রামমন্দিরে ‘রামচুরি’! কী বার্তা পাচ্ছে বিজেপি?
একে ‘হরিলুট’ বলা যাবে কি? অনেকে তো তাই বলছেন। কেননা, ঠিক কত টাকা লুট হয়েছে সেই হিসাবটাই নাকি জানা যাচ্ছে না। কারও ভাষ্য: অর্থ লুট শুরু হয়েছে মন্দির তৈরির শুরু থেকেই। চুরি যাওয়া কিছু টাকা উদ্ধারের খবর এসেছে।
তবে মন্দিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ; অনেক কিছুই এখনো পর্যন্ত অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের ঘেরাটোপে আটকে আছে।
এই যে হরিলুটের সংবাদ, তা কোনো পাড়া-মহল্লার ছোট মন্দিরের নয়; এমন ঘটনা ঘটেছে বহুল আলোচিত ভারতের উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যার বিতর্কিত রামমন্দিরে।
এ কথা সবাই জানেন যে, ১৯৯২ সালে ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপির রাজনৈতিক আদর্শে উদ্বুদ্ধ একদল উগ্র হিন্দত্ববাদী দেশটির প্রচলিত আইনের প্রতি বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অযোধ্যার ১৬ শতকের বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলে।
সেই ঘটনায় ভারতে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় অন্তত ২ হাজার মানুষ নিহত হন।
বিশ্বব্যাপী পরিচিত এমন ধর্মপ্রতিষ্ঠানের দানবাক্স শুধু নয়, এর নির্মাণ প্রক্রিয়া থেকেই নাকি ‘চুরি’ পর্বের শুরু—এমন মন্তব্য করছেন বিশ্লেষকদের অনেকে। রামমন্দিরের টাকা চুরির ঘটনার সংবাদ এখন আর উত্তরপ্রদেশের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোয় সীমিত নয়। অযোধ্যার অন্দর পেরিয়ে তা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও ছড়িয়ে পড়েছে।
গত ২৬ জুন এ সংক্রান্ত বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়—২০২৪ সালে উদ্বোধনের পর ২ দশমিক ৭ একর জায়গাজুড়ে গড়ে তোলা রামমন্দির ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর অন্তত ৫ কোটি ভক্ত এই মন্দির পরিদর্শনে আসছেন।
কিন্তু, এই মন্দিরে দান হিসেবে ভক্তদের দেওয়া নগদ টাকা, দামি অলঙ্কার, সোনা-রুপা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী চুরির অভিযোগ গত বেশ কয়েকদিন ধরে ভারতের স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে বেশ আলোচিত হয়ে আসছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়—এমন অভিযোগ ভারতে রাজনৈতিক বিতর্কও উসকে দিয়েছে। বিষয়টি গিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের প্রাঙ্গণেও। উত্তরপ্রদেশ সরকার ৩ সদস্যের বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেছে।
একই দিনে, ভারতের দৈনিক আনন্দবাজার এক প্রতিবেদনে জানায়—প্রণামী চুরিতে ৮ অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হতেই রামমন্দির ট্রাস্টের প্রধান কর্মকর্তা বা সাধারণ সম্পাদক চম্পৎ রায় ইস্তফা দিয়েছেন।
আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’ নামে পরিচিত রামমন্দির ট্রাস্টের প্রধানের পাশাপাশি অপর এক ট্রাস্টির পদত্যাগের সংবাদও প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও জানানো হয়—উত্তরপ্রদেশ সরকারের বিশেষ তদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনে ১৭ ব্যক্তিকে ‘দোষী’ চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়াও, রামমন্দিরের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ১৫০ সেবাদারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, রামমন্দির প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তাদের অনেকের সম্পদ বেড়েছে কয়েক গুণ।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রামমন্দির ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পৎ রায়ের গাড়িচালক রামশঙ্কর যাদব আছেন। ২০২২ সাল থেকে তাকে মন্দির নির্মাণ ও পরে মন্দিরের ব্যবস্থাপনায় যুক্ত করা হয়।
অপর আটক ব্যক্তি লবকুশ মিশ্র ও অনুকল্প মিশ্র রামমন্দিরে ভক্তদের দানের হিসাব নথিভুক্তের কাজে যুক্ত ছিলেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোয় বলা হয়—আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চুরি, বিশ্বাসভঙ্গ, ষড়যন্ত্র ও যৌথভাবে অপরাধসহ দুর্নীতি দমন আইনের একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছে।
তবে, ট্রাস্টের পক্ষ থেকে অর্থ আত্মসাতের সব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে— ভারত সরকার অযোধ্যায় শ্রী রামের জন্মভূমিতে রামমন্দির নির্মাণের জন্য এই ট্রাস্ট গড়ে তোলে। ২০২০ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লোকসভায় এই ট্রাস্ট গঠনের ঘোষণা দেন। ট্রাস্টের ১৫ সদস্যের ১২ জনকে ভারত সরকার মনোনয়ন দেয়।
মন্দিরের দেয়ালে কলঙ্কের দাগ?
