অবশেষে ফিফার নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত আবাহনী

স্পোর্টস ডেস্ক

দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে স্বস্তির খবর পেল আবাহনী লিমিটেড। ফিফার দেওয়া নিবন্ধন নিষেধাজ্ঞা থেকে পুরোপুরি মুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি। ফলে আসন্ন মৌসুমে দেশের শীর্ষ ফুটবলে অংশ নেওয়ার পথও পরিষ্কার হয়েছে ছয়বারের বাংলাদেশ ফুটবল লিগ চ্যাম্পিয়নদের।

গত মৌসুমে লিগে রানার্সআপ হয়েছিল আবাহনী। তবে তিন বিদেশি ফুটবলারের বকেয়া পারিশ্রমিক সংক্রান্ত অভিযোগের কারণে গত বছর ফিফা ক্লাবটির ওপর তিন দফায় নিবন্ধন নিষেধাজ্ঞা দেয়।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর। ওই তিন বিদেশি ফুটবলার বাংলাদেশে না এলেও তৎকালীন ক্লাব ব্যবস্থাপনা তাদের সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল করে। পরে তারা ফিফার কাছে অভিযোগ করেন বকেয়া অর্থ পরিশোধ করা হয়নি।

গত মাসেই তিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যে দুটি তুলে নিতে সক্ষম হয়েছিল আবাহনী। কিন্তু তৃতীয় ও শেষ নিষেধাজ্ঞাটি কাটাতে বেশ কিছুদিন ধরে জটিলতায় পড়তে হয় ক্লাবটিকে। বড় একটি অংশের অর্থ পরিশোধ করার পরও সিরিয়ান এক খেলোয়াড় দাবি করছিলেন, নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা হয়নি।

শেষ পর্যন্ত সেই জটিলতাও কাটিয়ে উঠেছে আবাহনী। ফিফার নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় এখন নতুন মৌসুমের দল গঠনের কাজ শুরু করতে আর কোনো বাধা থাকল না।

এর আগে আবাহনীর ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রূপু জানিয়েছিলেন, শেষ নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেই ক্লাব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন মৌসুমের জন্য খেলোয়াড়দের সঙ্গে চুক্তি করার প্রক্রিয়া শুরু করবেন তারা।

গত মৌসুমে আবাহনীর হয়ে খেলা অধিকাংশ ফুটবলারও ক্লাবটির নিষেধাজ্ঞা ওঠার অপেক্ষায় ছিলেন। নতুন মৌসুমেও তাদের অনেকেই আবাহনীর হয়ে খেলতে আগ্রহী বলে জানা গেছে।

আবাহনীর নিষেধাজ্ঞা কাটার পর এখন একই সমস্যায় থাকা আরেক শীর্ষ ক্লাব বসুন্ধরা কিংসও অপেক্ষায়। পাঁচবারের লিগ চ্যাম্পিয়নদের ১৪টি নিবন্ধন-সংক্রান্ত মামলার মধ্যে চারটির সমাধান হয়েছে। বাকি নিষেধাজ্ঞাগুলো কাটাতে তারা গতকাল আরও সাত কার্যদিবস সময় চেয়েছে।

এদিকে ফকিরেরপুল ইয়ং মেন্স ক্লাবের বিষয়ে এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি। দুইটি অর্থ পরিশোধ সংক্রান্ত মামলার কারণে ক্লাবটিও ফিফার নিবন্ধন নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।