ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

‘ফুটবলকে সব দিয়েছি, যা-ই ঘটুক বিদায় নেব মাথা উঁচু করেই’

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার ডালাসে প্রতিবেশী স্পেনের বিপক্ষে শেষ ষোলোর মহারণের আগে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো স্বীকার করে নিলেন, এটাই তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। তবে বিদায়বেলায় কোনো আক্ষেপ বা অনুশোচনা নিয়ে মাঠ ছাড়তে চান না তিনি। বিশ্বকাপ না জিততে পারলেও মাথা উঁচু করেই বিদায় নেবেন তিনি। 

রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নামা ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকা সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে এসে এই মন্তব্য করেন। পুরো সংবাদ সম্মেলনজুড়েই অবশ্য তিনি একটি বিষয়ে অনড় ছিলেন— ট্রফি-ঝলমলে ক্যারিয়ারের ইতিটা তিনি টানবেন নিজের সিদ্ধান্তে, অন্য কারও কথায় নয়।

উপস্থিত সাংবাদিকদের করতালির মধ্য দিয়ে কক্ষ ছাড়ার আগে ক্রিস্তিয়ানো বলেন, ‘এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ হতে দিন। হ্যাঁ, এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ; তবে আশা করি আগামীকালই (স্পেনের বিপক্ষে) আমার শেষ ম্যাচ হয়ে যাচ্ছে না।’

সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড অবশ্য শুরুতে এই টুর্নামেন্টটিই তার শেষ কি না, তা নিশ্চিত করতে চাননি। যদিও আগামী ২০৩০ সালের পরবর্তী বিশ্বকাপের সময় তার বয়স গিয়ে ঠেকবে ৪৫-এ।

রোনালদো রবিবার প্রথমে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আমি যখন চাইব, তখনই থামব। আপনারা সবসময় একই প্রশ্ন করেন— এটাই কি শেষ? দেখা যাক কী হয়। আমি এই বিষয়টায় বাড়তি আলো ফেলতে চাই না। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আগামীকাল ভালো খেলা।’

পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা বলেন, ‘একেবারে মন থেকে বলছি, আগামীকাল যা-ই ঘটুক না কেন, ক্রিস্তিয়ানো ১০০০% পরিষ্কার বিবেক নিয়ে, মাথা উঁচু করেই বিদায় নেবে।’

‘ফুটবলকে আমার দেওয়ার যা ছিল, তার সবটুকুই দিয়েছি। এতগুলো বছর ধরে খেলে যাওয়াটা আমার আবেগ। কোনো দায় ঠেকায় পড়ে বা প্রয়োজনের তাগিদে আমি খেলছি না, জীবন আমাকে যথেষ্ট দিয়েছে। সবটাই আসলে ভালোবাসার টানে। আমি জাতীয় দলের হয়ে খেলি, কারণ ফুটবল খেলাটা আমি অন্তরের সঙ্গে ভালোবাসি।’

‘আগামীকাল মাঠের ফল যা-ই হোক, আমাকে জিততেই হবে— এমন কোনো বাড়তি চাপ আমি নিজের ওপর নিতে যাচ্ছি না।’

‘বিশ্বকাপের মতো এত বড় একটা মঞ্চে আপনাকে প্রতিটি ম্যাচ উপভোগ করতে হবে। আমার মনে হয় আমি খুব একটা খারাপ করছি না। তিনটি গোল করেছি; অন্যরা হয়তো আরও ভালো করেছে, তবে আমার পারফরম্যান্স একেবারে মন্দ নয়।’

সংবাদ সম্মেলনে বেশ ফুরফুরে মেজাজে থাকা ক্রিস্তিয়ানো স্বীকার করেন, আগের পাঁচটি বিশ্বকাপের চেয়ে এবারের আসরটি তিনি অনেক বেশি উপভোগ করছেন। একই সঙ্গে রবার্তো মার্তিনেসের দলের ওপর তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। টুর্নামেন্ট যত গড়াচ্ছে, স্পেন তত বিপজ্জনক হয়ে উঠলেও পর্তুগাল তাদের হারাতে পারবে বলেই বিশ্বাস তার।

তিনি বলেন, ‘এই বিশ্বাসটাই যদি না থাকত, তবে আমরা আজ এখানে আসতাম না। অভিজ্ঞতাটা দারুণ হচ্ছে, আমরা প্রতিটি ম্যাচেই নিজেদের চেনা ছন্দে ফিরছি।’

‘আমরা জানি এটা কতটা কঠিন প্রতিযোগিতা এবং প্রতি ম্যাচে সেরাটা দেওয়া অসম্ভব। কিছু পরাশক্তি ইতিমধ্যেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে, তাতেই বোঝা যায় লড়াইটা কতটা কঠিন। আমাদের দল বেশ ভালো অবস্থানে আছে— শান্ত ও সুসংহত। আমরা একটা কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি, তবে আমার বিশ্বাস আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।’

স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামলেই পর্তুগালের জার্সিতে ২৩৩তম ম্যাচ খেলার কীর্তি গড়বেন ক্রিস্তিয়ানো। স্পেনের সঙ্গে তার আত্মিক টানটাও বেশ পুরোনো, রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে যে দীর্ঘ নয়টি মৌসুম কাটিয়েছেন সেখানে!

তবে আইবেরিয়ান প্রতিবেশীদের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ফুটবলে এই পর্তুগিজ যুবরাজের গোল করার রেকর্ড খুব একটা সমৃদ্ধ নয়— স্প্যানিশদের জালে বল পাঠাতে পেরেছেন মোটে চারবার। অবশ্য এই চার গোলের তিনটিই এসেছিল ২০১৮ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে, সেই রোমাঞ্চকর ৩-৩ ড্র হওয়া ম্যাচে করা অবিস্মরণীয় হ্যাটট্রিক থেকে।

প্রতিপক্ষকে সমীহ করে ক্রিস্তিয়ানো বলেন, ‘ইউরো কিংবা নেশনস লিগ— সব টুর্নামেন্টেই স্পেন সবসময় হট-ফেভারিট। এই বিশ্বকাপও তারা আগে জিতেছে।’

‘কাগজে-কলমে স্পেনই এগিয়ে। পর্তুগালের চেয়ে ওদের ট্রফি ক্যাবিনেট অনেক সমৃদ্ধ, তবে এটা একেবারেই ভিন্ন একটা প্রতিযোগিতা, যেখানে খেলোয়াড়রাও আলাদা। চোটের একটা ব্যাপার আছে, আছে প্রচণ্ড গরমও।’

‘স্পেনের বিপক্ষে খেলতে আমার সবসময়ই ভালো লাগে, ওদের বিরুদ্ধে আমার রেকর্ডও বেশ জুতসই। আমি ১০ বা ১১ বার ওদের মুখোমুখি হয়েছি, লড়াইটা সবসময়ই সমানে-সমান ছিল। ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেবে ছোট ছোট কিছু ভুলত্রুটি। তবে আমার মন বলছে, ম্যাচটা আমরাই জিততে যাচ্ছি।’