ব্রিটানিকা বলছে—শিলালিপির তথ্য অনুসারে অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ তৈরি হয়েছিল ৯৩৫ হিজরিতে। খ্রিষ্টাব্দ হিসাবে তা ১৫২৮/১৫২৯ সাল। মুঘল সম্রাট বাবরের এক সামরিক কর্মকর্তা মির বাকি এই মসজিদটি তৈরি করেছিলেন।
এতে আরও বলা হয়—সম্রাট বাবরের নির্দেশে উত্তরপ্রদেশের সম্ভল ও অযোধ্যা এবং হরিয়ানা প্রদেশের পানিপথে একটি করে মোট তিনটি মসজিদ তৈরি করা হয়।
অযোধ্যায় পৌরাণিক রাজা রামের জন্মভূমিতে বাবরি মসজিদ গড়া হয়েছে—এমন অভিযোগে ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা আদালতের আদেশ অমান্য করে ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলে।
বিশ্লেষকদের অনেকের ভাষ্য: ১৯৯০ সালে বিজেপির শীর্ষনেতা লাল কৃষ্ণ আদভানি ‘রাম রথ যাত্রা’ কর্মসূচির মাধ্যমে হিন্দু-আবেগ জাগিয়ে তোলেন। তিনি ক্রমাগত বাবরি মসজিদ-বিরোধী প্রচারণা চালিয়ে ধর্মগ্রাণ হিন্দুদের উসকে দেন। তারাই পরবর্তীতে শাবল চালিয়ে সেই প্রাচীন মসজিদটি ধ্বংস করে ফেলে।
ব্রিটানিকায় আরও বলা হয়েছে—১৯৮৪ সালে বাবরি মসজিদের জায়গায় রামমন্দির তৈরির প্রচারণা শুরু হয়। পরবর্তীতে এই ভাবনা গতি পায়। ভারতে ধর্মীয় দাঙ্গা হয়। এমন উন্মাদনা ও মসজিদবিরোধী প্রচারণা চালিয়ে বিজেপি উত্তরপ্রদেশসহ কয়েকটি প্রদেশে ক্ষমতা আসে।
হিন্দু করসেবকরা যখন বাবরি মসজিদ ভাঙছিল তখন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের নীরবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল বলেও সেই সময়ের সংবাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়।
কয়েক বছরের আইনি লড়াইয়ের পর ২০১৯ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বাবরি মসজিদ এলাকাটি শুধুমাত্র হিন্দুদের ব্যবহারের পক্ষে রায় দেয়।
ব্রিটানিকা অনুসারে—ভারতে মুঘল সাম্রাজ্য শুরুর আগে স্বল্পমেয়াদের লোধি রাজবংশের নির্মাণশৈলী মেনে বাবরি মসজিদ তৈরি করা হয়। তিন গম্বুজের এই মসজিদটি নিয়ে হিন্দু ও মুসলমানদের দ্বন্দ্ব প্রথম নথিবদ্ধ হয় ১৮৫৩ সালে তথা ব্রিটিশ উপনিবেশিক আমলে। ভারত-ভাগের ২ বছর পর অর্থাৎ ১৯৪৯ সালে রামের একটি মূর্তি মসজিদে রাখা হয়।
এ নিয়ে ধর্মীয় উত্তেজনা দেখা দিলে মসজিদটি সবার জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে রামের মূর্তিটি সেখানে থেকে যায়।
২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরের বছর রামমন্দিরের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তা উদ্বোধন করেন। মন্দিরটিতে ৫ বছর বয়সী রামের মূর্তি বসানো হয়েছে। এটি ‘রামলালা’ নামে পরিচিত।
রামমন্দির তৈরিতে নগর নির্মাণশৈলী মেনে চলা হয়েছে। মন্দিরটি দেখতে অনেকটা উড়িষ্যার কোনার্কের সূর্য মন্দিরের মতো দেখতে। রামমন্দিরের মূল মন্দিরটি ৩-তলা উঁচু। এটি তৈরিতে লোহা ব্যবহার করা হয়নি। মূল উপসনাস্থলটি আট-কোণা।
হিন্দুরা অযোধ্যাকে রামের জন্মভূমি হিসেবে বিশ্বাস করে। অন্যদিকে, এই শহরটি একসময় বৌদ্ধদের ঐতিহাসিক কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। পরবর্তীতে বাবরি মসজিদের কারণে অযোধ্যা মুসলমানদের কাছেও বাড়তি গুরুত্ব পায়।
সেই বিতর্কিত রামমন্দিরের দেয়ালে এবার লাগলো কলঙ্কের দাগ। গত ২৬ জুন দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা এক প্রতিবেদনে জানায়: ভক্তিতে আঘাত! রামমন্দিরে আর্থিক কেলেঙ্কারি, দেশজুড়ে তোলপাড়। এই মুহূর্তে উত্তরপ্রদেশে তীব্র রাজনৈতিক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে বলেও প্রতিবেদনটিতে বলা হয়।
