সততা, সাহসিকতা, সাংবাদিকতার ৩৫ বছর
‘সততা, সাহসিকতা, সাংবাদিকতা’র ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে ঢাকায় দ্য ডেইলি স্টার সেন্টারে দুইদিনব্যাপী আয়োজন শুরু হয়েছে আজ শুক্রবার।
জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে এই আয়োজনের শুরু হয়। এরপর ১৯৭১, ১৯৯০ ও ২০২৪ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ ও গণতন্ত্রের জন্য প্রাণ বিসর্জন করা সকল শহীদ এবং রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
দ্য ডেইলি স্টার সেন্টারের নিচতলা ও দোতলায় আয়োজন করা হয় প্রদর্শনীর।
দ্য ডেইলি স্টারে হামলার ঘটনা নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র অনুষ্ঠানে প্রদর্শন করা হয়। এরপর সেই বিভীষিকাময় রাতের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন সাংবাদিক জায়মা ইসলাম।
দ্য ডেইলি স্টারে হামলার রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সেসব সদস্য আটকে পড়া সাংবাদিকদের উদ্ধারে সহায়তা করেন, তাদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম।
আয়োজনে নিজের বক্তব্যে মাহফুজ আনাম বলেন, ‘আমরা দ্য ডেইলি স্টারের ৩৫তম বর্ষপূর্তি উদযাপন করছি। আমি আপনাদের বলতে চাই, একটি স্বাধীন গণমাধ্যম কেবলমাত্র গণমাধ্যমের জন্য নয়, এটি সমাজের জন্য, এটি দেশের জন্য, এটি আমাদের সভ্যতার জন্য। আজ আমি লিখেছি, “মুক্ত গণমাধ্যমে আগুন দিলে পুড়ে যায় গণতন্ত্রও”। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কেবল গণমাধ্যমের জন্য নয়, এটা আমাদের সবার জন্য। এটি মূল্যবোধ, সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির জন্য। এটিকে অবশ্যই সবার লালন করতে হবে।’
এ সময় তিনি প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক এসএম আলী, মিডিয়া ওয়ার্ল্ডের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আজিমুর রহমান, প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এস মাহমুদ, লতিফুর রহমান, আব্দুর রউফ চৌধুরী ও রোকিয়া আফজাল রহমানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।
এরপর চার অদম্য ব্যক্তির ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয় এবং তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় সম্মাননা।
১৯৯১ সালের ১৪ জানুয়ারি যাত্রা শুরু হয় দ্য ডেইলি স্টারের। বাংলাদেশের অন্যতম বিশ্বস্ত সংবাদমাধ্যম ও সর্বাধিক পঠিত ইংরেজি দৈনিক হিসেবে দ্য ডেইলি স্টার পার করেছে ৩৫ বছর।
এ উপলক্ষে পাঠক ও পৃষ্ঠপোষকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দ্য ডেইলি স্টার বার্তা দিয়েছে, তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে পাঠক ও পৃষ্ঠপোষকদের সমর্থন কঠিন সময়েও দ্য ডেইলি স্টারকে কাজ অব্যাহত রাখতে সহায়তা করেছে।
২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলার কয়েক মাস পর এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হচ্ছে। সেই হামলায় ভবনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং দ্য ডেইলি স্টার পরিবারের ৩০ জনের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে, যাদের প্রায় সবাই সাংবাদিক।
এমন একটি দিনের পরও পরদিন প্রকাশিত হয় দ্য ডেইলি স্টার। শিরোনাম ছিল এক শব্দের—UNBOWED। এই শিরোনামই বহন করে নৈতিক সাংবাদিকতার প্রতি দ্য ডেইলি স্টারের অঙ্গীকার।
৩৫ বছর উদযাপনের আয়োজনে অংশ নেন ব্যবসায়ী নেতা, রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, উপাচার্য, সম্পাদক, সাংবাদিক, কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও পত্রিকার পৃষ্ঠপোষকসহ কয়েকশ অতিথি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ; অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী; জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু; তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন; জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান; জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা আহসানুল মাহবুব জুবায়ের, মাওলানা আবদুল হালিম ও আতাউর রহমান; জামায়াতের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন; এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া; সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন; মানবাধিকারকর্মী ও শিক্ষাবিদ হামিদা হোসেন; পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান; সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান এবং অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান; রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক রওনক জাহান; শিক্ষাবিদ আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে ছিলেন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ঢাকার সভাপতি কামরান তানভিরুর রহমান; স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের সিইও নাসের এজাজ বিজয়; মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সৈয়দ মাহবুবুর রহমান; বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুপালী হক চৌধুরী; ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার; অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর; বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল; পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ আলী; স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী প্রমুখ।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি তামিম ইকবাল ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়ালও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারপারসন শাহনাজ রহমান, গ্রুপ সিইও সিমিন রহমান এবং ফাইয়াজ রহমান।
ইউনেসকোর প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
দুইদিনের এই আয়োজন আগামীকাল শেষ হবে।