কষ্ট আর্জেন্টিনার ডিএনএতে মিশে আছে, বললেন স্কালোনি

স্পোর্টস ডেস্ক

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার পথ মোটেও মসৃণ ছিল না। শেষ বত্রিশে কেপ ভার্দের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়, শেষ ষোলোতে মিসরের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন, আর এবার কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের কঠিন পরীক্ষাও পেরিয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল। তাই সেমিফাইনালে ওঠার পর আর্জেন্টিনা কোচের কণ্ঠে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হয়েছে একটি বিষয়, চাপের মুহূর্তে লড়াই করে জেতাই এখন তাদের পরিচয়।

অতিরিক্ত সময়ে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারানোর পর স্কালোনি বলেন, 'আমরা জানতাম আমাদের কষ্ট করতে হবে। এটা আমাদের রক্তে, আমাদের ডিএনএতেই আছে। আর এটাই আমাদের মানসিক শান্তি দেয়।'

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রতিটি নকআউট ম্যাচই ছিল নাটকীয়। কেপ ভার্দের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলের জয়, এরপর মিসরের বিপক্ষে ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন। এবার সুইজারল্যান্ডও ৬৭ মিনিটে সমতায় ফিরেছিল। তবে অতিরিক্ত সময়ে হুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্তিনেজের গোলে জয় নিশ্চিত করে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

স্কালোনির বিশ্বাস, ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের অভিজ্ঞতাই কঠিন মুহূর্তগুলো সামলাতে সাহায্য করছে তার দলকে। 'কাতারে আমরা এতটা অভিজ্ঞ ছিলাম না, আমিও ছিলাম না। তখন এমন পরিস্থিতি সামলানো কঠিন ছিল। কিন্তু এখন আমরা জানি প্রতিপক্ষের চাপে পড়া কেমন, সমতা ফিরিয়ে আনার চাপ কেমন। তাই আজ আমরা শান্ত থাকতে পেরেছি। এই দল কখনো হাল ছাড়ে না।'

সুইজারল্যান্ডের প্রশংসাও করেছেন আর্জেন্টিনা কোচ, 'ওরা খুব কঠিন প্রতিপক্ষ ছিল। একের বিপক্ষে এক লড়াইয়ে ওরা দারুণ শক্তিশালী ছিল। টানা পাঁচ-ছয়টি পাস খেলাও আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। সত্যিই অনেক ভুগতে হয়েছে।'

তবে এমন কঠিন ম্যাচেও বেঞ্চের খেলোয়াড়দের অবদান ছিল বড় পার্থক্য গড়ে দেওয়া বিষয় বলে মনে করেন স্কালোনি, 'আমাদের বেঞ্চেও এমন খেলোয়াড় আছে, যারা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। এটাই আমাদের বড় শক্তি। শেষ পর্যন্ত আমরা সবসময় সমাধান খুঁজে বের করি।'

দলের ঐক্যকেও সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি হিসেবে দেখছেন তিনি, 'সব কৃতিত্ব খেলোয়াড়দের। তারা পুরো প্রক্রিয়ার ওপর বিশ্বাস রেখেছে। আমরা একটি দল, আমরা ঐক্যবদ্ধ। আর এটাই প্রমাণ করে ফুটবল কতটা কঠিন খেলা।'

সেট-পিস থেকেও উন্নতির ছাপ দেখেছেন স্কালোনি। লিওনেল মেসির কর্নার থেকে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেডে আর্জেন্টিনা প্রথম গোলটি পায়। 'আলেক্সিস অসাধারণ একজন খেলোয়াড়। সে কঠোর পরিশ্রম করেছে এবং তার প্রাপ্যই পেয়েছে,' বলেন আর্জেন্টিনা কোচ।