তাপপ্রবাহের সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে নাকাল রাজশাহীবাসী
তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে রাজশাহীর মানুষ দিন কাটাচ্ছেন চরম ভোগান্তিতে। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে কয়েকগুণ বেশি লোডশেডিং হচ্ছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রাজশাহীতে রেকর্ড করা হয় ৩৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে। যার প্রভাব পড়ছে প্রতিদিনকার ঘুম, কাজকর্ম ও জীবিকায়।
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার লালবাগ এলাকার বাসিন্দা মশিউর রহমান বলেন, ‘২৪ ঘণ্টায় কতবার বিদ্যুৎ যায় তার হিসাব নেই। একবার গেলে ১-২ ঘণ্টা লাগে আসতে। গরমের তীব্রতায় রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না। ফলে প্রভাব পড়ে দিনের কাজকর্মেও।’
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক আরমান আলী জানান, লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে তার আয়-রোজগারে।
‘রাতে ৬-৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। রাতে চার্জ দিয়ে দিনে রিকশা চালাই, কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যাটারি ঠিকমতো চার্জ হয় না। সংসার চালানো কঠিন হয়ে গেছে,’ বলেন তিনি।
রাজশাহীর উপশহর এলাকার বাসিন্দা মুকুল হোসেন বলেন, ‘রাত ২টার দিকে বিদ্যুৎ চলে যায়। লোডশেডিং থাকে ঘণ্টাখানেকের বেশি সময়। বাচ্চারা ঘুমাতে পারে না। আমরাও এই গরমে কষ্ট পাচ্ছি। প্রতিদিনই এমন হচ্ছে।’
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার কৃষিকাজও।
নাচোল উপজেলার কৃষক মাসুদ রানা বলেন, ‘এখন বোরো ধানের গুরুত্বপূর্ণ সময়। জমিতে নিয়মিত সেচ না দিলে উৎপাদন কমে যাবে। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় সেচ পাম্প চালানো যাচ্ছে না। কয়েকদিন ধরে বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে চাষবাস চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।’
চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতির কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মত বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।
নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (নেসকো) নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন) মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘চাহিদা সময়ভেদে পরিবর্তিত হয়। গতকাল সোমবার রাজশাহী মেট্রো এলাকায় চাহিদা ছিল ৪৬৩.৯ মেগাওয়াট, বরাদ্দ ছিল ৪৫০.৯ মেগাওয়াট।’
‘আজ বিকাল ৩টা পর্যন্ত মেট্রো জোনে ১৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। নেসকো রাজশাহী জোনে দৈনিক চাহিদা ১ হাজার ৮৮২.১ মেগাওয়াট। বিপরীতে বরাদ্দ রয়েছে ১ হাজার ৮৫০.৬ মেগাওয়াট,’ তিনি বলেন।
এপ্রিলের শুরু থেকে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়েছে বলে জানান রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার রমেন্দ্র চন্দ্র রায়।
দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘চলতি মাসের শুরু থেকে গরম বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। বর্তমানে জেলার চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। তাই স্থান ও চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে লোডশেডিং করা হচ্ছে।’
গ্রামাঞ্চলে সেচের কারণে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার হাওলাদার মো. ফজলুর রহমান।
‘বোরো চাষের জন্য গ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু বর্তমানে চাহিদার তুলনায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ সরবরাহ কম পাওয়া যাচ্ছে। তাই চাহিদা অনুসারে বিভিন্ন জায়গায় লোডশেডিং করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে লোডশেডিং বাড়বে কি না, তা নির্ভর করবে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্যের ওপর,’ বলেন তিনি।