প্যারারেসকিউ কী, যুদ্ধক্ষেত্রে এই অভিযান কতটা ঝুঁকিপূর্ণ
আকাশপথে উদ্ধার অভিযানের ইতিহাস বেশ পুরোনো। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ভূপাতিত সহযোদ্ধাদের বাঁচাতে ফ্রান্সে পাইলটদের আকস্মিক অবতরণের মাধ্যমে এর শুরু।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্যারারেসকিউ ইউনিটের যাত্রা শুরু হয় ১৯৪৩ সালে। সে সময় আহত সেনাদের সহায়তার জন্য দুজন শল্যচিকিৎসক প্যারাশুট নিয়ে মিয়ানমারে অবতরণ করেছিলেন।
স্মিথসোনিয়ান এয়ার অ্যান্ড স্পেস ম্যাগাজিনের তথ্যমতে, বিশ্বের প্রথম হেলিকপ্টার উদ্ধার অভিযান ঘটে এর ঠিক এক বছর পর। সেবার এক মার্কিন লেফটেন্যান্ট জাপানি সীমানার পেছন থেকে চার সেনাকে উদ্ধার করেছিলেন। এটিই ছিল যুদ্ধক্ষেত্রে হেলিকপ্টারের প্রথম সরাসরি ব্যবহার। আধুনিক সমরাস্ত্র নিয়ে উদ্ধার অভিযান মূলত ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় থেকে শুরু হয়।
সেনাসদস্যদের উদ্ধারে মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রতিটি শাখার নিজস্ব সক্ষমতা থাকলেও মূল দায়িত্ব পালন করে বিমানবাহিনী। এই কাজ মূলত ‘প্যারারেসকিউ জাম্পার’ বা পিজে-রা করে থাকেন, যারা স্পেশাল-অপারেশনস বা বিশেষ অভিযান দলের অংশ।
এই দলের সদস্যদের যুদ্ধবিদ্যার সঙ্গে চিকিৎসার ব্যাপারেও উচ্চতর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সবচেয়ে কঠিন বাছাইপর্ব ও প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে তাদের যেতে হয়। দুই বছরব্যাপী এই প্রশিক্ষণে প্যারাশুট ও ডাইভিং, পানির নিচে যুদ্ধ পরিচালনা, বৈরি পরিবেশে টিকে থাকা, পালানোর কৌশল এবং পূর্ণাঙ্গ বেসামরিক প্যারামেডিক কোর্স অন্তর্ভুক্ত থাকে। মাঠে এই দলে নেতৃত্ব দেন বিশেষজ্ঞ ‘কমব্যাট রেসকিউ অফিসার’।
সাম্প্রতিক দশকগুলোতে মার্কিন ফাইটার বিমানের পাইলটদের ভূপাতিত হওয়ার পর উদ্ধারের ঘটনা বিরল। তবে ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধে এই প্যারারেসকিউ দলগুলো ব্যাপকভাবে মোতায়েন করা হয়েছিল। আহত বা আটকে পড়া মার্কিন সেনাদের উদ্ধারে তারা বহু অভিযান পরিচালনা করেছেন। ২০০৫ সালে আফগানিস্তানে প্যারারেসকিউ দলের ভূমিকার ওপর ভিত্তি করে পরে হলিউডে ‘লোন সারভাইভার’ নামে একটি চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়। এর আগে ১৯৯৯ সালে সার্বিয়ার আকাশে ভূপাতিত একটি এফ-১১৭ স্টেলথ ফাইটারের পাইলটকে এবং ১৯৯৫ সালে বসনিয়ায় ভূপাতিত হওয়ার পর টানা ছয় দিন নিখোঁজ থাকা মার্কিন পাইলট স্কট ও'গ্র্যাডিকেও এই দলের যৌথ অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছিল।

