ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় এবার রেজিস্ট্রার ভবনে তালা দিলেন জাবি শিক্ষার্থীরা
প্রক্টর অফিসের পর এবার রেজিস্ট্রার ভবনেও তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
আজ রোববার সকাল ১০টার দিকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঘটনার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনো অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি, যা প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও চরম অবহেলার প্রমাণ।
নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী অদ্রিতা রায় বলেন, ১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় পার হয়ে গেছে, কিন্তু আসামিকে গ্রেপ্তারের কোনো খবর নেই। প্রশাসন তাদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করছে কি না, এটাই এখন প্রশ্ন।
তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবির মধ্যে প্রথম ও প্রধান দাবি হলো—অভিযুক্তকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা। প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়াতেই এই তালাবন্ধ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। তবে জরুরি প্রয়োজনে ভবনের ভেতরে যাতায়াতের সুযোগ রাখা হবে বলেও জানান তিনি।
জাবির রেজিস্ট্রার এ বি এম আজিজুর রহমান দুপুর দেড়টার দিকে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সকালে রেজিস্ট্রার ভবনে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন। এ সময় ভবনের ভেতরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান করছিলেন।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় প্রক্টর ও প্রক্টোরিয়াল বডির পদত্যাগও দাবি করেন শিক্ষার্থীরা।
এর আগে শনিবার একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তার কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে পদত্যাগ দাবি করা হয়।
এদিকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার তদন্তে শনিবার সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক মো. সোহেল রানাকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তদন্ত কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন সড়ক থেকে এক ছাত্রীকে জোর করে পাশের জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বুধবার আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।