‘কৌশলগত আত্মহত্যায়’ ইকুয়েডরের কাছে হেরে হতাশ নাগেলসম্যান
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে আগেই শেষ বত্রিশ নিশ্চিত করেছিল জার্মানি। কিন্তু শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরের কাছে ২-১ গোলের পরাজয়ের পর নিজের দলের পারফরম্যান্স নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যান। তার মতে, ম্যাচে এগিয়ে যাওয়ার পর জার্মানির খেলোয়াড়রাই 'কৌশলগত আত্মহত্যা' করেছে।
নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে মাত্র দুই মিনিটেই লেরয় সানের গোলে এগিয়ে যায় জার্মানি। তবে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। সাত মিনিট পরই সমতা ফেরায় ইকুয়েডর। এরপর পুরো ম্যাচে জয় পাওয়ার তাড়না নিয়ে খেলতে থাকা দক্ষিণ আমেরিকার দলটি আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। ম্যাচের ৭৭তম মিনিটে গনসালো প্লাতার গোলে জয় নিশ্চিত করে তারা। সেই জয়ে সেরা তৃতীয় স্থানধারী দল হিসেবে শেষ বত্রিশে জায়গাও নিশ্চিত হয় ইকুয়েডরের।
ম্যাচ শেষে নাগেলসম্যান বলেন, 'আমরা দুর্দান্ত শুরু করেছিলাম। কিন্তু গোল করার পরই নিজেদের অবস্থানগত ভুলের মাধ্যমে কৌশলগত আত্মহত্যা শুরু করি। এতে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে যায়।'
ইকুয়েডরের লড়াইয়ের প্রশংসাও করেছেন জার্মান কোচ, 'ইকুয়েডরের সামনে অনেক কিছু পাওয়ার সুযোগ ছিল এবং সেটা তাদের খেলায় স্পষ্ট দেখা গেছে। তারা শুরু থেকেই সর্বশক্তি দিয়ে খেলেছে। তবে আমি এটাও বলতে পারি না যে আমার কোনো খেলোয়াড় সর্বোচ্চ চেষ্টা করেনি। বিষয়টি এতটা সহজ নয়।'
আগেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় এই হার জার্মানির অবস্থানে কোনো প্রভাব ফেলেনি। তবুও নকআউটের আগে এমন পরাজয় মেনে নিতে পারছেন না নাগেলসম্যান, 'হার কখনোই ভালো কিছু নয়। এমন ম্যাচেও নয়, যেখানে শীর্ষস্থান হারানোর ঝুঁকি ছিল না। আমরা এখান থেকে শিক্ষা নেব এবং সামনে এগিয়ে যাব। ভুলগুলো শুধরে নিতে হবে, তবে একই সঙ্গে ভবিষ্যতের দিকেও তাকাতে হবে। অনেক ম্যাচ জিতেছি, একটি ম্যাচ হেরেছি। এখন সোমবারের নকআউট ম্যাচে ভালো শুরু করে পরের রাউন্ডে যাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।'
ম্যাচে ইকুয়েডরই ছিল বেশি ক্ষুধার্ত দল ছিল বলে জানিয়েছেন দলের অধিনায়ক জশুয়া কিমিখও, 'আজ পার্থক্য গড়ে দিয়েছে একটি বিষয়, আমাদের প্রতিপক্ষ আমাদের চেয়ে বেশি জিততে চেয়েছে। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে সেটা খুব স্পষ্ট ছিল। এ কারণেই তারা জিতেছে এবং তারা এই জয় পুরোপুরি প্রাপ্য।'
নকআউট পর্বের আগে রক্ষণভাগের দুর্বলতা নিয়েও সতর্ক করেছেন জার্মান অধিনায়ক, 'আমরা বারবার বল হারিয়ে প্রতিপক্ষকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনছি। এতে তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়ছে। এখন পর্যন্ত বড় ক্ষতি হয়নি, কিন্তু আরেকটি হার আমাদের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে। প্রতি ম্যাচে এক বা দুই গোল খেয়ে গেলে চলবে না।'
কিমিখ আরও যোগ করেন, 'আমাদের বল হারানোর সংখ্যা কমাতে হবে। সেটা করতে পারলে আমরা যে কোনো দলকে হারানোর সামর্থ্য রাখি।'