কামতা-২ গ্যাসকূপ খনন শুরু, প্রতিদিন ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার আশা
গাজীপুরের কালীগঞ্জে অবস্থিত কামতা গ্যাসক্ষেত্রে নতুন মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ ‘কামতা-২’-এর খনন কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)।
সফলভাবে খনন ও পরীক্ষণ সম্পন্ন হলে কূপটি থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘনফুট নতুন গ্যাস যোগ হতে পারে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
আজ বুধবার দুপুরে কামতা-২ কূপের স্পাড-ইন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
জ্বালানি খাতে আমদানি নির্ভর কমিয়ে গ্যাস উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন করে চারটি কুপের গ্যাস উৎপাদনের মাধ্যমে আগামী বছর জুনের মধ্যে ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারব। এটি শুরু হলে গ্যাসের অভাবে বন্ধ থাকা কারখানাগুলো চালু করতে পারব—হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান হবে। জ্বালানি আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রার উপর যে চাপ তৈরি হচ্ছে সেটাও কমে আসবে।’
দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো এবং আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে ‘তিতাস ও কামতা ফিল্ডে ৪টি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খনন’ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায় বিজিএফসিএল।
প্রকল্পটির আওতায় তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে তিনটি এবং কামতা গ্যাসক্ষেত্রে একটি কূপ খনন করা হবে। এছাড়া তিতাসে গ্যাস গ্যাদারিং পাইপলাইন নির্মাণ ও কামতায় প্রসেস প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজও প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে প্রথম বছরে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২৫৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৮৭২ কোটি ২০ লাখ টাকা সরকারি অর্থায়নে ও বিজিএফসিএলের নিজস্ব অর্থায়নে যোগ হবে বাকি ৩৮২ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
চারটি কূপ খননের জন্য চীনের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সিএনপিসি চুয়ানকিং ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের (সিসিডিসি) সঙ্গে গত বছরের ১০ এপ্রিল চুক্তি হয়। বর্তমানে তিতাস-২৮ কূপের খনন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এরপর তিতাস-২৯ কূপের খনন শুরু হবে।
১৯৮২ সালে আবিষ্কারের দুই বছর পর থেকে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উৎপাদন শুরু হয় কামতা গ্যাসক্ষেত্রে। ১৯৯১ সাল পর্যন্ত ক্ষেত্রটি থেকে মোট ২১ দশমিক ১০ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হয়।
বর্তমানে ক্ষেত্রটির অবশিষ্ট উত্তোলনযোগ্য গ্যাস মজুত প্রায় ৪৪ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ঘনফুট বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।