আমার দেশে হস্তক্ষেপ করবেন না: ইরানের উদ্দেশ্যে লেবাননের প্রেসিডেন্ট

স্টার অনলাইন ডেস্ক

লেবাননের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ইরানকে হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন। 

একই সঙ্গে তিনি তেহরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের একমাত্র সমাধান হলো কূটনীতি।

শুক্রবার মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীকে (আইআরজিসি) উদ্দেশ্য করে আউন বলেন, ‘এটি (লেবানন) আপনাদের দেশ নয়, এটি আমাদের দেশ... আমাদের দেশের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা আপনাদের কাজ নয়।’

তিনি বলেন, ‘তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিজেদের আলোচনায় লেবাননকে দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এটি গ্রহণযোগ্য নয়।’

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নিহত হওয়ার প্রতিশোধ নিতে গত ২ মার্চ ইসরায়েলের দিকে রকেট হামলা চালায় হিজবুল্লাহ। 

যার ফলে লেবানন মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। এর জবাবে দেশটিতে ইসরায়েল ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে।

গত বুধবার ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিরা একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হন। এক বিবৃতিতে বলা হয়, এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে হিজবুল্লাহর হামলা সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ার শর্তে। তবে এতে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।

তেহরান দাবি করে আসছে, লেবাননের সংঘাত এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধ পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। বৃহস্পতিবার আইআরজিসির বৈদেশিক শাখার প্রধান জানান, ইসরায়েলকে লেবাননে তাদের সম্মুখ অবস্থান থেকে সরে আসতে হবে।

আউন বলেন, ‘হিজবুল্লাহকে বুঝতে হবে যে আলোচনায় বসা ছাড়া আর কোনো পথ নেই। এই সমস্যার সমাধান এবং যা কিছু অবশিষ্ট আছে তা রক্ষা করার একমাত্র উপায় হলো আলোচনা ও কূটনীতি।’

হিজবুল্লাহ প্রধানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, ‘এরা নাঈম কাসেমের মানুষ নয়, এরা লেবাননের মানুষ।’ যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরদিন গত বৃহস্পতিবার তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন হিজবুল্লাহ প্রধান কাসেম।

প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘লেবাননের অধিকাংশ মানুষ যুদ্ধ দেখতে দেখতে বিরক্ত। তারা শান্তি চায়।’

ইসরায়েল সম্পর্কে আউন বলেন, ‘তারা পুরো দেশ ধ্বংস করে দিতে পারে, কিন্তু কখনোই তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না।’

তিনি যোগ করেন, ‘তারা গাজায়ও চেষ্টা করেছে। কিন্তু হামাস এখনও টিকে আছে।’

১৯৭৫-১৯৯০ সালের গৃহযুদ্ধের পর লেবাননের অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠী অস্ত্র সমর্পণ করলেও হিজবুল্লাহ তা করেনি। তাদের দাবি, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি দখলের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য অস্ত্র রাখা প্রয়োজন।

আউন বলেন, ‘লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যকার বৈরিতার অবসান ঘটানোর একটি বড় সুযোগ আমাদের সামনে রয়েছে।’ তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘হিজবুল্লাহর বিষয়টি দেশের ভেতরেই সমাধান করতে হবে।’

‘এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব... তবে একটি শর্তে—হিজবুল্লাহর হাতে অস্ত্র যোগানের মূল কারণগুলো দূর করতে হবে,’ বলেন তিনি।

যার মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলের পিছু হটা ও দ্বিপক্ষীয় বৈরিতার অবসান।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষকে উদ্দেশ্য করে আউন বলেন, ‘এই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আপনাদের সদিচ্ছা ও অঙ্গীকার দেখাতে হবে... আমরা প্রস্তুত, আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আপনারা কি প্রস্তুত?’