‘শিরোপার স্বপ্ন বেঁচে আছে’, বললেন আর্সেনাল কোচ
ফুলহামকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে প্রিমিয়ার লিগ জয়ের স্বপ্ন ভালোভাবেই বাঁচিয়ে রেখেছে আর্সেনাল। গানারদের বস মিকেল আর্তেতা মনে করেন, এই জয় তার শিষ্যদের শিরোপার লড়াইয়ে থাকার নতুন রসদ জোগাবে।
ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের আর্তেতা বলেন, ‘এই জয় আমাদের ড্রেসিংরুমকে বার্তা দিচ্ছে যে, আমাদের স্বপ্ন এখনো বেঁচে আছে। ছেলেরা শুধু এখন নয়, বরং পুরো মৌসুমজুড়ে যা করেছে তা সত্যিই অসাধারণ। অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে, বিশেষ করে চোটের কারণে নিয়মিত খেলোয়াড়দের ছাড়াই তারা যেভাবে একের পর এক ম্যাচ জিতেছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে।’
ফুলহামের বিপক্ষে প্রথমার্ধেই ম্যাচ নিজেদের পকেটে পুরে নেয় আর্সেনাল। চোট কাটিয়ে ফেরা বুকায়ো সাকার দারুণ ছন্দ আর গ্রীষ্মকালীন সাইনিং ভিক্টর গিওকেরেসের বিধ্বংসী পারফরম্যান্সে খড়কুটোর মতো উড়ে যায় প্রতিপক্ষ। গানারদের হয়ে গিওকেরেস সম্ভবত তার ক্যারিয়ারের সেরা ম্যাচটিই খেলেছেন এদিন।
অথচ গত মার্চ মাসটি আর্সেনালের জন্য ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। লিগ কাপের ফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে হার এবং এরপর এফএ কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে দ্বিতীয় স্তরের দল সাউদাম্পটনের কাছে হেরে তাদের ট্রেবল জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যায়। লিগেও টানা দুই ম্যাচ হেরে শীর্ষস্থান খুইয়েছিল তারা। গত সপ্তাহে বার্নলিকে হারিয়ে গত অক্টোবরের পর প্রথমবারের মতো আর্সেনালকে টপকে শীর্ষে ওঠে সিটি।
টানা ব্যর্থতায় আর্তেতার অধীনে দলটির মানসিকতা ও ট্রফি জয়ের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে সব সংশয় উড়িয়ে দিয়ে এবং গত বুধবার অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের ধকল সামলে দাপুটে জয় পেয়েছে গানাররা। এই জয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা আর্সেনাল এখন ৬ পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে গেল।
এমিরেটস স্টেডিয়ামের গ্যালারি ও মাঠের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সংযোগ নিয়ে আর্তেতা বলেন, ‘যখন সমর্থকদের সঙ্গে আমাদের নিবিড় সম্পর্ক তৈরি হয়, তখন আমরা অনেক ভালো খেলি। আমি জানি এই ইতিবাচক পরিবেশ তৈরির দায়িত্ব আমাদেরই।’
মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়নস লিগে অ্যাটলেটিকোর বিপক্ষে ফিরতি লেগের কথা মাথায় রেখে বিরতির পরই সাকাকে তুলে নেন আর্তেতা। পরে গিওকেরেস ও ডিক্লান রাইসকেও বিশ্রাম দেন তিনি। আর্তেতার মতে, এটি ছিল চলতি মৌসুমে তাদের অন্যতম সেরা প্রথমার্ধ।
মঙ্গলবারের লড়াইয়ের আগে এই জয়ের আত্মবিশ্বাস কাজে লাগাতে চান আর্তেতা, ‘মঙ্গলবারের ম্যাচের জন্য এই ছন্দ ও বিশ্বাস আমাদের খুব প্রয়োজন। ড্রেসিংরুমের পরিবেশ দেখে মনে হচ্ছে আমরা সঠিক পথেই আছি।’