বাবার মৃত্যুর পর প্রথমবার গোল পেলেন মেসি
বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর পর তৃতীয় ম্যাচ খেলতে নেমে প্রথমবারের মতো জাল খুঁজে নিলেন লিওনেল মেসি। তবে আর্জেন্টিনার এই মহাতারকার গোল সত্ত্বেও জয়ের দিশা পেল না ইন্টার মায়ামি।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সকালে মেজর সকার লিগের (এমএলএস) অ্যাওয়ে ম্যাচে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে মায়ামি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা তিন হারের পর এটি তাদের প্রথম পয়েন্ট।
ম্যাচের একাদশ মিনিটে ইন্ডিয়ানা ভাসিলেভের গোলে ফিলাডেলফিয়া এগিয়ে যাওয়ার ১০ মিনিট পর সমতা টানেন ড্যানিয়েল পিন্টার। এর পাঁচ মিনিট পর মায়ামিকে লিড এনে দেন ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী মেসি।
পেনসিলভানিয়া সুবারু পার্কে প্রথমার্ধের ২৬তম মিনিটে ডি-বক্সে বল পেয়ে নিজের সামর্থ্যের ছাপ রাখেন মেসি। বাঁ পায়ের কারুকাজে প্রতিপক্ষের একজনকে কাটিয়ে কোণাকুণি শটে জাল কাঁপান তিনি। গোলরক্ষকের তাকিয়ে দেখা ছাড়া যেন কিছুই করার ছিল না তখন।
গোলের পর হাসিমুখে উদযাপন করতে দেখা যায় মেসিকে। তাকে তখন ঘিরে ধরেন সতীর্থরা। চলতি এমএলএসে এটি তার ১৩তম গোল। ১৬ গোল নিয়ে এগিয়ে আছেন কেবল এফসি ডালাসের স্ট্রাইকার পিটার মুসা।
গত ৮ আগস্ট পরলোকগমন করেন মেসির বাবা। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। এর কদিন পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রয়াত বাবাকে উদ্দেশ্য করে আবেগঘন খোলা চিঠিতে মেসি লিখেছিলেন, ‘বাবা, তুমি চলে গিয়েছ— এখনও আমি বিশ্বাস করতে পারছি না। এখনও আমার কাছে এটা বাস্তব মনে হচ্ছে না কিংবা হয়তো আমি মানতেই চাইছি না। এটা ভাবা আমার জন্য খুব কঠিন যে, তোমাকে আর কখনো দেখতে পাব না, তোমার সঙ্গে আর কথা বলতে পারব না।’
বিরতির পর ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে স্কোরলাইন ২-২ করেন নিল পিয়েরে। বাকি সময়ে চেষ্টা চালালেও কোনো দলই পায়নি জয়সূচক গোলের দেখা। ফলে মেসিদের জয়হীন থাকার হতাশার ধারা বেড়ে চার ম্যাচ হলো।
বল দখলে পিছিয়ে থাকলেও ফিলাডেলফিয়াই আক্রমণে দাপট দেখায়। গোলমুখে তাদের নেওয়া ১৭টি শটের ছয়টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে, মায়ামি মাত্র পাঁচটি শট নিয়ে তিনটি লক্ষ্যে রাখে।
কোনো দলই অবশ্য পুরো ১১ জন নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি। যোগ করা সময়ে একটি ফাউলকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় উত্তপ্ত পরিস্থিতি। এরপর ফিলাডেলফিয়ার কাভান সুলিভান ও মায়ামির ইয়ানিক ব্রাইটকে লাল কার্ড দেখান রেফারি।
এমএলএসের ইস্টার্ন কনফারেন্সের পয়েন্ট তালিকায় আগের মতোই দুইয়ে রয়েছে মায়ামি। ২০ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৩৯। সমান ম্যাচে ৪৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ন্যাশভিল এসসি।
উল্লেখ্য, কৈশোরে আর্জেন্টিনা ছেড়ে স্পেনের বার্সেলোনায় পাড়ি জমানোর প্রথম দিকের বছরগুলো থেকে শুরু করে ছেলের পুরো ক্যারিয়ারেই ছায়ার মতো নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন হোর্হে। মেসির অত্যন্ত ভরসার জায়গা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তার। বেশ কয়েক বছর ছেলের এজেন্ট হিসেবেও দেখা গিয়েছিল তাকে।

