ইরান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১১

স্টার অনলাইন ডেস্ক

ইরান যুদ্ধের ১৪তম দিনে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১১ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া, আহত হয়েছেন প্রায় ১৫০ জন। তবে হতাহতের এ সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

সর্বশেষ গতকাল ইরাকের আকাশসীমায় মার্কিন কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে চার ক্রু নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

সেন্টকম তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, গতকাল দুপুর ২টার দিকে ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়। এসময় উড়োজাহাজটিতে ছয়জন ক্রু ছিলেন। তাদের মধ্যে চারজন নিহিত হয়েছেন। উদ্ধার তৎপরতা এখনও চলছে।

এতে আরও বলা হয়, ঘটনার কারণ তদন্তাধীন রয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে, উড়োজাহাজটি শত্রুপক্ষের হামলা বা নিজ পক্ষের ভুলবশত গুলির (ফ্রেন্ডলি ফায়ার) কারণে বিধ্বস্ত হয়নি।

নিহত সেনাসদস্যদের পরিচয় তাদের স্বজনদের আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার অন্তত ২৪ ঘণ্টা পর প্রকাশ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

এর আগে, গত ৮ মার্চ কুয়েতের শুয়াইবা বন্দরে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার ঘটনায় ৬ মার্কিন সেনা নিহত হন।

তারা হলেন, মেজর জেফ্রি আর ও'ব্রায়ান (৪৫), ক্যাপ্টেন কোডি এ খোর্ক (৩৫), চিফ ওয়ারেন্ট অফিসার-৩ রবার্ট এম মারজান (৫৪), সার্জেন্ট নোয়াহ এল টিটজেন্স (৪২), সার্জেন্ট নিকোল এম আমোর (৩৯) ও সার্জেন্ট ডেক্লান জে কোডি (২০)।

সেসময় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, তারা সবাই মার্কিন সেনাবাহিনীর রিজার্ভ ইউনিটের সদস্য এবং আইওয়া অঙ্গরাজ্যের ১০৩তম সাসটেইনমেন্ট কমান্ডে কর্মরত ছিলেন। তাদের বয়স ২০ থেকে ৪২ বছরের মধ্যে।

এ ছাড়া, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় নিহত হন সার্জেন্ট বেঞ্জামিন এন. পেনিংটন (২৬)।

কেন্টাকির গ্লেনডেলের বাসিন্দা পেনিংটন কলোরাডোর ফোর্ট কারসনে প্রথম স্পেস ব্রিগেডের প্রথম স্পেস ব্যাটালিয়নে নিযুক্ত ছিলেন এবং ১ মার্চের হামলায় আহত হওয়ার পর ৮ মার্চ মারা যান।

এদিকে, সংশ্লিষ্ট দুই সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে অনেকেই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছেন, বিশেষ করে ইরাক ও উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে।

তবে তাদের আঘাতের ধরন কেমন এবং এর মধ্যে বিস্ফোরণজনিত মানসিক আঘাত (ট্রমাটিক ব্রেইন ইনজুরি) আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের সংস্পর্শে এলে এ ধরনের মানসিক আঘাতের ঘটনা সচরাচর ঘটে থাকে।