ইরানে এক দিনে ১২০০ বোমা ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

স্টার অনলাইন ডেস্ক

গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধ থেকে চলমান আগ্রাসনে বড় একটি পার্থক্য হলো, এবার যুদ্ধের প্রথম দিন থেকেই ইরানের আকাশে আধিপত্য স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী। আর এ কাজে তাদেরকে সমর্থন যুগিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

আজ রোববার ইসরায়েলি গণমাধ্যম জেরুসালেম পোস্টের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

যুদ্ধের এক দিনে পার হতে না হতেই দুই দেশের বিমানবাহিনী সম্মিলিতভাবে ইরানের মাটিতে এক হাজার ২০০ বোমা ফেলেছে। যার ফলে, ‘আকাশপথে আধিপত্য’ প্রতিষ্ঠার দাবি করেছে ইসরায়েল। 

যুদ্ধের শুরুতেই আকাশপথ দখলে নেওয়ায় খুব সহজেই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালাতে পারবে যৌথ বাহিনী। এমন মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। 

এমন এক ভবন হলো থারাল্লাহ সদরদপ্তর। গত দুই মাসে ওই ভবনে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মানুষদের আটক রেখে নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 
২০২৫ সালের জুনের সর্বশেষ যুদ্ধে এ ধরনের আধিপত্য বিস্তার করতে হিমশিম খায় ইসরায়েলি বাহিনী। তবে ওই যুদ্ধে ইরানের আকাশ হামলা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এতোটাই ক্ষতির শিকার হয়েছিল যে সে পরিস্থিতি থেকে তারা এখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। 

এবার খুব অনায়াসেই ইরানের আকাশ সীমায় ঢুকে পড়তে পেরেছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান। দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি নিয়েই হামলা শুরু করেছে দুই দেশ। বিশেষত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত কয়েকমাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যে রণতরি ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন অব্যাহত রেখেছিলেন।  

রোববার স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ১০টায় দুই দেশের বিমানবাহিনী তেহরানের সরকারি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে। 

এসব হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা নিহত হয়েছেন। 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার প্রতিবাদে ইরাকে বিক্ষোভ। ছবি: রয়টার্স

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) নিশ্চিত করেছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর ওপর এক হাজার ২০০ বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। 

এর আগে, শনিবার রাতে আইডিএফ জানিয়েছিল ২০০টি যুদ্ধবিমান ৫০০ লক্ষ্যে আঘাত হেনেছে। এটাই ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিমানহামলার ঘটনা। 

প্রথম দুই দফা হামলার একটি ভিডিও প্রকাশ করে আইডিএফ। 

প্রথম দফার হামলায় অসংখ্য রাডার ও বিমানবিধ্বংসী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়। 

দ্বিতীয় দফায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হয়। 

তাবরিজ এলাকায় আইডিএফ এমন একটি অবস্থানে হামলা চালায়, যেখান থেকে গত বছরের যুদ্ধের সময় ইরান ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে অসংখ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। 

আকাশপথে আধিপত্য বিস্তারের আরেকটি লক্ষ্য হলো ইরানের ড্রোন ও অন্যান্য আকাশযান যাতে দেশটির আকাশসীমা পেরিয়ে ইসরায়েলের দিকে না আগাতে পারে, তা নিশ্চিত করা। 

গতবারের অভিজ্ঞতা বলছে, ইরানের ড্রোন ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারের ব্যাপক ক্ষতি করতে সক্ষম। 

আইডিএফ আরও জানায়, তারা এরপর আরও বেশ কয়েক দফা হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার লক্ষ্য ছিল যথারীতি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা ও আকাশ হামলা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। 

ইরানের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত কোম এলাকার একটি স্থাপনায় বিমানহামলা চালায় ইসরায়েল। 

ওই স্থাপনায় হাজারো কেজি বিস্ফোরক রাখা ছিল। এই স্থাপনা ধ্বংসের ফলে ইসরায়েল অসংখ্য সম্ভাব্য হামলার হাত থেকে বেঁচে গেছে বলে বিশ্লেষকরা মত দেন। 

রোববার সকালে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তারা ইরানে অন্তত ৯০০ লক্ষ্যবস্তুর ওপর হামলা চালিয়েছে।