ওয়াশিংটন পোস্টের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের ৩.৮ বিলিয়ন ডলারের মানহানির মামলা খারিজ

স্টার অনলাইন ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জন ট্রাম্পের সঙ্গে গণমাধ্যমের বৈরি সম্পর্কের বিষয়টি নতুন নয়। বিভিন্ন সময়ে নিউইয়র্ক টাইমস, সিএনএন, সিবিএস ও এবিসির মতো সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আইনি লড়াইয়ে জড়িয়েছেন ট্রাম্প।

তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তার ‘অভিযোগ’ হালে পানি পায়নি। এই তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন ওয়াশিংটন পোস্টের বিরুদ্ধে ঠুকে দেওয়া একটি মামলা।

আজ বুধবার এই তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপ নামের প্রতিষ্ঠান ২০২৩ সালে ওয়াশিংটন পোস্টের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করে।

ওই গণমাধ্যমে প্রকাশিত ‘ট্রাস্ট লিংকড টু অ্যা পর্ন-ফ্রেন্ডলি ব্যাংক কুড গেইন আ স্টেইক ইন ট্রাম্পস ট্রুথ সোশাল’ নামের একটি প্রতিবেদন নিয়ে আপত্তি তোলেন ট্রাম্প।

সম্প্রতি ফ্লোরিডার যুক্তরাষ্ট্রের জেলা বিচারক টমাস বারবার এই মামলা খারিজ করে দিয়েছেন। তিনি মত দেন, ‘ওয়াশিংটন পোস্ট ট্রাম্পের মানহানি হয় এমন বক্তব্য প্রকাশ করেছে—এমন দাবির বিপরীতে গ্রহণযোগ্য ও স্পষ্ট কোনো প্রমাণ জুরিদের সামনে উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে ট্রাম্প মিডিয়া।’

মামলাটির ‘সামারি জাজমেন্ট’ পর্যায়ে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান যুক্তরাষ্ট্রের জেলা বিচারক টমাস বারবার।

এই পর্যায়ে বিচারক সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে পূর্ণাঙ্গ বিচার শুরুর আগেই সিদ্ধান্ত দিতে পারেন।

দ্য পোস্টের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, ট্রাম্প মিডিয়া ‘প্রকৃত অসৎ উদ্দেশ্য’ প্রমাণ করতে পারেনি। কোনো সুপরিচিত ব্যক্তিকে মানহানির মামলায় জিততে হলে এটি প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।

এ ক্ষেত্রে বাদীকে প্রমাণ করতে হয়, বিবাদী জানত যে প্রকাশিত দাবিটি মিথ্যা অথবা সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের কোনো চেষ্টা করেনি।

উল্লেখিত প্রতিবেদনটি নিয়ে কাজ করেন দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক ড্রু হারওয়েল।

আদালতে জমা দেওয়া নথিতে দ্য পোস্টের আইনজীবীরা উল্লেখ করেন, হারওয়েল বিষয়টি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান পরিচালনা করেন এবং এটা ‘প্রকাশের সময় এর নির্ভুলতা নিয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন’।

গত সপ্তাহে প্রকাশিত একটি সংক্ষিপ্ত ডকেট এন্ট্রিতে বিচারক বারবার দ্য পোস্টের পক্ষে রায় দেন। পরে তিনি পূর্ণাঙ্গ মতামত দেবেন বলেও জানান।

গতকাল মঙ্গলবার দ্য পোস্ট এই আইনি লড়াইয়ে বিজয়ের খবরটি প্রকাশ করে।

পত্রিকার একজন মুখপাত্র সিএনএনকে বলেন, ‘আদালতের সিদ্ধান্তে আমরা সন্তুষ্ট। লিখিত আদেশ প্রকাশের পর সেটি পর্যালোচনার অপেক্ষায় আছি।’

এ বিষয়ে ট্রাম্প মিডিয়ার মুখপাত্রের সঙ্গে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করে সাড়া পায়নি সিএনএন।

তবে ওয়াশিংটন পোস্টকে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ‘আমরা বিশ্বাস করি জুরিদের এ বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। গত সপ্তাহের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কি না, সেটা আমরা যাচাইবাছাই করে দেখব। পাশাপাশি, আমরা সকল গণমাধ্যমকে জবাবদিহির আওতায় আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখব।’

ট্রাম্পের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ট্রাম্প মিডিয়া নিজেদেরকে প্রথাগত প্রযুক্তি ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের বিকল্প ও প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উপস্থাপন করে। তবে প্রতিষ্ঠানটির মূল পরিচয় হলো এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালের কার্যক্রম পরিচালনা করে।

উল্লেখ্য, ব্যবহারের শর্তভঙ্গের অভিযোগে তৎকালীন টুইটার (বর্তমানে এক্স) থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অ্যাকাউন্ট ব্যান করে দেওয়ার পর তিনি ট্রুথ সোশাল চালু করেন। পরবর্তীতে ধনকুবের ইলন মাস্ক টুইটার কিনে নিয়ে এর নামকরণ করেন ‘এক্স’ এবং ট্রাম্পের অ্যাকাউন্টের নিষেধাজ্ঞা তুলে দেন।

তবে এখনো এক্সের চেয়ে ট্রুথ সোশালেই বেশি সরব প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এক রাতের ব্যবধানে ১৬০টি পোস্ট করারও নজির রেখেছেন তিনি। ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা থেকে শুরু করে মধ্যরাত পর্যন্ত এই পোস্টগুলো করেন তিনি।

ট্রাম্প মিডিয়া কার্যক্রম শুরুর পর থেকেই লোকসানে আছে।

এ বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে প্রতিষ্ঠানটির রাজস্বের পরিমাণ ১০ লাখ ডলারেরও কম ছিল।

ওয়াশিংটন পোস্টের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় ট্রাম্প মিডিয়া দাবি করে, সংবাদমাধ্যমটি ট্রাম্প ও ট্রাম্পের প্রতিষ্ঠানের ‘ক্ষতি’ করার চেষ্টা করছে এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে তারা তিন দশমিক আট বিলিয়ন ডলার দাবি করে।

ট্রাম্প ও তার সহযোগী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বেশ কয়েক বছর বড় বড় মামলা ঠুকে পত্রিকার খবরে এসেছে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব মামলা খারিজ হয়ে গেছে।

এপ্রিলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা খারিজ হয়ে যায়।

এছাড়া ট্রাম্প বিবিসি, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও দে মোয়েন রেজিস্টারের বিরুদ্ধেও মামলা ঠুকেছেন।