চোটে বিশ্বকাপ শেষ একিতিকের!
অ্যাকিলিস টেন্ডন ছিঁড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় লিভারপুলের স্ট্রাইকার হুগো একিতিকে আগামী কয়েক মাস আর মাঠে নামতে পারবেন না বলে ধারণা করা হচ্ছে। চোটের ধরন গুরুতর হওয়ায় ফ্রান্সের ২৩ বছর বয়সী এই তারকার সেরে উঠতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপ মিস করবেন এবং আগামী মৌসুমেরও অনেকটা সময় তাকে মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে পিএসজির বিপক্ষে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন একিতিকে। প্রথমার্ধেই তাকে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। আজ বুধবারের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার চোটের প্রকৃত অবস্থা নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে আমেরিকান সংবাদমাধ্যম 'দ্য অ্যাথলেটিক' জানিয়েছে, তার অ্যাকিলিস টেন্ডন (একটি শক্তিশালী ও তন্তুময় রজ্জু, যা পায়ের পেছনের দিকের পেশির সাথে গোড়ালির হাড়ের সংযোগ স্থাপন করে) সম্ভবত ছিঁড়ে গেছে।
একিতিকের চোট নিয়ে ম্যাচ শেষে লিভারপুলের প্রধান কোচ আর্নে স্লট বলেন, 'পরিস্থিতি খুব একটা ভালো মনে হচ্ছে না। চোট কতটা গুরুতর তা এখনই বলা কঠিন। আগামীকাল (বুধবার) আমরা এটি আরও বিস্তারিত পরীক্ষা করব। দেখা যাক কী হয়।'
তিনি যোগ করেন, 'এবারের মৌসুমে (এই ম্যাচের আগ পর্যন্ত) আমরা নতুন চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড় আলেক্স (আলেক্সান্দার ইসাক), ফ্লোরিয়ান (ভিরৎজ) ও হুগোকে একসাথে মাত্র ৮৮ মিনিট খেলাতে পেরেছি। আজ (মঙ্গলবার) রাতে আরও ২৭ মিনিট তারা একসাথে খেলেছে। এই মৌসুমে তাদের আর একসাথে দেখা গেলে আমি অবাকই হব।'
পিএসজির সাবেক খেলোয়াড় একিতিকে গত গ্রীষ্মকালীন দলবদলে আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে লিভারপুলে যোগ দেন। স্লটের অধীনে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৫ ম্যাচে অংশ নিয়ে তিনি ১৭টি গোল করেছেন। ফ্রান্স জাতীয় দলের হয়ে আটটি ম্যাচ খেলা এই ফুটবলার ফিট থাকলে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে কোচ দিদিয়ের দেশমের স্কোয়াডে থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছিল।
ম্যাচের পর একিতিকের ক্লাব ও জাতীয় দলের সতীর্থ ইব্রাহিমা কোনাতে বলেন, 'সত্যি বলতে, আমার মনে হয়, চোটটা বেশ গুরুতর। আমি অনেক কথাই শুনেছি। এ নিয়ে কথা বলার মতো ভাষা আমার নেই। সামনেই বিশ্বকাপ, এই সময়ে এমন চোট তার জন্য খুবই কষ্টের। আমি তার জন্য প্রার্থনা ও শুভকামনা জানাই।'
সবচেয়ে খারাপ আশঙ্কাই যদি সত্যি হয়, তবে একিতিকের দীর্ঘ অনুপস্থিতি লিভারপুলের জন্য এক বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়াবে। অ্যানফিল্ডে নিজের অভিষেক মৌসুমে তার দুর্দান্ত ফর্ম ছিল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবটির এই দুঃসহ মৌসুমের হাতেগোনা ইতিবাচক দিকগুলোর একটি। দলের সবচেয়ে ধারালো ফরোয়ার্ড হিসেবে স্লটের শিষ্যদের মধ্যে একমাত্র তিনিই লিগে গোলের সংখ্যা দুই অঙ্কে নিয়ে যেতে পেরেছেন।