ইরানে হামলা চালিয়ে নিজ দেশে জনপ্রিয়তা হারালেন ট্রাম্প

স্টার অনলাইন ডেস্ক

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে সমর্থন দিচ্ছেন না বেশিরভাগ মার্কিনি। প্রতি চার জনের তিন জন এই হামলার বিরোধিতা করছেন। 

এমন পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে হামলার জেরে প্রথমবারের মতো মার্কিন সেনা নিহতের সংবাদ দেন।

গতকাল রোববার বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। 

রয়টার্স/ইপসসের এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৪৩ শতাংশ মার্কিনি ইরানে মার্কিন হামলার বিরোধিতা করছেন।

জরিপ অনুসারে, ইরান হামলায় সমর্থন দিচ্ছেন ২৭ শতাংশ মার্কিনি এবং এ বিষয়ে নীরব আছেন ২৯ শতাংশ।

এ ছাড়াও, জরিপে অংশ নেওয়া প্রতি ১০ মার্কিনির ৯ জন বলেছেন যে তারা ইরান হামলা সম্পর্কে তেমন কিছু শুনেননি।

Trump
ইরানে হামলার প্রতিবাদে আঙ্কারায় ইসরায়েলি কনস্যুলেটের সামনে ট্রাম্পের ছবিতে আগুন দিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন তুরস্কের বাসিন্দারা। ছবি: রয়টার্স

 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুগপৎ দ্বিতীয় দফা হামলার দ্বিতীয় দিনে ট্রাম্প ইরানের ৪৮ নেতা নিহতের সংবাদ জানান। গত বছর জুনে এই দুই দেশ যৌথভাবে ইরানে হামলা চালিয়েছিল।

ট্রাম্প আরও জানান যে, মার্কিন সেনারা ইরানের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজগুলো এক এক করে ডুবিয়ে দিচ্ছে। ইতোমধ্যে অন্তত ৯টি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে এবং বাকিগুলোও পর্যায়ক্রমে ধ্বংস করা হবে।

গত শনিবার সংঘাতের প্রথম দিন ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলায় কোনো মার্কিনি নিহত হয়নি বলে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হলেও দ্বিতীয় দিন তথা রোববার বলা হয়—৩ মার্কিন সেনা নিহত ও আরও ৫ সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন।

ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড বলেছে, বোমার টুকরোর আঘাতে বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।

তবে কোথায় এ ঘটনা ঘটেছে বা কতজন আহত হয়েছেন তা বিস্তারিত বলা হয়নি।

রয়টার্সকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ২ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, কুয়েতে এক ঘাঁটিতে মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্প বলেছেন যে মার্কিন সেনাদের মৃত্যুর প্রতিশোধ চরমভাবে নেওয়া হবে।

জাতিসংঘে মার্কিন দূত মাইকেল ওয়াল্টজ বলেন, ‘স্বাধীনতা এমনি এমনি আসে না।’

তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা যে যাই বলুন না কেন ইরানে মার্কিন হামলা যে ট্রাম্পের দেশের জনগণের সমর্থন পাচ্ছে না তা রয়টার্সের জরিপে প্রতিফলিত হচ্ছে।