বাচ্চা হাতির নিরাপত্তায় সড়কে ৩ ঘণ্টা বাবা-মা, আতশবাজি ফাটিয়ে তাড়ানো হয় বনে

নিজস্ব সংবাদদাতা, রাঙ্গামাটি

রাঙ্গামাটির একটি সড়কে কয়েকটি হাতি নেমে এসে প্রায় তিন ঘণ্টা অবস্থান করে। সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আতশবাজি ফাটিয়ে হাতিগুলোকে বনে পাঠানো হয়।

আসামবস্তি-কাপ্তাই সংযোগ সড়কের আগরবাগান এলাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত হাতিগুলো সড়কে অবস্থান নিয়েছিল।

বন বিভাগ জানায়, সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের যাত্রীরা কাপ্তাই বন বিভাগকে খবর দেয়। পরে বন কর্মকর্তাসহ এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি) সদস্যরা ঘটনাস্থলে যায়।

কাপ্তাই রেঞ্জের সাবেক রেঞ্জ কর্মকর্তা ওমর ফারুক স্বাধীন দ্য ডেইলি স্টারকে বলে, 'বৃহস্পতিবারে চিফ কনজারভেটর অব ফরেস্টস (সিসিএফ) স্যারের কাপ্তাইয়ে একটা প্রোগ্রাম ছিল। প্রোগ্রামে আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের ডিএফও যাচ্ছিলেন। তিনিও হাতির এই ঘটনার সময় সড়কে ছিলেন। এছাড়া আমি নিজে ছিলাম, রেঞ্জ কর্মকর্তা ও ইআরটি সদস্যরা সেখানে ছিলেন।'

'হাতির পালে একটি এক বছরের বাচ্চা হাতি, তার মা-বাবা ও আরেকটি হাতি ছিল। হাতিগুলো ঘুরে ঘুরে খাবার খেয়ে সামনে অগ্রসর হচ্ছিল। এসময় রাস্তা দিয়ে গাড়ি চলাচলের শব্দকে থ্রেট মনে করে বাচ্চা হাতিকে সুরক্ষা দিতে পুরুষ হাতিটি সড়কে দাঁড়িয়ে পাহারা দিয়েছিল। হাতির ক্ষেত্রে বাচ্চা হাতি যেদিকে যায় হাতিও সেদিকে যায়। বাচ্চা যতক্ষণ জায়গা থেকে না নড়ে তারা সেখান থেকে নড়তে চায় না। তারা বাচ্চা হাতিদের সবসময় ব্যাকআপ দেয়,' বলেন তিনি।

জানতে চাইলে কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মামুনুর রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ইআরটি সদস্য এবং আমরা সম্মিলিত প্রচেষ্টায় হাতিগুলোকে প্রথম দফায় বনে ফেরালেও পরে তারা রাস্তায় আবার চলে আসে। দীর্ঘসময় ধরে অবস্থান করে।'

'পরে আতশবাজি ফোটানো হয়। একপর্যায়ে হাতিগুলো রাস্তা থেকে চলে যায়। এরপর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়,' যোগ করেন তিনি।