গত ২৮ জুন আনন্দবাজার জানায়—‘বস্তুত রামমন্দির নির্মাণের গোড়া থেকেই মন্দির সংলগ্ন জমি অধিগ্রহণ ও কেনাবেচা নিয়ে বিপুল দুর্নীতি, এমনকি ভারতীয় সেনার জমি বেহাত হওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠলেও বিজেপি নেতৃত্ব কোনও দিনই তাতে কান দেয়নি।’
যেভাবে এলো চুরির খবর
গত ২৬ জুনের বিবিসির প্রতিবেদনটিতে জানানো হয়, রামমন্দির ট্রাস্টের হিসাবরক্ষণ বিভাগের সাবেক সুপারভাইজার মহীপাল সিং প্রথমে বিষয়টি সামনে আনেন। তিনি প্রথম জানান যে, রামমন্দিরে আসা ভক্তদের দেওয়া দানের টাকা বা অলংকার বা দামি জিনিসগুলোর হিসাবে অনিয়ম দেখা যাচ্ছে।
আরও জানান তিনি নিজেদের মধ্যে অর্থ তছরুপের কথা বলায় তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মহীপাল সিং গণমাধ্যমটিকে বলেন, ‘আমাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। প্রচণ্ড চাপে আছি। আর কথা বলার অবস্থায় নেই। প্রকাশ্যে যা বলেছি তা আমার কথা হিসেবে নিয়েন।’
ওই ব্যক্তির উদ্বেগের বিষয়গুলোকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। তবে, গত ৭ জুন উত্তরপ্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ও তদন্তের দাবি করেন।
গত ২৫ জুন ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই সময় এক প্রতিবেদনে জানায়—রামমন্দিরে দুর্নীতির কারণে ভক্তদের দানের প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বেশিরভাগই গায়েব!
এতে আরও জানানো হয়—বাবরি মসজিদ-রামমন্দির মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্টের ‘ঐতিহাসিক’ রায়ের পরে অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের লক্ষ্যে ২০২০ সালে ‘রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট’ তৈরি হয়েছিল। সেই সময় থেকে শুরু করে এ যাবৎ রামমন্দিরে নগদ প্রণামী জমা পড়েছে ৩,৫০০ কোটি টাকারও বেশি, সঙ্গে অগণিত সোনা-রুপার গয়না।
উত্তরপ্রদেশ সরকারের প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সংবাদ প্রতিবেদনটিতে বলা হয়—এই ধনরাশির একটা বড় অংশের কোনো হদিশ নেই। নগদ টাকা ও গয়না ছাড়াও দানে পাওয়া রুপোর তৈরি ভূষূণ্ডির কাকও গায়েব হয়েছে।
দিনের পর দিন যেভাবে বিপুল অঙ্কের টাকা ও দানের সামগ্রী চুরি হয়েছে, রামমন্দির ট্রাস্টের পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ মদত ছাড়া তা সম্ভব নয়, দাবি সরকারি প্রতিবেদনের।
গত ১৯ জুন এই সময় জানায়, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সবাইকে ১৫ দিন ধৈর্য ধরার বা অপেক্ষার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সব পক্ষকে বলবো, এমন বক্তব্য বা টিপন্নি করবেন না যা রামভক্তদের মনে আঘাত দেবে।’
গত ২৭ জুন আনন্দবাজার জানায়—২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি মন্দির উদ্বোধনের পরে প্রথম কয়েক মাস দৈনিক ৬ থেকে ৭ রাখ টাকা প্রণামী জমা পড়ত। ধীরে ধীরে তা কমতে শুরু করে। এরপর তা হাজারে নেমে আসে।
অভিযোগ—টাকা গোনা ও বাছাইয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের একাংশ সিসিটিভি নজরদারি আড়াল করে দীর্ঘদিন ধরে নগদ ও সোনাদানা চুরি করছেন। সেই টাকার বড় অংশ রিসোর্ট, শপিংমলসহ বিভিন্ন ব্যবসায় ব্যবহার করা হয়েছে বলেও প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
‘রামচুরি’ কী বার্তা দিচ্ছে?
