বাণিজ্য নয়, খেলার স্বার্থেই হাইড্রেশন বিরতি: ফিফা সভাপতি
এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হাইড্রেশন বিরতি। প্রতি ম্যাচের দুই অর্ধে তিন মিনিট করে মোট ছয় মিনিটের অতিরিক্ত বিরতি দেয়া হচ্ছে এবার। ইতোমধ্যে একাধিক কোচ, খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা এই বিরতির সমালোচনা করেছেন। ফুটবলের চেয়ে অর্থযোগের দিকেই ফিফা বেশি ঝুঁকে পড়ছে কি না এমন আলোচনাও হচ্ছে। তবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর দাবি, হাইড্রেশন বিরতির পেছনে ফিফার বাণিজ্যিক কোনো স্বার্থ নেই।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আজ বুধবার এক বিবৃতিতে হাইড্রেশন বিরতির কারণ আবারও খোলাসা করেছেন ফিফা সভাপতি। তিনি বলেছেন, পুরো চিন্তাটাই খেলোয়াড়দের স্বার্থে, ‘এই বিরতি থেকে ফিফার অতিরিক্ত কোনো লভ্যাংশ আসছে না। কারণ এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনেক আগেই সকল বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল। সুতরাং এখানে বাণিজ্যিক কোনো স্বার্থ নেই। পুরোটাই খেলার স্বার্থে’।
ফিফা এর আগেও বলেছে, উত্তর আমেরিকার তীব্র দাবদাহে খেলোয়াড়েরা যেন শারীরিক ফিটনেস ধরে রাখতে পারেন, এ কারণেই প্রথমবারের মতো এই বিরতির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তবে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন দলের কোচ ও খেলোয়াড়েরা বুঝিয়ে দিয়েছেন, নতুন এই নিয়মে খুব একটা খুশি নন তারা। ইংল্যান্ড কোচ থমাস টুখেল বলেছেন, অতিরিক্ত এই বিরতি ফুটবল খেলার আদি যে পরিচয় সেটিকে বিঘ্নিত করছে। একই রকম মন্তব্য করেছেন উরুগুয়ে কোচ মার্সেলো বিয়েলসাও।
স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ও নেদারল্যান্ডসের অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক এই বিরতির কারণকে সমর্থন জানালেও ছাদ ঢাকা স্টেডিয়াম ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকার দিনও অতিরিক্ত বিরতির প্রয়োজন আছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
এসবের প্রতিক্রিয়ায় ফিফা সভাপতি জানিয়েছেন, সব দলকে সমান সুবিধা দিতেই এই সিদ্ধান্ত, ‘এবারের বিশ্বকাপে একটি দলকে ৩৯ দিনের ব্যবধানে ৮টি ম্যাচ খেলতে হতে পারে। খেলোয়াড়দের যথাযথ বিশ্রামের সুযোগ থাকা তাই খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চেয়েছি সব দল, সব ম্যাচেই একই সুযোগ-সুবিধা পাক’।
ভেন্যু কিংবা আবহাওয়ার পরিবর্তনজনিত কারণে কোনো দল যেন অতিরিক্ত সুবিধা না পায়, সেটি মাথায় রেখেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া বলে জানিয়েছেন ইনফান্তিনো, ‘একটি স্টেডিয়ামে গরম বেশি বলে কোচ সেখানে খেলার মধ্যে কৌশলগত আলোচনার সুযোগ পাবে, আর অন্য একটি স্টেডিয়ামে গরম কম থাকলে কোচ সেই সুযোগ পাবেন না, এটি মেনে নেওয়া আমাদের পক্ষে কঠিন’।
ম্যাচের ২২ ও ৬৭ মিনিটে অতিরিক্ত এই বিরতির কারণে খেলার স্বাভাবিক গতিতে ছেদ পড়ছে বলে মনে করছেন অনেকে। তবে ইনফান্তিনো বলেছেন, হাইড্রেশন বিরতির কারণে খেলার গতি তো কমেইনি, বরং খেলোয়াড়েরা পুরো ম্যাচ আরও বেশি সতেজভাবে খেলতে পেরেছেন।