মরিনহোর চোখে ‘তুরুপের তাস’ আনচেলত্তির ব্রাজিলই বিশ্বকাপের ফেভারিট

স্পোর্টস ডেস্ক

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের দামামা বাজতে বাকি আর মাস দেড়েক সময়। মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই ফুটবল বিশ্বে আলোচনা ফেভারিট দলগুলো নিয়ে। বরাবরের মতো যার কেন্দ্রবিন্দুতে রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। বিশেষ করে দলের ডাগআউটে কার্লো আনচেলত্তির উপস্থিতি সেলেসাওদের নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছে সমর্থকদের। সেই পালে হাওয়া দিলেন খোদ ‘স্পেশাল ওয়ান’ হোসে মরিনহো।

সম্প্রতি মিডিয়াসেট ইতালিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মরিনহো দাবি করেন, আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিল এক অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে পরিণত হতে পারে। তার মতে, 'অনেকেই হয়তো বিশ্বাস করছেন না যে ব্রাজিল এবার বিশ্বকাপ জিততে পারবে, কিন্তু কার্লোসহ ব্রাজিল এক ভিন্ন উচ্চতার দল। আমার কাছে কার্লোসহ ব্রাজিল এক জিনিস, আর কার্লো ছাড়া ব্রাজিল সম্পূর্ণ অন্য কিছু। আমি মনে করি তারা এবার সফল হতে পারে।'

ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে এই প্রথম কোনো বিদেশি কোচ স্থায়ীভাবে দায়িত্ব নিয়েছেন, যা নিয়ে আগে থেকেই অনেক কৌতুহল ছিল। আনচেলত্তির সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দলের ভারসাম্য রক্ষা করা। বর্তমানে ব্রাজিলের সম্ভাব্য স্কোয়াড নিয়ে ফুটবল মহলে নানা সমীকরণ চলছে। দলের প্রাণভোমরা নেইমার ৩৪ বছরে পা দিলেও তার ফিটনেস নিয়ে গুঞ্জন এখনও থামেনি। তবে আনচেলত্তি শুরু থেকেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তিনি কেবল শতভাগ ফিট খেলোয়াড়দেরই মাঠে দেখতে চান।

অন্যদিকে রক্ষণভাগের প্রধান স্তম্ভ এডার  মিলিতাও চোটে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন। চোটে নেই ফরোয়ার্ড রদ্রিগো৷ তরুব ফরোয়ার্ড এস্তেভাওকে নিয়েও আছে শঙ্কা।

তবে সব নেতিবাচক আলোচনার আড়ালে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় শক্তি  আক্রমণভাগ। ছন্দে আছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনহা, এন্দ্রিকরা।

আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই মহাযজ্ঞে ব্রাজিলের অভিযান শুরু হবে ১৩ জুন নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে মরক্কোর বিপক্ষে। এরপর ১৯ জুন ফিলাডেলফিয়ায় হাইতি এবং ২৪ জুন মায়ামি স্টেডিয়ামে স্কটল্যান্ডের মোকাবিলা করবে তারা। আনচেলত্তির সুনিপুণ কৌশল আর ফুটবলারদের ব্যক্তিগত সামর্থ্যের মেলবন্ধন শেষ পর্যন্ত সেলেসাওদের দীর্ঘ ২৪ বছরের আক্ষেপ মেটাতে পারে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে ব্রাজিলের ভক্তরা।