যুদ্ধ চালিয়ে যেতে ইসরায়েলের ৮২ কোটি ডলারের জরুরি সামরিক বাজেট অনুমোদন
ফেব্রুয়ারি মাসে শেষ দিনটিতে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সমন্বিত হামলা শুরু করে। ওই দুই শক্তিশালী রাষ্ট্রের সব হিসাব ভুল প্রমাণ করে তৃতীয় সপ্তাহে পা দিয়েছে এই সংঘাত।
পরিস্থিতির চাহিদা মিটিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে ইসরায়েলের মন্ত্রিসভা জরুরি সামরিক বাজেট অনুমোদন দিয়েছে।
আজ রোববার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
সামরিক উপকরণ কেনার জন্য ৮২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের জরুরি বাজেটের অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েল, যা প্রায় ১০ হাজার ৮৯ কোটি বাংলাদেশি টাকার সমতুল্য (১ ডলার = ১২২ টাকা বিনিময় মূল্য ধরে)।
ইসরায়েলি মুদ্রায় দুই দশমিক ছয় বিলিয়ন শেকেলের এই প্যাকেজটি সাপ্তাহিক ছুটির মাঝে মন্ত্রিসভার অনুমোদন পায়।
টেলিফোন বৈঠকে এই জরুরি বাজেটের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে দেশটির গণমাধ্যম হারেৎজ জানিয়েছে।
প্রতিবেদন মতে, দেশের ‘নিরাপত্তা নিশ্চিত’ করতে এবং ‘জরুরি চাহিদা’ পূরণে এই বাজেট ব্যবহার করা হবে।
তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানায়নি সংবাদমাধ্যমটি।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। এই তহবিল ঠিক কোন কাজে ব্যবহার হবে, সেটাও জানায়নি জেরুসালেম।
ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর মিসাইল বা প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র ফুরিয়ে আসছে—এমন গুজব উড়িয়ে দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার।
সাপ্তাহিক ছুটির মাঝে এ ধরনের একটি সংবাদ প্রকাশ পেয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষেপণাস্ত্র ফুরিয়ে আসার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে ইসরায়েল।
ক্ষেপণাস্ত্র ফুরিয়ে আসছে কী না, এ প্রশ্নের জবাবে গিদিওন সার বলেন, ‘আমার জবাব হলো, “না”।’
তবে হারেৎজ-এর প্রতিবেদন মতে, ইসরায়েলের সব মন্ত্রীর কাছে অর্থ মন্ত্রণালয় একটি নথি পাঠিয়েছে। বিষয়টি চ্যানেল ১২ সহ ইসরায়েলের একাধিক স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।
ওই নথিতে বলা হয়, ‘যুদ্ধের তীব্রতাকে মাথায় রেখে’ জরুরি বাজেট বরাদ্দ দেওয়া অত্যাবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নথিতে আরও বলা হয়, ‘সেনা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য জরুরি ও তাৎক্ষণিক আর্থিক চাহিদা দেখা দিয়েছে। এসবের মধ্যে আছে গোলাবারুদ ও অত্যাধুনিক অস্ত্র কেনা এবং জরুরি মজুত পরিপূরণের প্রয়োজনীয়তা।’
নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য এটি একটি অত্যাবশ্যক ও নজিরবিহীন জরুরি উদ্যোগ।’
রাষ্ট্রীয় বার্ষিক বাজেট থেকে এই তহবিলের অর্থায়ন হবে।
গত ১২ মার্চ ইসরায়েলি সরকার ২২২ বিলিয়ন ডলারের বাজেট অনুমোদন দেয়।
৩১ মার্চের মধ্যে এটি ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার কথা রয়েছে।
ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরুর পর থেকেই তেহরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে ইসরায়েল।
প্রায় প্রতিদিনই ঝাঁকে ঝাঁকে আসা রকেট ঠেকাতে প্রবল পরাক্রমশালী আয়রন ডোম ও অ্যারোসহ অন্যান্য ইসরায়েলি প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ঘাম ছুটে গেছে বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
হারেৎজ-এর হিসেব অনুযায়ী, ১৩ মার্চ অবধি ইসরায়েল লক্ষ্য করে ২৫০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। অর্থাৎ গড়ে প্রায় প্রতিদিন ১৮টি করে ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের আকাশে দেখা গেছে।
এএফপির হিসাব মতে, চলমান সংঘাতের শুরু থেকে ১২ ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়েছে।



