টানা বৃষ্টিতে বান্দরবানে বন্যার শঙ্কা, বিপৎসীমার উপরে সাঙ্গু-মাতামুহুরীর পানি
মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা চার দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বসতঘর, সড়ক ও কৃষিজমিতে পানি ঢুকে পড়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন ১৯০টি পরিবারের প্রায় ৭০০ মানুষ। পাহাড়ধসের আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক করছে প্রশাসন।
বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমা ১৪ দশমিক ৮০ মিটার অতিক্রম করে ১৫ দশমিক ৭৬ মিটারে প্রবাহিত হচ্ছিল। একই সময়ে মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমা ১১ দশমিক ৮০ মিটার ছাড়িয়ে ১১ দশমিক ৯৩ মিটারে পৌঁছায়।
সকালে জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মারমা বাজার, প্রধান বাজার, কাশেমপাড়া, আর্মিপাড়া, ইসলামনগর, ফালাকাটা, বালাঘাটা ও ছাইঙ্গ্যাসহ নদীতীরবর্তী ও নিচু এলাকাগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। পৌর এলাকার আর্মিপাড়া, মেম্বারপাড়া, ইসলামপুর, শেরেবাংলা, ব্রিগেড এলাকা, আমবাগান, ক্যাচিংঘাটা ও হাফেজঘোনাতেও পানি ঢুকে পড়েছে।
অনেক পরিবারের ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে। বন্যার পানিতে জেলা শহরের সঙ্গে থানচি, রুমা ও রোয়াংছড়ি উপজেলার সংযোগ সড়কের বিভিন্ন অংশ ডুবে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। এসব এলাকায় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে নৌকায় করে চলাচল করতে দেখা গেছে।
টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের ঝুঁকিও বেড়েছে। পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিংসহ বিভিন্নভাবে সতর্ক করছে প্রশাসন।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলার সাত উপজেলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে বান্দরবান সদর উপজেলায় রয়েছে ৪৫টি। মঙ্গলবার বেলা ১১টা পর্যন্ত এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ১৯০টি পরিবারের প্রায় ৭০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
বান্দরবান সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মিল্টন দস্তিদার বলেন, সদর উপজেলার ৪৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে বেলা ১১টা পর্যন্ত প্রায় ১৯০টি পরিবারের ৭০০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রিতদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব বলেন, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে সাঙ্গু নদীর পানি দ্রুত বেড়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সনাতন কুমার মণ্ডল জানান, সোমবার সকাল ৯টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত বান্দরবানে ৩০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনও বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।
জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস বলেন, সম্ভাব্য বন্যা ও পাহাড়ধস মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস, উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নদীতীরবর্তী ও পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।