মেসির পর বার্সেলোনায় বিরল কীর্তির সামনে রাফিনিয়া-ফেরমিন
গ্যাব্রিয়েল জেসুস এখনো দলে যোগ দেননি, ফলে নিয়মিত স্ট্রাইকারের ঘাটতি সামলানোর দায়িত্বটা আপাতত কাঁধে তুলে নিয়েছেন রাফিনিয়া ও ফেরমিন লোপেজ। আর সেই দায়িত্ব দারুণভাবেই পালন করছেন দুজন। মৌসুমের প্রথম দুই লিগ ম্যাচেই গোল করে এবার এমন এক কীর্তির সামনে দাঁড়িয়ে তারা, যা বার্সেলোনার জার্সিতে সর্বশেষ করেছিলেন লিওনেল মেসি।
প্রথম ম্যাচে এলচের বিপক্ষে ৫-০ গোলের জয়ে দুজনই জোড়া গোল করেছেন। এরপর অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানের জয়েও জালের দেখা পেয়েছেন রাফিনিয়া ও ফেরমিন। ফলে লা লিগায় বার্সেলোনার হয়ে এখন পর্যন্ত গোলের তালিকায় শীর্ষে এই দুজনই।
আজ সোমবার রাতে রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে গোল করতে পারলেই অবশ্য আরও বিশেষ এক তালিকায় জায়গা করে নেবেন তারা। বার্সেলোনার হয়ে লা লিগার মৌসুমের প্রথম তিন ম্যাচেই গোল করা মাত্র ১৪ জন খেলোয়াড়ের অভিজাত তালিকায় ঢুকে যাবেন রাফিনিয়া ও ফেরমিন।
এই কীর্তির সর্বশেষ সাক্ষী ছিল বার্সেলোনা ২০২০-২১ মৌসুমে। সেই মৌসুমে মেসি এলচের বিপক্ষে দুটি, অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে দুটি এবং ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে একটি গোল করেছিলেন। বার্সেলোনার হয়ে তার শেষ লা লিগা মৌসুমেই কেবল এমন কীর্তি গড়তে পেরেছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
মজার ব্যাপার হলো, বার্সেলোনার হয়ে মেসির স্বর্ণযুগেও এই বিশেষ কীর্তি খুব বেশি দেখা যায়নি। ২০০৬-০৭ মৌসুমে স্যামুয়েল ইতোর প্রথম তিন ম্যাচে চার গোল ছিল। ২০০৯-১০ মৌসুমে জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ প্রথম পাঁচ ম্যাচের প্রতিটিতে গোল করেছিলেন, মোট পাঁচটি গোল। ২০১১-১২ মৌসুমে সেস ফাব্রেগাসও প্রথম চার ম্যাচে চারবার জালের দেখা পেয়েছিলেন।
এর বাইরে ১৯৩০-৩১ মৌসুমে অ্যাঞ্জেল আরোচা, ১৯৩১-৩২ মৌসুমে জোসেপ সামিতিয়ের, ১৯৬৩-৬৪ মৌসুমে জোসেপ মারিয়া ফুস্তে, ১৯৬৬-৬৭ মৌসুমে পেদ্রো জাবালা, ১৯৮১-৮২ মৌসুমে বের্ন্ড শুস্টার, ১৯৯০-৯১ মৌসুমে হ্রিস্তো স্তইচকভ এবং ২০০২-০৩ মৌসুমে লুইস এনরিকেও মৌসুমের প্রথম তিন লিগ ম্যাচে গোল করেছিলেন।
তবে আরও দূর পর্যন্ত যেতে পেরেছিলেন লাদিসলাও কুবালা ও কায়েতানো রে। ১৯৫৩-৫৪ মৌসুমে কুবালা টানা প্রথম চার ম্যাচেই গোল করেন। পরের মৌসুমে ১৯৬৪-৬৫ সালে একই কীর্তি গড়েন রে।
আর মৌসুমের শুরুতে সবচেয়ে দীর্ঘ গোল-ধারার রেকর্ডে নাম রয়েছে সিজার রদ্রিগেস ও ইব্রাহিমোভিচের। রদ্রিগেস প্রথমে ১৯৪৭-৪৮ মৌসুমে টানা তিন ম্যাচে গোল করেছিলেন। পরে ১৯৫০-৫১ মৌসুমে তিনি আরও এক ধাপ এগিয়ে প্রথম পাঁচ ম্যাচে করেন মোট নয়টি গোল।