এসএসসি পরীক্ষায় শিক্ষার্থী নকল করলে প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী
এসএসসি পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী নকল করলে প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
আজ বুধবার সকালে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একজন শিক্ষার্থী ছয় বছর বয়সে স্কুলে ভর্তি হয়। ১৬ বছর বয়সে তাদের এসএসসি কমপ্লিট করতে হবে। ১২ বছরে হাইস্কুল গ্রাজুয়েশন, অর্থাৎ ইন্টারমিডিয়েট লেভেল ১৮ বছরে শেষ করতে হবে। বিগত দিনে আমরা দেখেছি, এসএসসি পরীক্ষা নিতে বোর্ড এক বছর সময় লাগিয়ে দেয়। এইচএসসি এক্সাম নিতে এবং রেজাল্ট দিতে সেখানে আবার এক বছর সময় লাগিয়ে দেয়। অর্থাৎ হায়ার সেকেন্ডারি করতে একটি শিক্ষার্থীর ২০ বছর সময় লাগে। দুটি বছর তাদের জীবন থেকে চলে যাবে।
ভিন্নভাবে চিন্তা করলে আনুমানিক ২০ লাখ শিক্ষার্থী প্রত্যেকে এইচএসসি-এসএসসি মিলিয়ে দুই বছর এবং জাতি ৪০ লাখ বছর হারাচ্ছে। এটা অবশ্যই আমাদের উপলব্ধি করতে হবে, বলেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এই সময়টাকে সমন্বয় করা, আমরা সেটা করার চেষ্টা করছি। সেই কারণে ২০২৭ সালে এসএসসি পরীক্ষা আমরা জানুয়ারি মাসে নেব। যদিও সেটাকে আমরা একটু পেছাতে পারতাম, আমরা অভিভাবকদের সাথে মিটিং করেছি। সকল অংশীজনরা বলেছে, রোজা-ঈদের আগে হয়ে যাওয়াই ভালো। সে জন্য আমরা সেই ব্যবস্থাটি সবার মতামত নিয়ে করছি।’
প্রত্যেক স্কুলে শিক্ষার্থীদের ইনহাউস কোচিং করতেই হবে জানিয়ে মিলন বলেন, ‘এই ব্যাপারে আমি শিক্ষকদের অনুরোধ করব, লোকাল গভারনিং বডির সাথে আলাপ করে শিক্ষকদের কিছু সম্মানী দেবেন। এটা (ইনহাউস কোচিং) করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি রেজাল্টের ধারাবাহিকতা ড্রপ করেছে, অর্থাৎ ২০২১-২৩ রেজাল্ট। কোথাও কোথাও ৯৭ শতাংশ পাস করে ফেলেছে। হঠাৎ ৬০ শতাংশের নিচে চলে এসেছে।’
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘নকল এখন নেই, এটা আমরা বিশ্বাস করি। কিন্তু নকলের রূপ চেঞ্জ হয়েছে। করোনার মতো ভ্যারিয়েন্ট চেঞ্জ হয়েছে। সে জন্য আমরা ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষার আইন পরিবর্তন করেছি। কেবিনেট পাস করেছে, এবার সংসদে সেটা পাস হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানে নকল পাওয়া গেল। একজন এসএসসি পরীক্ষার্থী, তার বয়স ১৬ বছর। একজন অপ্রাপ্ত বয়স্ককে (জুভেনাল) আমরা শাস্তি দিতে পারি না। আমরা তাকে প্রভিশনে পাঠাতে পারি, কিন্তু নকলটা যে প্রতিষ্ঠানে পাওয়া গেল, প্রতিষ্ঠান প্রধান রেসপন্সিবল। তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।’