‘সবই টাকার খেলা,’ বললেন মিশর কোচ

স্পোর্টস ডেস্ক

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েও শেষ পর্যন্ত অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের শিকার হয়েছে মিশর। ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও শেষ ১৩ মিনিটে তিন গোল হজম করে ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে ফারাওদের। এমন হৃদয়ভাঙা পরাজয়ের পর রেফারিং নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মিশরের কোচ হোসাম হাসান বললেন, সবই টাকার খেলা।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ক্ষুব্ধ হাসান বলেন, 'সবকিছুই টাকার খেলা। তারা চায় মেসি টুর্নামেন্টে টিকে থাকুক। ফুটবলে মাঠের বাইরেও স্বার্থের কারণে অনেক কিছু ঘটে। যা ঘটেছে, তা অন্যায্য। মিশরেরই পরের পর্বে ওঠা উচিত ছিল। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আমরাই ছিলাম ভালো দল।'

এমনকি রাগে আর বিশ্বকাপ খেলাই দেখবেন না এই কোচ, 'আমি দেশে ফিরে যাচ্ছি এবং বিশ্বকাপের আর কোনো ম্যাচ দেখব না। আমাদের সঙ্গে যা হয়েছে, তা মোটেও ন্যায়সঙ্গত নয়। আমরা একটি পেনাল্টি পাওয়ার কথা ছিল, একটি গোলও বাতিল করা হয়েছে। কেন বাতিল করা হলো, আমি জানি না।'

ম্যাচের ৬২তম মিনিটে মোস্তফা জিকো গোল করলেও ভিএআরের পর বিল্ডআপে ফাউলের অভিযোগে সেটি বাতিল করা হয়। এছাড়া ম্যাচের শেষদিকে হামদি ফাথির ওপর ফাউলের অভিযোগে পেনাল্টির দাবিও জানায় মিসর। কিন্তু রেফারি সেটি নাকচ করে দেন। এরপরই পাল্টা আক্রমণে ৯২তম মিনিটে জয়সূচক গোল করে আর্জেন্টিনা।

হাসানের মতে, ম্যাচের ফল নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে ম্যাচ কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত, 'আমাদের গোলগুলো ভুল থেকে হতে পারে। কিন্তু সবচেয়ে বড় ভুল করেছেন যারা সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন। আমরা যেটা প্রাপ্য ছিল, সেটা পাইনি।'

পরাজয়ের হতাশা লুকাননি মিশর কোচ, 'আমি এমন একজন মানুষ, যে হার একেবারেই পছন্দ করে না। আর আজকের মতো অন্যায্য পরাজয় হলে সমর্থকদের শুধু বলতে পারি, দয়া করে হতাশ হবেন না। আমরা তাদের আরও আনন্দ দিতে চেয়েছিলাম।'

তবে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন তিনি, 'যা আমাকে আনন্দ দিয়েছে, তা হলো খেলোয়াড়রা ম্যাচ পরিকল্পনা দারুণভাবে বাস্তবায়ন করেছে। তারা অসাধারণ পরিশ্রম করেছে।'

সাধারণত রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলা মিশর এদিন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছিল। সেই কৌশলেই তারা ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। বিরতির আগে গোলরক্ষক মোস্তফা শুবাইরের একের পর এক দুর্দান্ত সেভও দলকে এগিয়ে থাকতে সাহায্য করে।

দেশীয় লিগের খেলোয়াড়দের নিয়েও বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে সমানতালে লড়াই করতে পারায় গর্বিত হাসান, 'আমাদের বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই মিশরের ঘরোয়া লিগে খেলে। অন্য অনেক দলের ফুটবলার ইউরোপে পেশাদার পরিবেশে খেলেন। তারপরও মোহামেদ সালাহ ও ওমর মারমুশ ছাড়া প্রায় পুরোপুরি দেশীয় লিগের খেলোয়াড়দের নিয়ে আমরা সবার সঙ্গে সমানভাবে লড়েছি। এতে আমি খুবই সন্তুষ্ট।'