গণমাধ্যমের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ানোর মতো ‘বোকামি’ সরকার করবে না: ডা. জাহেদ
বর্তমান সরকার গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত, তাই তারা গণমাধ্যমের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ানোর মতো বোকামি করবে না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, সরকার গণমাধ্যমের যৌক্তিক সমালোচনা গ্রহণে প্রস্তুত। এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না, যা গণমাধ্যমের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক নষ্ট করে।
বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে আজ রোববার রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ও ইউনেসকোর আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. জাহেদ উর রহমান বলেন, এখন কোনো রকম সেন্সর ছাড়া সরকারের সমালোচনা করা যাচ্ছে—এটি আমাদের প্রতি একটি স্বীকৃতি। আমরা চাই এটি অব্যাহত থাকুক।
তার এই বক্তব্যের জবাবে অনুষ্ঠানে দ্য ডেইলি স্টারের কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ বলেন, সরকার প্রেসকে হস্টাইল করতে চাইবে না, এটা তিনি ভয়ের কথা বলেছেন। কিন্তু এই ভয়টা সবসময় থাকবে না। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে পলিসির কমিটমেন্ট চাই, সরকারকে হস্টিলিটির ভয় দেখাতে চাই না।
তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সুরক্ষা নিশ্চিতে সরকারের নীতিগত অবস্থান চাই। সেই অঙ্গীকার ততক্ষণ পর্যন্ত তারা না করছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আমি কিন্তু তাদেরকে সন্দেহের তালিকায় রাখব, সংশয়ের মধ্যে রাখব।
এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ বলেন, স্কুল পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের জন্য ‘মিডিয়া লিটারেসি’ বা গণমাধ্যম সাক্ষরতা কার্যক্রম চালু করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে আটক সাংবাদিকদের বিষয়ে সরকার অবগত জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। আশা করা হচ্ছে, দ্রুত এই সংকটের সমাধান হবে।
এ ছাড়া নারী সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে সাইবার বুলিং প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি বিশেষ মনিটরিং সেল গঠনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে যাবে বলে হুঁশিয়ারি দেন ডা. জাহেদ।
বিটিভির বিপুল আর্থিক ঘাটতির কথা তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, প্রতিষ্ঠানটির বাজেট ৩২০ থেকে ৩২৫ কোটি টাকা হলেও আয় মাত্র ১৫-১৬ কোটি টাকা।
বিটিভি বন্ধ করে দেওয়ার চিন্তা-ভাবনাও সরকার করছে বলে জানান তিনি।
ড. জাহেদ বলেন, বন্ধ না করলেও টেলিভিশনটি এমনভাবে ব্যবহার করা হবে, যা জনগণের কল্যাণে আসবে। জনগণের অর্থের অপচয় রোধ এবং বিটিভি ও বেতারকে সত্যিকার অর্থে জনকল্যাণমুখী করতে সরকার কাজ করছে।
একইসঙ্গে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সঙ্গে খুব শিগগির বৈঠক করে দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য পদক্ষেপগুলো নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
সংবাদপত্রের সার্কুলেশন বা প্রচার সংখ্যা নিয়ে থাকা কারচুপির বিষয়ে মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, কীভাবে সঠিক সার্কুলেশন ডেটা পাওয়া যায়, তার ইমপ্যাক্ট সরকার খতিয়ে দেখবে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মূলধারার গণমাধ্যমের নামে ছড়ানো ভুয়া খবর (ফেক নিউজ) ও ফটোকার্ডের বিরুদ্ধে ন্যায্যতার ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
এ বছরের ‘ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স’ বা বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানের অবনতি প্রসঙ্গে ড. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘এটি বিগত সরকারের আমলনামা, বর্তমান সরকারের নয়।’
আগামী বছর সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান আরও ভালো হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।