কে হচ্ছেন খামেনির উত্তরসূরি, আলোচনায় যারা
দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরানের ওপর। গত বছর জুনের হামলায় দেশটির শীর্ষ বিজ্ঞানী ও সামরিক নেতারা নিহত হন। এবারের হামলায় প্রাণ হারান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।
১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামী-বিপ্লবের পর আলি খামেনি ছিলেন দ্বিতীয় ব্যক্তি যিনি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। ১৯৮৯ সালে বিল্পবের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লা রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর স্বাভাবিক নিয়ম আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হয়েছিলেন।
কিন্তু, এবারের প্রেক্ষাপট একেবারেই ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় এই নেতা নিহত হওয়ার পর দেশ শাসন ও নেতৃত্বে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। সেই শূন্যতা কাটাতে অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ গঠন করেছেন দেশটির প্রভাবশালী কর্মকর্তারা।
সেই পরিষদের সদস্যরা হলেন—ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, বিচারব্যবস্থার প্রধান গোলাম হোসেইন মোহসেনি ইজেজি ও অভিভাবক পর্ষদের এক সদস্য।
আজ রোববার অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যম এবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের ভবিষ্যৎ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হতে পারেন এমন প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম হলেন দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলি লারিজানি।
ইরানের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ এবং আইআরজিসিরি প্রাক্তন সামরিক কর্মকর্তা আলি লারিজানি ২০২৫ সাল থেকে নিরাপত্তা পরিষদের সচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ২০০৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তিনি ইরানের আইনসভা মজলিসের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
কিন্তু, এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, কে ইচ্ছেন আলি খামেনির উত্তরসূরি?
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পদটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তিনি দেশটির ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন। তিনি রাষ্ট্রের সব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেন। সর্বোচ্চ নেতা সেনাবাহিনী ও বিপ্লবী গার্ডের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
তবে ইরানে সর্বোচ্চ নেতা হতে হলে শিয়া মতাদর্শের আলেম হতে হবে। এর পাশাপাশি, তাকে বিশেষজ্ঞ পরিষদের মনোনয়ন নিতে হবে।
এবিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত বছর জুনে ইরান ও ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি তার ভবিষ্যৎ উত্তরসূরি হিসেবে তিনজনের নাম বলেছিলেন।
প্রতিবেদন অনুসারে, সম্ভাব্য তিনজন হলেন—গোলাম হোসেইন মোহসেনি-ইজেজি, আলি আসগার হিজাজি ও হাসান খোমেনি।
এর মধ্যে গোলাম হোসেইন মোহসেনি ইজেজি বর্তমানে ইরানের প্রধান বিচারপতি। তিনি দেশটির অন্তর্বর্তী শাসন পরিষদের একজন সদস্যও। ২০০৫ থেকে ২০০৯ সালের জুলাই পর্যন্ত তিনি গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান ছিলেন।
আলি আসগার হিজাজি একজন ধর্মীয় নেতা। তিনি নিহত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
হাসান খোমেনি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি। ২০১৫ সালে তিনি রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেছিলেন, ২০১৬ সালের নির্বাচনে বিশেষজ্ঞ পরিষদের প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে তার মনোনয়ন বাতিল করেছিল অভিভাবক পর্ষদ।
শেষ কথা, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু দেশটিতে একটি রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতি ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব কার হাতে উঠবে তা নির্ভর করছে রাজনৈতিক কৌশল, ক্ষমতার ভারসাম্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমর্থনের ওপর।