'কোচ বলেছিলেন বিশ্বাস হারিও না'—সেই মন্ত্রেই আর্জেন্টিনার প্রত্যাবর্তন

স্পোর্টস ডেস্ক

মৃতপ্রায় অবস্থা থেকে ফিরে আসা, ফুটবলে এমন গল্প খুব বেশি দেখা যায় না। মিশর ম্যাচে ঠিক সেই গল্পই লিখেছে আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধে দুই গোলে পিছিয়ে পড়া, লিওনেল মেসির পেনাল্টি মিস, সব মিলিয়ে যখন বিদায়ের শঙ্কা ঘিরে ধরেছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের, তখনই দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ৩-২ গোলের নাটকীয় জয় তুলে নেয় লিওনেল স্কালোনির দল। সেই জয়ে নিশ্চিত হয় দলটির কোয়ার্টার-ফাইনাল।

শেষ বাঁশি বাজার পর আর্জেন্টাইন শিবিরে ছিল আবেগের বিস্ফোরণ। খেলোয়াড়দের চোখে জল, মুখে স্বস্তির হাসি আর গর্ব মিলিয়ে ছিল এক স্মরণীয় রাত।

সবার আগে কথা বলেন দলের জয়সূচক নায়ক এনজো ফার্নান্দেজ। যোগ করা সময়ে দুর্দান্ত হেডে গোল করে জয় নিশ্চিত করা এই মিডফিল্ডার বলেন, 'অবিশ্বাস্য অনুভূতি। কাতার বিশ্বকাপের পর থেকেই একটি গোলের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। এমন মুহূর্ত উপহার দেওয়ার জন্য ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ। আমাদের দলে এমন একদল ফুটবলার আছে, যারা কখনো হাল ছাড়ে না। আমরা আরেকটি বিশ্বকাপ উপভোগ করতে এসেছি, কিন্তু লক্ষ্য একটাই, শিরোপা ধরে রাখা। অতীত ভুলে আমরা আবারও চ্যাম্পিয়ন হতে চাই।'

জয়সূচক গোলের আগে পাল্টা আক্রমণে এনজোকে নিখুঁত ক্রস বাড়িয়ে দেন লাউতারো মার্তিনেজ। ম্যাচ শেষে আবেগ লুকাতে পারেননি তিনিও, 'খুব কঠিন একটা ম্যাচ ছিল। আজ রাতে আমরা যা করেছি, অনেক দিন এমন কিছু দেখিনি, এমন অনুভূতিও হয়নি। হাতে তখন আর কয়েক মিনিট বাকি, প্রতিপক্ষ ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করছিল। কিন্তু আমরা আবারও দেখিয়েছি আমাদের চরিত্র, বিনয় আর আত্মত্যাগ। প্রতিদিন লিওকে (মেসি) যেভাবে নিজেকে উজাড় করে দিতে দেখি, সেটাই আমাদের অনুপ্রেরণা। আমি তাকে বলেছি, কাঁদতে দাও, সে এটা প্রাপ্য।'

ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে, দ্বিতীয়ার্ধে কুলিং ব্রেকের সময় স্কালোনির দেওয়া বার্তাও প্রকাশ করেন লাউতারো, 'পানি খাওয়ার বিরতিতে কোচ আমাদের বলেছিলেন, যা আছে সব দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে। তিনি বিশ্বাস করতেন, সুযোগ আসবেই। সেই কথাই আমাদের নতুন শক্তি দিয়েছিল।'

একই কথা জানান জুলিয়ান আলভারেজও, 'কুলিং ব্রেকের সময় কোচের একটাই বার্তা ছিল, কখনো বিশ্বাস হারাবে না। আমরা ভালো খেলছিলাম, কিন্তু ওরা সুযোগ কাজে লাগিয়েছে। এটা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। আমরা জানতাম, গোল আসবেই।'

বিশ্বকাপে নিজের দ্বিতীয় শুরুর একাদশে সুযোগ পাওয়া আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি, 'এটা দারুণ আনন্দের, একই সঙ্গে খুব আবেগেরও। আমি সাধারণত সহজে আবেগপ্রবণ হই না। কিন্তু মাঠ ছাড়ার সময় নিজেকে সামলাতে পারিনি। ম্যাচের পরিস্থিতি আর যেভাবে আমরা ফিরেছি, এটা জাতীয় দলের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোর একটি।'

মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসও ছিলেন প্রত্যাবর্তনের অন্যতম কারিগর। ২-২ সমতায় ফেরার পর তার গুরুত্বপূর্ণ ট্যাকল থেকেই শুরু হয় আর্জেন্টিনার জয়সূচক আক্রমণ। তার ভাষায়, 'ঘটনাটা তখন বুঝতেই পারিনি। ওরা খুব দ্রুত এগিয়ে আসছিল। পরে সতীর্থরা বলেছে, ট্যাকলটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এটা জেনে অবশ্যই ভালো লাগছে।'

শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার বিশ্বাসের কথাই তুলে ধরেন পারেদেস, 'আমরা কখনো মনে করিনি ম্যাচটা হাতছাড়া হয়ে গেছে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিশ্বাস রেখেছি। কঠিন ম্যাচ ছিল, কিন্তু এই দল কখনো লড়াই থামায় না, কখনো বিশ্বাস হারায় না।'