ইউরোপ জঙ্গিবাদের ‘আঁতুড়ঘর’: ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসন একটি নতুন জঙ্গিবাদবিরোধী কৌশল বাস্তবায়ন করতে চলেছে। ওই কৌশলে ইউরোপকে জঙ্গিবাদের ‘আঁতুড়ঘর’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
গতকাল বুধবার প্রকাশিত হয় নতুন ‘কৌশলের’ বিস্তারিত। ইউরোপ থেকে গণহারে অবৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আগমন জঙ্গিবাদের বিস্তারে ইন্ধন যোগাচ্ছে—এমনটাই বলতে চেয়েছেন ট্রাম্প।
আজ বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
কৌশলে ‘হিংস্র ও কট্টর বামপন্থিদের’ নির্মূল করার কথা বলা হয়েছে। তথাকথিত ‘ট্রান্সজেন্ডার-সমর্থক উগ্রবাদীরাও’ একই কাতারে পড়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশল ট্রাম্পের প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হামলার শামিল।
উত্তর, দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার মাদক চক্র নির্মূলের উদ্যোগকে এই কৌশল নথিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নথিতে সবচেয়ে কঠিন ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে ইউরোপের বিরুদ্ধে। মজার বিষয় হলো, ইউরোপীয় দেশগুলোর বেশিরভাগই ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ মিত্র। অন্তত, কাগজেকলমে।
তা সত্ত্বেও, আবারও ট্রাম্পের রক্ষণশীল প্রশাসন ইউরোপের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে।
কৌশল নথিতে বলা হয়েছে, ‘এটা খুবই স্পষ্ট যে সকল সুসংহত বৈরি সংগঠনগুলো (ইউরোপের) উন্মুক্ত সীমান্ত এবং সংশ্লিষ্ট “এক বিশ্ব এক দেশ” আদর্শের ফায়দা নেয়। যতদিন ধরে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সম্প্রদায়ের বিস্তার ঘটবে এবং ইউরোপের বিদ্যমান নীতিগুলো অপরিবর্তিত থাকবে, ততদিন পর্যন্ত জঙ্গিবাদ টিকে থাকবে।’
‘পশ্চিমা সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের জন্মস্থল হিসেবে ইউরোপকেই অবশ্যই জেগে উঠতে হবে এবং এই স্বেচ্ছাপ্রণোদিত অবক্ষয় ঠেকাতে হবে’, নথিতে বলা হয়।
নতুন এই কৌশল নথির নেপথ্যে আছেন সেবাস্টিয়ান গোরকা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জঙ্গিবাদবিরোধী সমন্বয়ক। তার বিরুদ্ধে কট্টর ডানপন্থি গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আছে।
কয়েক মাস আগে ট্রাম্প নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল প্রকাশ করেন। সেখানেও ইউরোপের কড়া সমালোচনা করেন তিনি। ওই নথিতে দাবি করা হয়, অবাধ অভিবাসনের কারণে ইউরোপীয় সভ্যতা বিলীন হতে চলেছে।
অতি সম্প্রতি ট্রাম্প ন্যাটো জোটের মিত্রদের বিরুদ্ধেও বিষোদগার করেন। তার অভিযোগ, ইউরোপের মিত্ররা ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো সহায়তা করেনি।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই রিপাবলিকান নেতার প্রশাসন বামপন্থি গোষ্ঠীদের লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করে বিভিন্ন নীতি প্রণয়ন করে যাচ্ছে।
ট্রাম্পের ভাষায়, বামপন্থিদের মধ্যে ‘সহিংস বামপন্থি উগ্রবাদী, অরাজকতা সৃষ্টিকারী ও ফ্যাসিজমবিরোধী মানুষ’ অন্তর্ভুক্ত।
যারা আমেরিকার বিরোধিতা করে, কট্টরভাবে ট্রান্সজেন্ডারদের সমর্থন করে এবং অরাজকতা সৃষ্টির আদর্শকে বুকে ধারণ করে, তাদেরকে ওই কৌশলে ‘সহিংস ও বিধর্মী রাজনৈতিক গোষ্ঠী’ আখ্যা দিয়ে দ্রুত চিহ্নিত ও নির্মূলের বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
ট্রাম্পের মিত্র ও রক্ষণশীল ইনফ্লুয়েন্সার চার্লি কার্ক-এর হত্যাকারীকে নথিতে আলাদা করে ‘ট্রান্সজেন্ডার সমর্থক উগ্রবাদী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
ক্ষমতায় আসার পর থেকেই নারী ও পুরুষ ছাড়া অন্য কোনো লিঙ্গকে স্বীকৃতি না দেওয়ার বিষয়টির ওপর জোর দিয়েছেন ট্রাম্প। বিশেষত, ট্রান্সজেন্ডার মতবাদের প্রতি সুনির্দিষ্ট আকারে তার আপত্তির বিষয়টি স্পষ্ট করেন ট্রাম্প।
অভিষেকের অল্প সময় পর তিনি একটি নির্বাহী আদেশে সই দিয়ে দাবি করেন, নারী ও পুরুষ ছাড়া আর কোনো লিঙ্গের অস্তিত্ব নেই।