গত ২৬ জুন আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল—‘কারও কোটি টাকার জমি, কারও “প্রাসাদ”! রামমন্দিরের অনুদান চুরি বিতর্কে কেঁচো খুঁজতে বেরোচ্ছে একের পর এক কেউটে’।
এতে বলা হয়, অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দেওয়া কোটি কোটি টাকার অনুদান ও গয়না নয়ছয় বা চুরির অভিযোগ ওঠে গত ৭ জুন। সমাজবাদী পার্টির প্রাক্তন বিধায়ক পবন পাণ্ডের অভিযোগের ভিত্তিতে তড়িঘড়ি তদন্ত দল গঠনের ঘোষণা দেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুসারে, স্থানীয় বিজেপি নেতাসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোও রামমন্দিরের টাকা চুরির বিষয়টি তদন্তের দাবি তোলেন। অযোধ্যার অধিবাসীদের অনেকে রামমন্দিরের টাকা নিয়ে দুর্নীতি প্রসঙ্গে বিবিসির কাছে তাদের হতাশা ব্যক্ত করেন।
বিজয় লক্ষ্মী বলেন, ‘ভক্তদের টাকা-পয়সা তো মন্দিরে রাখার জন্য। সেগুলো তীর্থযাত্রীদের পেছনে খরচ করার জন্য। সেগুলো কয়েকজনের বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য নয়।’
সন্তোষ পুরির মন্তব্য: ‘আমাদের ধর্মের ওপর এক চরম আঘাত।’
অজয় কুমার ভার্মার ভাষ্য—যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তারা দীর্ঘদিন ধরে মন্দিরের কাজে জড়িত। তারা এমন কাজ করতে পারে তা বিশ্বাসই করা যায় না।
বিপি পান্ডে মনে করেন, এসব অভিযোগের মাধ্যমে সরকারের গায়ে ‘ময়লা’ লাগলো। বিশ্বাস নষ্ট হলো। এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে তা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।
আনন্দবাজার জানিয়েছে—উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গে বলেন, ‘ভক্তদের বিশ্বাস নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বরদাস্ত করা হবে না।’
সংবাদ প্রতিবেদন বলছে—উত্তরপ্রদেশ হাইকোর্টে অনেকগুলো আবেদন পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতির কাছে লেখা চিঠিতে এক আইনজীবী ঘটনার সিবিআই তদন্ত চেয়েছেন, যাতে ‘ভক্তদের বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা যায়।’
তিনি চিঠিতে লিখেন যে এগুলো কোনো সাধারণ বাণিজ্যিক বিষয় নয়। এগুলো পবিত্র দান। সেগুলো চুরি করা হলে তা হিন্দুধর্মের এই পবিত্র মন্দিরের কোটি কোটি ভক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে।
সংবাদ প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়—ইতোমধ্যে প্রধানবিরোধী কংগ্রেস ও আঞ্চলিক দলগুলো অভিযোগ তুলেছে যে, দানের টাকা গোনার দায়িত্বে ব্যক্তি অথবা গাড়ি চালকদের ফাঁসিয়ে দিয়ে আসল অপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা হচ্ছে।
বিরোধীদের প্রশ্ন—রাঘব বোয়াল না থাকলে যারা দানের টাকা গোনেন, তাদের পক্ষে কোটি কোটি টাকা সরানো কি সম্ভব?
গত ২৭ জুন ভারতীয় দৈনিক বর্তমান জানায়—দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন, ‘হিন্দুরা চাঁদাচোর পার্টিদের বিশ্বাস করেছিল। অথচ সেই চাঁদাচোর পার্টি হিন্দুদের সঙ্গেই বিশ্বাসঘাতকতা করলো।’
রামমন্দিরের চুরি নিয়ে বিজেপি যথেষ্ট অস্বস্ত্বিতে আছে বলেও প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
রামমন্দির নিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নীরবতায় প্রধানবিরোধী দল কংগ্রেস ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে অন্যান্য সংবাদমাধ্যমগুলো।
গত ২৫ জুন সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত এক পডকাস্টে সাংবাদিক সুব্রত বসু বলেন, ‘রামমন্দির শুধু ধর্মীয় প্রকল্পই নয়, এটি বিজেপির সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রতীকও। মন্দিরের দানের টাকা চুরি নিয়ে অভিযোগ উঠলে এর অর্থ অন্যরকম দাঁড়ায়।’









