গ্যাস সংকট: নারায়ণগঞ্জে ৩৩ সিএনজি স্টেশনের ৩০টিতে সরবরাহ বন্ধ

সৌরভ হোসেন সিয়াম
সৌরভ হোসেন সিয়াম

পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় সিএনজি (কম্প্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস) সরবরাহ বন্ধ রয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলার ৩০ জ্বালানি ফিলিং স্টেশনে।

পুরো জেলায় সরবরাহ অব্যাহত আছে মাত্র ৩টি সিএনজি স্টেশনে।

এসব পাম্পে দীর্ঘসময় ধরে অপেক্ষায় থাকা চালক ও ফিলিং স্টেশনের কর্মীরা জানান, গত কয়েকদিন ধরেই গ্যাস সংকটে ভুগছেন তারা।

কয়েকটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, যানবাহনগুলোকে ফিলিং স্টেশন ঘুরে ঘুরে দীর্ঘসময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর গ্যাস নিতে হচ্ছে।

স্টেশন-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত কয়েকদিন ধরে বিতরণ লাইনে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম। কোথাও কোথাও কয়েকঘণ্টা পুরোপুরি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে।

নগরীর সস্তাপুর এলাকার মাস সিএনজি ওয়ার্কার্স লিমিটেড থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় নিয়মিত গ্যাস নেন মো. সালাউদ্দিন। গতকাল মঙ্গলবার রাতে গ্যাস না পেয়ে ফেরত গেছেন। পরে আজ বুধবার সকাল ৭টার দিকে এসে দেড়টা পর্যন্ত লাইনেই অপেক্ষা করেছেন তিনি।

সালাউদ্দিন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সকাল থেকে গাড়ি নিয়ে বের হতে পারলাম না। গত কয়েকদিন ধরেই এই অবস্থা। গ্যাস ঠিকমতো পেলে ১০০০-১২০০ টাকা আয় হয়। মালিকের জমা দেওয়ার পর কিছু থাকে। কিন্তু আজ গ্যাস পাইনি এখনো।'

বিকেলে কথা বলার সময়ও তিনি গ্যাস নেওয়ার লাইনেই ছিলেন।

এ ফিলিং স্টেশনের কর্মকর্তা প্রকৌশলী কাজী রাকিবুল ইসলাম বলেন, 'গত ৩-৪ দিন ধরে বিতরণ লাইনে গ্যাসের চাপ একেবারেই কম। চাপ না থাকায় মেশিন চালানো যাচ্ছে না। ফলে গ্রাহকদেরও চাহিদামতো গ্যাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।'

তিনি জানান, গতরাতে অন্তত ৫ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ ছিল। সকালে গ্যাসের চাপ বাড়লেও দুপুর নাগাদ আবার কমে যায়।

তিনি বলেন, 'লাইনে অন্তত ১৫ পিএসআই গ্যাসের চাপ থাকা লাগে। এখন ১ পিএসআইও নেই।'

এ ব্যাপারে সরকারের বা সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে কোনো নোটিশ পাননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

কিছুটা দূরে সাহাবদ্দিন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে কথা হয় প্রাইভেটকার চালক মো. দুলাল হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, অন্তত ৪ ঘণ্টা লাইনে থাকার পর তিনি স্টেশনের ভেতরে ঢুকতে পেরেছেন।

'গ্যাসের লাইনের কারণে রাস্তাঘাটও জ্যাম হয়ে যায়। আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকি, মানুষেরও সমস্যা হয়,' বলেন তিনি।

এই ফিলিং স্টেশনের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজমুল হুদা বলেন, 'গত দুদিন ধরে লাইনে গ্যাসের চাপ কম। ঢাকার দিকে গ্যাস না থাকায় সেখানকার গাড়িগুলো নারায়ণগঞ্জের দিকে আসায় আমাদের স্টেশনে গাড়ির চাপ আরও বেড়েছে।'

যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ সিএনজি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ জোনের সভাপতি সাঈদা আক্তার বলেন, 'নারায়ণগঞ্জে ৩৩টি পাম্পের (ফিলিং স্টেশন) মধ্যে ৩০টিই বন্ধ। চলমান এই গ্যাস সংকট কবে কাটবে, সে বিষয়ে সরকার এখনো আমাদের কোনো তথ্য দেয়নি।'

'সরকারকে আমরা জানিয়েছি, যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে এটি ঠিক করা হয়। এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের সঙ্গেও আমরা কথা বলেছি। তারা আমাদের জানিয়েছেন, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এই সংকট কাটিয়ে উঠতে কাজ করছে,' বলেন তিনি।

গ্যাস বিতরণকারী সংস্থা তিতাসের নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক বিপণন বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মনজুর আজিজ মোহন বলেন, 'আমাদের এলএনজি সরবরাহের প্রধান উৎস এফএসআরইউর (ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড গ্যাসিফিকেশন ইউনিট) দুটি ইউনিটের মধ্যে একটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। সেটি মেরামত শেষে নতুন করে সংযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ কারণে গত কয়েকদিন ধরে গ্যাস সরবরাহে স্বল্পতা তৈরি হয়েছে। আমাদের ধারণা, আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে পারে।'