পাবলিক এক্সামিনেশনস বিল-২০২৬

ইচ্ছাকৃতভাবে বেশি বা কম নম্বর দিলে কারাদণ্ড

পাবলিক পরীক্ষায় অনিয়ম ও ডিজিটাল কারসাজি ঠেকাতে বিল পাস।
স্টার অনলাইন রিপোর্ট

পাবলিক পরীক্ষায় উত্তরপত্রের অন্যায্য মূল্যায়নে পেতে হবে শাস্তি। মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে অতিরিক্ত বা কম নম্বর দিলে পরীক্ষকদের সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে গতকাল ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়।

প্রস্তাবিত আইনের ১০(ক) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি কোনো পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে অতিরিক্ত বা কম নম্বর প্রদান করলে, তিনি সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

তবে তৃতীয় কোনো পরীক্ষকের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত না হলে এই বিধানের আওতায় কাউকে দণ্ডিত করা যাবে না।

আইনে পাবলিক পরীক্ষা বলতে বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষা বোর্ড পরিচালিত, নিয়ন্ত্রিত বা আয়োজিত যেকোনো পরীক্ষাকে বোঝানো হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন। বিলটি জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব নাকচ হওয়ার পর কণ্ঠভোটে পাস হয়।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নকল, প্রশ্নপত্র ফাঁস, জাল সনদ ও অন্যান্য অনিয়মসহ পাবলিক পরীক্ষায় অসদুপায় রোধ করাই এই সংশোধনের উদ্দেশ্য।

তিনি বলেন, প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার ও ডিজিটাল মাধ্যমে পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধ বৃদ্ধির কারণে প্রায় ৪৫ বছর আগে প্রণীত পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) অ্যাক্ট, ১৯৮০ সময়োপযোগিতা হারিয়েছে।

বিলে ‘ডিজিটাল কারসাজির’ একটি আইনগত সংজ্ঞা যুক্ত করা হয়েছে। এর আওতায় পাবলিক পরীক্ষার ডেটাবেজে অননুমোদিত প্রবেশ, পরীক্ষা-সংক্রান্ত তথ্য হ্যাকিং, পরিবর্তন, সংশোধন, মুছে ফেলা বা গোপন করাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল কারসাজি ও অনলাইনে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অপরাধের সাজা হবে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধ সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য প্রদানকারীর (হুইসেল ব্লোয়ার) সুরক্ষার বিধানও বিলে রাখা হয়েছে। তাদের পরিচয় গোপন রাখা হবে এবং আইনি জটিলতা ও প্রতিশোধমূলক হয়রানি থেকে তাদের সুরক্ষা দেওয়া হবে।

বিলে ‘পরীক্ষা-সংক্রান্ত সংঘবদ্ধ অপরাধ’ নামে নতুন একটি বিষয় যুক্ত করা হয়েছে। এর আওতায় কোনো পরীক্ষার্থী বা তার পক্ষে কাজ করা ব্যক্তির সঙ্গে পাবলিক পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের উদ্দেশ্যে লিখিত বা মৌখিক চুক্তি করা, প্রস্তাব দেওয়া বা তা কার্যকর করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।

এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি ৫ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড।

সংশোধিত আইনে নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক যন্ত্র নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ বা প্রবেশের চেষ্টা করা এবং পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত বৈধ নির্দেশ অমান্য করলেও শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

এসব অপরাধের শাস্তি সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড।