অবসর ভেঙে ফেরা নয়্যারের হাতেই জার্মানির ভাগ্য দেখছেন কোচ
পরপর দুই বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়। ফিফা র্যাংকিংয়েও নেমে গেছে দশম স্থানে। ২০১৪ বিশ্বকাপ জেতার পর জার্মানির সময়টা যেন ঠিক জার্মানিসুলভ যায়নি। এবারও যেমন ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, স্পেনকে নিয়ে যেমন মাতামাতি, জার্মানিকে নিয়ে ঠিক তেমনটা নেই। জার্মান কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যানও মেনে নিয়েছেন ব্যাপারটা। স্বীকার করে নিয়েছেন, জার্মানিকে এবার ফেভারিটের তকমা না দেয়াটা স্বাভাবিক।
গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নবাগত কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের আগের দিন আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন নাগেলসম্যান। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ফেভারিটের তালিকায় না থাকলেও টুর্নামেন্ট শেষে এই হিসাব পাল্টে যেতে পারে, এমন প্রত্যয় শোনা গেলো জার্মান কোচের মুখে, ‘গত দুটো বিশ্বকাপের দিকে যদি তাকাই, আমরা একদমই ভালো পারফর্ম করতে পারিনি। সে হিসেবে আমাদের ফেভারিট না ভাবাই স্বাভাবিক। কিন্তু এখন আমাদের দায়িত্ব একটি নিখুঁত বিশ্বকাপ কাটানোর, যেন এরপরে সবাই আমাদের ফেভারিট ভাবতে বাধ্য হয়’।
আর এই ‘নিখুঁত’ বিশ্বকাপ কাটানোর জন্য নাগেলসম্যান সবচেয়ে বেশি ভরসা রাখছেন দলের সবচেয়ে পুরোনো ও অভিজ্ঞ কাণ্ডারি ম্যানুয়েল নয়্যারের উপর। এই বিশ্বকাপে জার্মানি কতদূর যাবে সেটা নয়্যারের পারফরম্যান্সের উপরই নির্ভর করছে বলে মনে করছেন নাগেলসম্যান, ‘তার (নয়্যার) উপর আমাদের পূর্ণ ভরসা রয়েছে। ভালো বিশ্বকাপ কাটাতে হলে আমাদের সেরা ফর্মের নয়্যারকে দরকার। হ্যাঁ এটা ঠিক বিশ্বকাপের আগে সে নিজের সেরা অবস্থানে ছিল না। কিন্তু এখন সে পুরোপুরি প্রস্তুত’।
একই সাথে নাগেলসম্যান নিশ্চিত করেছেন, কুরাসাওয়ের বিপক্ষে গোলপোস্টে নয়্যারই দাঁড়াচ্ছেন। এই নিয়ে পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলতে যাচ্ছেন এই তারকা গোলরক্ষক। এর আগে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেও বুন্দেসলিগা শিরোপা জেতার পর কোচের অনুরোধে অবসর ভেঙে আবারও জাতীয় দলে ফিরেছেন তিনি।
প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে এলেও কুরাসাওকে হালকাভাবে নিচ্ছে না চারবারের চ্যাম্পিয়নরা। বিশেষ করে যেখানে কুরাসাওয়ের ডাগআউটে রয়েছেন ৭৮ বছর বয়সী ডাচ কোচ ডিক অ্যাডভোকাট। এর আগে ১৯৯৪ সালে নেদারল্যান্ডস ও ২০০৬ সালে দক্ষিণ কোরিয়াকে নিয়ে বিশ্বকাপে আসার অভিজ্ঞতা রয়েছে বর্ষীয়ান এই কোচের।