ছয় ম্যাচে তৃতীয় হার, শিরোপার দৌড়ে বড় ধাক্কা খেল রিয়াল

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রথমার্ধের শেষদিকে মানু মোরলানেসের গোলে পিছিয়ে পড়া রিয়াল মাদ্রিদ সমতায় ফিরল নির্ধারিত সময়ের দুই মিনিট বাকি থাকতে। এদার মিলিতাওয়ের লক্ষ্যভেদে পাওয়া সুযোগ অবশ্য কাজে লাগাতে পারল না তারা। বরং ম্যাচের একদম শেষদিকে ফের জাল কাঁপিয়ে লস ব্লাঙ্কোদের স্তব্ধ করে দিল দুর্বল মায়োর্কা। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে চমক জাগিয়ে লড়াইয়ে ব্যবধান গড়ে দিলেন ভেদাত মুরিচি।

শনিবার রাতে স্প্যানিশ লা লিগায় প্রতিপক্ষের মাঠে ২-১ গোলে হেরেছে রিয়াল। এবারের আসরে নিজেদের সবশেষ ছয় ম্যাচে আলভারো আরবেলোয়ার শিষ্যদের এটি তৃতীয় হার। ওসাসুনা ও গেতাফের কাছে পরাজয়ের পর টানা তিন ম্যাচ জিতেছিল তারা। সেই যাত্রা থামিয়ে দিয়েছে এই ম্যাচের আগে পয়েন্ট তালিকার অবনমন অঞ্চলে (১৮ নম্বরে) থাকা মায়োর্কা।

অপ্রত্যাশিত এমন হারে লিগ শিরোপা পুনরুদ্ধারের দৌড়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে রিয়াল। পয়েন্ট তালিকার দুইয়ে থাকা দলটির অর্জন ৩০ ম্যাচে ৬৯ পয়েন্ট। তাদের চেয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ও লা লিগার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা এগিয়ে আছে ৪ পয়েন্টে। এক ম্যাচ কম খেলে তারা পেয়েছে ৭৩ পয়েন্ট। অন্যদিকে, দারুণ জয়ে ৩০ ম্যাচ খেলে ৩১ পয়েন্ট নিয়ে মায়োর্কা উঠে এসেছে ১৭তম স্থানে।

আগামী মঙ্গলবার রাতে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের কথা মাথায় রেখে আরবেলোয়া ভিনিসিউস জুনিয়রকে বেঞ্চে রেখেই একাদশ সাজান। তবে প্রথমার্ধে রিয়ালকে বেশ ম্লান দেখায় এবং তারা খুব কম সুযোগই তৈরি করতে পারে। সেরা সুযোগটি পান লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা কিলিয়ান এমবাপে, যিনি হাঁটুর চোট থেকে সেরে উঠে এদিন মাঠে নামেন।

প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে ফাটল ধরিয়ে আরদা গুলের একটি বল বাড়ান এমবাপের জন্য। কিন্তু লিও রোমান পা দিয়ে ফরাসি তারকার প্রচেষ্টা প্রতিহত করেন। এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার পাস থেকে বল পেয়ে তার আরও একটি শট স্বাগতিকদের গোলরক্ষক আটকে দেন। এরপর অ্যান্টনিও রুডিগারের হেডে বল জালের ওপর দিয়ে বাইরে চলে যায়।

মায়োর্কার মোরলানেসের জোরাল হেড ক্রসবারের সামান্য ওপর দিয়ে যায়। কিন্তু রিয়াল সেই সতর্কবার্তায় কান দেয়নি। কিছুক্ষণ পরেই এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। ৪২তম মিনিটে কামাভিঙ্গাকে ফাঁকি দিয়ে বক্সে ঢুকে পাবলো মাফেওর ক্রস থেকে গোলরক্ষক আন্দ্রেই লুনিনকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সমতার খোঁজে মরিয়া হয়ে ওঠে সফরকারীরা। আবারও এমবাপের সামনে বাধার দেয়াল হয়ে দাঁড়ান রোমান। এরপর আরবেলোয়া মাঠে নামান ভিনিসিউস ও জুড বেলিংহ্যামকে। পাশাপাশি গত ডিসেম্বর থেকে চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকা মিলিতাওকেও চলতি বছর প্রথমবারের নামানো হয়।

রিয়ালকে কাঙ্ক্ষিত গোল এনে দেন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার মিলিতাওই। ট্রেন্ট অ্যালেকজান্ডার-আর্নল্ডের একটি বাঁকানো কর্নার থেকে তিনি দুর্দান্ত হেডে জাল কাঁপিয়ে দলকে সমতায় ফেরান। তবে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে তাদের জন্য বড় ধাক্কা অপেক্ষা করছিল। লা লিগার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা মুরিচি ৯১তম মিনিটে লুনিনকে পরাস্ত করে মায়োর্কার পূর্ণ পয়েন্ট প্রাপ্তি নিশ্চিত করেন।