ডিপিএলে ফিরেই মুশফিক, তাইজুল ও শান্তর দুর্দান্ত পারফরম্যান্স
চলমান ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের (ডিপিএল) সপ্তম রাউন্ডের ম্যাচে শনিবার বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে গুলশান ক্রিকেট ক্লাবকে ২৩৭ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। সেখানে বড় ভূমিকা রেখেছেন দলে ফেরা দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম ও তাইজুল ইসলাম। এই জয়ের মাধ্যমে ঈদ উপলক্ষে বিরতির আগে পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষস্থান মজবুত করেছে মোহামেডান।
ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাম্প্রতিক টেস্ট সিরিজ জয়ে দুর্দান্ত নৈপুণ্য উপহার দেন মুশফিক ও তাইজুল। সেই ছন্দ তারা ঘরোয়া মঞ্চেও ধরে রেখেছেন।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ৩৪৫ রানের পাহাড় গড়ে মোহামেডান। মিডল অর্ডারের ভরসা মুশফিক ৬২ বলে ৭২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। এছাড়া, তাওহিদ হৃদয় ৮৬ ও আফিফ হোসেন ৫৫ রান করেন।
এরপর বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নামা গুলশানকে মাত্র ১০৮ রানেই গুটিয়ে দেয় মোহামেডান। বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ২৬ রান দিয়ে নেন ৫ উইকেট। আরেক বাঁহাতি স্পিনার তানভীর ইসলাম ৩৭ রান খরচায় শিকার করেন ৪ উইকেট। গুলশানের ইনিংস স্থায়ী হয় মাত্র ৩৩.২ ওভার। সাত ম্যাচে মোহামেডানের এটি ষষ্ঠ জয়।
মুশফিক ও তাইজুলের মতো বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও ডিপিএলে ফিরে নিজের জাত চেনান। ইউল্যাব ক্রিকেট মাঠে অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। সাতটি করে চার ও ছক্কার সাহায্যে খেলেন ৯০ বলে অপরাজিত ১০৮ রানের ইনিংস। তার ব্যাটে ভর করে শিরোপাধারী আবাহনী লিমিটেড ৯ উইকেটের বড় জয় পেয়েছে।
১৭৯ রানের মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আবাহনী শুরুতেই ওপেনার জিশান আলমকে হারায়। তবে শান্ত ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের (অপরাজিত ৫৬) অবিচ্ছিন্ন ১৭১ রানের জুটিতে মাত্র ৩১.৪ ওভারেই দলটি খেলা শেষ করে দেয়। এই জয়ে সাত ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে নেট রান রেটের ব্যবধানে পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে তারা।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিং বেছে নেওয়া অগ্রণী ব্যাংককে নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ৪২.১ ওভারে ১৭৮ রানেই অলআউট করে আবাহনী। তাদের পক্ষে ৫৮ বলে সর্বোচ্চ ৫৬ রান করেন নাসির হোসেন।
এদিকে, দিনের সবচেয়ে বড় অঘটনটি ঘটেছে বিকেএসপিতে। সেখানে সিটি ক্লাবের কাছে ১৯ রানে হেরে গেছে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। টানা পাঁচ ম্যাচ জয়ের পর এটি তাদের টানা দ্বিতীয় পরাজয়।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে এনামুল হক এনামের ৯৭ বলে অপরাজিত ১০৩ রানের ওপর ভর করে ৭ উইকেটে ২৬৬ রান সংগ্রহ করে সিটি ক্লাব। জবাবে আজিজুল হাকিম তামিম ৯৮ বলে ৯৫ রান করলেও তা যথেষ্ট হয়নি প্রাইম ব্যাংকের জন্য। সিটি ক্লাবের পেসার এনামুল হক আশিক নেন ৪১ রানে ৫ উইকেট। তার চমৎকার বোলিংয়ের নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৪৭ রানেই আটকে যায় প্রাইম ব্যাংক।
এদিন মাঠে গড়িয়েছে আর তিনটি ম্যাচ। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে ইরফান শুক্কুরের ৭৫ বলে অপরাজিত ১২৭ রানের বিস্ফোরক ইনিংসের কল্যাণে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে হাই-স্কোরিং লড়াইয়ে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে ৭ রানে হারিয়েছে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স। জয়ীদের পক্ষে ফজলে মাহমুদ সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে করেন ১১৩ বলে ১৩২ রান।
এছাড়া, বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে মো. আব্দুল্লাহর ১২৮ বলে অপরাজিত ১০০ রানের ইনিংস বৃথা গেছে। কারণ, রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাব ৩০ রানে হেরে গেছে ঢাকা লেপার্ডসের কাছে।