প্রথমবারে মতো স্পিন বোলিং মেশিন চালু করল বিসিবি

ক্রীড়া প্রতিবেদক

অনুশীলনে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি আরও ঝালিয়ে নিতে দেশে প্রথমবারের মতো স্পিন বোলিং মেশিন চালু করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজের আগে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ জাতীয় দলের স্কিল ক্যাম্পে সোমবার প্রথমবারের মতো 'মার্লিন বাই বোলা' নামের এই মেশিনটি ব্যবহার করা হয়েছে। এর আগে বাংলাদেশে বোলিং মেশিনগুলো মূলত পেস ও শর্ট-পিচ ডেলিভারির অনুশীলনেই ব্যবহৃত হতো।

দীর্ঘদিনের অভাব পূরণ করল এই স্পিন বোলিং মেশিন। মানসম্মত স্পিন বোলিংয়ের মোকাবিলায় ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো দেশগুলোতে অনুশীলনে এমন যন্ত্র ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স ইনচার্জ শাহরিয়ার নাফীস মিরপুরে সাংবাদিকদের বলেন, 'এই মেশিনটি চালু করা নিয়ে অনেক দিন ধরেই আলোচনা চলছিল এবং সম্প্রতি এর অর্ডার দেওয়া হয়েছিল।'

তিনি যোগ করেন, 'এটি দিয়ে তিন ধরনের ডেলিভারি— অফ স্পিন, লেগ স্পিন ও আর্ম বল খেলা সম্ভব। বলের লেংথ সমন্বয় করার পাশাপাশি গতি কমানো বা বাড়ানো যায়। এটি ম্যানুয়াল ও অটোমেটিক— উভয় মোডেই চালানো সম্ভব। অটোমেটিক মোডে একবারে ২৫-৩০টি বল খেলা যায়।'

বিসিবির এই কর্মকর্তার দেওয়া তথ্যমতে, প্রায় ১০ হাজার পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৬ লাখ টাকা) ব্যয়ে মেশিনটি কেনা হয়েছে। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের দাবি অনুযায়ী, 'মার্লিন বাই বোলা' বিশ্বের অন্যতম উন্নত ও নির্ভুল স্পিন বোলিং প্রশিক্ষণ সরঞ্জাম হিসেবে স্বীকৃত।

হেনরি প্রায়র মূলত এটি উদ্ভাবন করেন। ২০০৫ সালে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার অ্যাশেজ সিরিজে এর একটি প্রাথমিক মডেল ব্যবহার করা হয়েছিল। ২০০৯ সালে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) যখন প্রথম এটি চালু করে, তখন পেশাদার খেলোয়াড় ও কোচদের কাছ থেকে মেশিনটি ব্যাপক প্রশংসা পায়।

ইসিবির জন্য মেশিনটির পরবর্তী প্রজন্মের মডেলটি তৈরি করে স্টুয়ার্ট অ্যান্ড উইলিয়ামস (বোলা), যাতে খেলোয়াড়রা মানসম্মত স্পিন বোলিংয়ের বিপক্ষে নিজেদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করতে পারেন।