এমবাপের জাদুতে মরক্কোর স্বপ্নভঙ্গ, সেমিফাইনালে ফ্রান্স

স্পোর্টস ডেস্ক

পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হওয়ার পর মনে হচ্ছিল, দিনটা বুঝি কিলিয়ান এমবাপের নয়। তবে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা এই তারকা আবারও দেখালেন, একটি ভুল তাকে থামিয়ে রাখতে পারে না। দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে গোল করে এগিয়ে দেন ফ্রান্সকে। এরপর করালেন আরও একটি। তার নৈপুণ্যেই মরক্কোর টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স।

বোস্টনের স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাতে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়েছে গত দুই বিশ্বকাপের ফাইনালিস্টরা। ফ্রান্সের জয়ে একটি গোল করেন এমবাপে, অন্য গোলটি আসে উসমান দেম্বেলের পা থেকে।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে আধিপত্য ছিল ফ্রান্সের। তবে মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো একের পর এক দুর্দান্ত সেভে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। তবে প্রথমার্ধেই নুসাইর মাজরাউইয়ের ফাউলে পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। মাইকেল অলিসের নিখুঁত পাস ধরে গতি বাড়িয়ে বক্সে ঢুকতেই ফাউলের শিকার হন এমবাপে। তবে স্পটকিক থেকে নিচু শট নিলে দারুণ দক্ষতায় তা ঠেকিয়ে দেন বুনো।

শুধু পেনাল্টিই নয়, প্রথমার্ধে আরও কয়েকটি দারুণ সুযোগ তৈরি করেছিল ফ্রান্স। দেজিরে দুয়ের শট ঠেকান বুনু, লুকা দিঁনের চিপ ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। বলের দখলেও সামান্য এগিয়ে ছিল মরক্কো (৫০.৯ শতাংশ), কিন্তু পুরো প্রথমার্ধে তারা একটি শটও নিতে পারেনি। ফ্রান্সই তৈরি করেছিল পাঁচটি পরিষ্কার গোলের সুযোগ।

বিরতির পর আর ভুল করেনি দিদিয়ের দেশমের দল। ৬০তম মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে ডান পায়ের ভেতরের অংশে নেওয়া এমবাপের অসাধারণ বাঁকানো শট জড়িয়ে যায় দূরের কোণে। বুনোর কোনো সুযোগই ছিল না বলটি ঠেকানোর।

এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা দাঁড়াল আটে। এতে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির সমান গোল করলেও বেশি অ্যাসিস্ট থাকায় শীর্ষে উঠে গেছেন ফরাসি অধিনায়ক।

একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড়ও জমে উঠেছে। ২৭ বছর বয়সী এমবাপ্পের বিশ্বকাপ গোল এখন ২০টি, আর ৩৯ বছর বয়সী মেসির ঝুলিতে রয়েছে রেকর্ড ২১ গোল।

এর ছয় মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বর্তমান ব্যালন ডি'অরজয়ী দেম্বেলে। মরক্কোর রক্ষণভাগ ভেদ করে নিচু শটে গোল করেন তিনি। বুনো বল ছুঁতে পারলেও তা জালে জড়ানো ঠেকাতে পারেননি।

ফ্রান্সের আক্রমণে এদিন বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন দেজিরে দুয়ে। তরুণ এই ফরোয়ার্ড ছিলেন সৃজনশীল, বারবার তৈরি করেছেন সুযোগ। অন্যদিকে বিশ্বকাপের অন্যতম আবিষ্কার ১৮ বছর বয়সী আইয়ুব বুয়াদ্দি ৬১ মিনিটে ক্লান্ত হয়ে মাঠ ছাড়েন। কোচের রক্ষণাত্মক কৌশলে অনেকটা সময় নিজের স্বাভাবিক খেলাটাও খেলতে পারেননি তিনি।

তবে ফরাসি শিবিরে শেষদিকে কিছুটা দুশ্চিন্তাও দেখা দেয়। ৭৬তম মিনিটে ডান গোড়ালিতে অস্বস্তি অনুভব করায় এমবাপেকে তুলে নেন দেশম। মরক্কোর ইসা দিয়োর শক্ত ট্যাকলের পর থেকেই খুঁড়িয়ে চলছিলেন তিনি। সেমিফাইনালের কথা মাথায় রেখেই হয়তো ঝুঁকি নিতে চাননি ফরাসি কোচ।

মরক্কো শেষদিকে কয়েকটি আক্রমণ গড়লেও তা থেকে গোল আদায় করতে পারেনি। এল আইনাউইয়ের হেড অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়, আর উনাহির একটি প্রচেষ্টা রুখে দেন মাইক মেনিয়ান।

দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স সেমিফাইনালে আগামী মঙ্গলবার ডালাসে স্পেন ও বেলজিয়ামের মধ্যকার কোয়ার্টার-ফাইনালের বিজয়ীর মুখোমুখি হবে।