে দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব অংশ দেখা যায়। ছবির নিচের ডান দিকে উজ্জ্বল যে বিন্দুটি দেখা যায়, সেটি শুক্র গ্রহ বলে জানিয়েছে নাসা।

ওরিয়ন মহাকাশযানের জানালা থেকে ফিরে দেখা নীল পৃথিবীর অপূর্ব মুহূর্ত। ছবি: নাসা/রিড ওয়াইজম্যান

শুক্রবার দুপুরে ট্রান্স-লুনার ইনজেকশন বার্ন সফলভাবে শেষ করার পর এই ছবিগুলো তোলা হয়। এই বার্নের মাধ্যমে ওরায়ন মহাকাশযান পৃথিবীর কক্ষপথ ছেড়ে চাঁদের পথে যাত্রা শুরু করে। এতে থাকা চার নভোচারী ২ লাখ মাইলের বেশি পথ পাড়ি দেবেন।

বর্তমানে আর্টেমিস ২ একটি বৃত্তাকার পথে এগোচ্ছে। এই পথে তারা চাঁদের দূরবর্তী পাশ ঘুরে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবে। ১৯৭২ সালের পর এই প্রথম মানুষ পৃথিবীর কক্ষপথের বাইরে যাচ্ছে।

ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে মহাকাশযানটি উৎক্ষেপণ করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ৬ এপ্রিল তারা চাঁদের দূরবর্তী পাশ অতিক্রম করবে এবং ১০ এপ্রিল প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করবে।

দিন-রাতের সীমানা ‘টার্মিনেটর’—পৃথিবী জুড়ে আঁকা এক অনন্য বিভাজনের দৃশ্য। ছবি: নাসা

মিশন স্পেশালিস্ট জেরেমি হ্যানসেন বলেন, ‘আমরা চাঁদের আলোয় পৃথিবীর অন্ধকার দিকের খুব সুন্দর দৃশ্য দেখছি।’

পরে কমান্ডার ওয়াইজম্যান মিশন কন্ট্রোলকে জানান, জানালাগুলো পরিষ্কার করার উপায় জানতে চান তিনি। কারণ মহাকাশ দেখার সময় জানালাগুলো কিছুটা নোংরা হয়ে গিয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, ‘এটা অনেকটা বাড়ি থেকে চাঁদের ছবি তোলার মতো লাগছিল।’

পরে তোলা আরেকটি ছবিতে দেখা যায়, পৃথিবী দুই ভাগে ভাগ হয়ে আছে—একদিকে আলো, অন্যদিকে অন্ধকার। এই সীমারেখাকে ‘টার্মিনেটর’ বলা হয়।

সূর্য ঢেকে গেলে অন্ধকারে পৃথিবীর শহরের আলো জ্বলতে দেখা যায়।। ছবি: নাসা

নাসা আরও একটি ছবি প্রকাশ করেছে, যেখানে পৃথিবী প্রায় অন্ধকারে দেখা যায় এবং মানুষের তৈরি আলো ঝিকমিক করছে।

এ ছাড়া, ২০২৬ সালের এই ছবির সঙ্গে ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো ১৭ দলের তোলা একটি ছবির তুলনাও প্রকাশ করেছে নাসা।

১৯৭২ (ডান) ও ২০২৬ (বাম)—সময়ের ব্যবধানে পৃথিবীর দুই ভিন্ন চেহারা। ছবি: নাসা

নাসা বলেছে, ‘গত ৫৪ বছরে অনেক কিছু বদলেছে, কিন্তু মহাকাশ থেকে পৃথিবীর সৌন্দর্য একই রকম আছে।’