মেসি এখনও সেরাই আছে, বিশ্বকাপে তা প্রমাণ করেছে: কাসেমিরো

স্পোর্টস ডেস্ক

ইন্টার মায়ামির হয়ে মাঠে বল পায়ে তাণ্ডব চালিয়ে একাই চার গোল করলেন লিওনেল মেসি। সিএফ মন্ট্রিয়লকে ছারখার করে বাজে সময় পার করতে থাকা দলকে তিনি পাইয়ে দিলেন কাঙ্ক্ষিত জয়। ক্যারিয়ারের শেষবেলায় থাকা আর্জেন্টাইন মহাতারকার এমন জাদুকরী নৈপুণ্য দারুণ উপভোগ করছেন ক্লাব সতীর্থ কাসেমিরো। এই অভিজ্ঞ ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডারের মতে, ফুটবলার হিসেবে মেসি এখনও সেরাই আছেন।

রোববার ফ্লোরিডার এনইউ স্টেডিয়ামে মেজর সকার লিগের (এমএলএস) ম্যাচে ৭-১ গোলে মন্ট্রিয়লকে গুঁড়িয়ে দিয়ে জয়ে ফিরেছে মায়ামি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে আগের পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই হেরেছিল তারা, ড্র করেছিল বাকিটি। ঘরের মাঠে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ রেখে চার গোলের পাশাপাশি একটি অ্যাসিস্ট করেছেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি।

মায়ামির অধিনায়কের প্রশংসায় পঞ্চমুখ কাসেমিরো ম্যাচের পর বলেন, দলে মেসি থাকার মানে হলো এমন মোহনীয় পারফরম্যান্সের সাক্ষী হওয়া, ‘দলে মেসি থাকার অর্থ এটাই। আমাদের এই মুহূর্তগুলো উপভোগ করতে হবে, কারণ সে এমন একজন মানুষ এবং এমন একজন খেলোয়াড়, যে ইতিহাস গড়ে।’

২০২৩ সালে মায়ামির ডেরায় যোগ দেওয়ার পর এমএলএসে এই প্রথম কোনো ম্যাচে চার গোল করলেন মেসি। প্রথমার্ধে একবার ও দ্বিতীয়ার্ধে তিনবার জাল খুঁজে নেন এই বিশ্বকাপজয়ী ফরোয়ার্ড। দুটি এসেছে ফ্রি-কিক থেকে, বাকি দুটির একটি তিনজনকে কাটিয়ে দর্শনীয় কায়দায়। মেসির সামর্থ্য সবার ভালোমতো জানা থাকলেও এই বয়সে এমন কিছু করে দেখানো বিস্ময় তৈরি করতে বাধ্য। পেশাদার ক্যারিয়ারে এই নিয়ে নয়বার এক ম্যাচে চার বা এর চেয়ে বেশি গোল করলেন তিনি।

২০২২ সালে কাতারের মাটিতে বিশ্বকাপ জয়ের পর সবশেষ ২০২৬ সালের আসরেও মেসির কাঁধে চড়ে ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাদের। সেদিন নিষ্প্রভ থাকলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসি আটটি গোলের সঙ্গে চারটি অ্যাসিস্ট করেছিলেন।

মেসিকে সেরার তকমা দিয়ে কাসেমিরো বলেন, ‘আমরা আজ দেখলাম, আমাদের এটি উপভোগ করতে হবে, তাকে সমর্থন দিয়ে যেতে হবে এবং তার পাশাপাশি প্রতিযোগিতা চালিয়ে যেতে হবে। কারণ সে এখনও সেরাই আছে। সে বিশ্বকাপে তা প্রমাণ করেছে। আমাদের এটি উপভোগ করতে হবে, কারণ তাকে নিয়ে আমরা অনেক বেশি শক্তিশালী।’

গত জুলাইতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছেড়ে মায়ামিতে নাম লেখান ৩৪ বছর বয়সী কাসেমিরো। সতীর্থ হওয়ার আগে ক্লাব পর্যায়ে লম্বা সময় তারা ছিলেন একে অপরের চরম প্রতিদ্বন্দ্বী। স্প্যানিশ লা লিগায় মেসি বার্সেলোনায় ও কাসেমিরো রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে খেলতেন।

এদিন মন্ট্রিয়লের বিপক্ষে স্বাগতিকদের গোল উৎসবের শুরুটা হয় কাসেমিরোর মাধ্যমে। ২০তম মিনিটে কর্নার থেকে হেড করে জাল কাঁপান তিনি। মায়ামির হয়ে এটি তার প্রথম গোল। এরপর ৩৭তম মিনিটে স্কোরলাইন ১-১ করে সফরকারীরা ম্যাচে ফেরার আভাস দিলেও তা ধূলিসাৎ করে দেন মেসি। ১৮ গোল নিয়ে এমএলএসের চলমান মৌসুমের গোলদাতাদের তালিকায় শীর্ষে উঠে গেছেন তিনি।

২২ ম্যাচে ৪২ পয়েন্ট নিয়ে এমএলএসের ইস্টার্ন কনফারেন্সের পয়েন্ট তালিকায় দুইয়ে আছে মায়ামি। শীর্ষে থাকা ন্যাশভিল এসসি অবশ্য বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। সমান ম্যাচ খেলে তারা অর্জন করেছে ৫২ পয়েন্ট।