কাতারের ম্যাচে ভিএআর বিতর্ক, ব্যাখ্যা দিলো ফিফা
বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড শেষ হতে না হতেই দেখা দিল বড় এক ভিএআর বিতর্ক। কাতার ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচে পেনাল্টির আগে সম্ভাব্য অফসাইডের ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ফুটবল অঙ্গনে। বিতর্ক এতটাই ছড়ায় যে ম্যাচ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিতে বাধ্য হয় ফিফা।
সান ফ্রান্সিসকোতে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘বি’র ম্যাচে ইতিহাস গড়ে ১-১ গোলে ড্র করে কাতার। বিশ্বকাপের মঞ্চে এটি ছিল তাদের প্রথম পয়েন্ট। তবে ম্যাচের ফলের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল সুইজারল্যান্ডের পাওয়া পেনাল্টি।
প্রথমার্ধের ১৩তম মিনিটে একটি ক্রসের পর বক্সের ভেতরে বলের জন্য লড়াইয়ের সময় কাতারের গোলরক্ষক মাহমুদ আবুনাদা সুইস মিডফিল্ডার রেমো ফ্রয়লারকে ফাউল করেন। রেফারি সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পট-কিক থেকে গোল করে সুইজারল্যান্ডকে এগিয়ে দেন ব্রিল এম্বোলো।
কিন্তু ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন সম্প্রচারে প্রশ্ন ওঠে, পেনাল্টির আগে আক্রমণ গড়ার সময় সুইজারল্যান্ডের দুই খেলোয়াড় অফসাইড অবস্থানে ছিলেন কি না। টেলিভিশন ক্যামেরার বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে বিষয়টি অনেকের কাছেই সন্দেহজনক মনে হয়।
বিতর্ক আরও বাড়ে যখন ভিএআর পর্যালোচনার সময় সাধারণত যে অফসাইড অ্যানিমেশন গ্রাফিক দেখানো হয়, সেটি সম্প্রচারে দেখা যায়নি। ফলে দর্শকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং অনেকে মনে করতে শুরু করেন, হয়তো কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ম্যাচ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর বিবৃতি দেয় ফিফা। সেখানে সংস্থাটি স্বীকার করে যে, পেনাল্টির আগে অফসাইড যাচাইয়ের অ্যানিমেশন গ্রাফিক প্রদর্শনের সময় একটি সংক্ষিপ্ত প্রযুক্তিগত সমস্যা হয়েছিল।
ফিফা জানায়, 'একটি স্বল্পস্থায়ী প্রযুক্তিগত বিঘ্নের কারণে পেনাল্টির সিদ্ধান্তের আগে অফসাইড অ্যানিমেশন গ্রাফিক তৈরি করা সম্ভব হয়নি। তবে সমস্যাটি দ্রুত সমাধান করা হয়।'
তবে একই সঙ্গে সংস্থাটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, প্রযুক্তিগত সমস্যাটি শুধুমাত্র সম্প্রচার গ্রাফিকের ক্ষেত্রে হয়েছিল, ভিএআরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব পড়েনি।
ফিফার ভাষ্য অনুযায়ী, 'ভিএআরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে কোনো বাধা সৃষ্টি হয়নি। মাঠের সিদ্ধান্ত যাচাইয়ের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হয়েছে। ভিএআর কর্মকর্তারা যে লাইন ব্যবহার করে অফসাইড পরীক্ষা করেছেন, তাতে পেনাল্টির আগে সংঘটিত দুটি পরিস্থিতির কোনোটিতেই আক্রমণকারী খেলোয়াড় অফসাইড অবস্থানে ছিলেন না।'
বিবৃতির সঙ্গে অফসাইড লাইনের ছবিও প্রকাশ করে ফিফা, যাতে বোঝানোর চেষ্টা করা হয় যে সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল।
তবে এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপ ‘বি’র চিত্রও বেশ জমে উঠেছে। প্রথম ম্যাচ শেষে সুইজারল্যান্ড, কাতার, কানাডা এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, চার দলই এক পয়েন্ট করে নিয়ে সমান অবস্থানে রয়েছে। আগামী ১৮ জুন নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে সুইজারল্যান্ড মুখোমুখি হবে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার। অন্যদিকে কাতার খেলবে স্বাগতিক কানাডার বিপক্ষে।