বিশ্বকাপে ফোডেনের খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তার সুর টুখেলের কণ্ঠে

স্পোর্টস ডেস্ক

ইংল্যান্ডের হয়ে ফের নিজের চেনা ছন্দ খুঁজে পেতে ব্যর্থ হওয়ায় ফিল ফোডেনের আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপের দলে থাকা 'নিশ্চিত নয়'। ম্যানচেস্টার সিটির এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারকে নিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন থ্রি লায়ন্সদের কোচ থমাস টুখেল।

গত মঙ্গলবার ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে জাপানের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে চোটগ্রস্ত হ্যারি কেইনের অনুপস্থিতিতে আক্রমণভাগের কেন্দ্রে খেলেন ফোডেন। তবে নতুন ও অপরিচিত ভূমিকায় রীতিমতো খাবি খেতে দেখা যায় তাকে। তার দুর্দশার রাতে ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নরাও পারেনি, ঘরের মাঠে হেরে গেছে ১-০ গোলে।

চলমান মৌসুমের শুরুতে দুর্দান্ত ফর্মে থাকলেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ম্যান সিটিতে ভুগছেন ফোডেন। ক্লাবটির শুরুর একাদশেও অনিয়মিত হয়ে পড়েছেন ২৫ বছর বয়সী এই তারকা। তার পারফরম্যান্স প্রসঙ্গে টুখেল বলেন, 'সে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছে। আমি বলব, অনুশীলন ক্যাম্পে সে দুর্দান্ত ছিল। কিন্তু মাঠের ফুটবলে সেই ছাপ রাখতে সে ধুঁকছে।'

ইংলিশদের কোচ যোগ করেন, 'এটা স্পষ্ট যে, সম্প্রতি সিটির হয়ে সে খুব বেশি সময় মাঠে পায়নি। এরপর যখন সে জাতীয় দলের ক্যাম্পে এলো, তার মুখে ছিল চওড়া হাসি এবং অনুশীলনেও সে ছিল অসাধারণ। আমি ভেবেছিলাম, সে আমাদের চমকে দেবে এবং সেই পুরবো উদ্যম ও উত্তেজনা নিয়ে খেলবে। তবে মাঠে পূর্ণ প্রভাব বিস্তার করতে সে রীতিমতো লড়াই করছে।'

ম্যান সিটির হয়ে প্রিমিয়ার লিগের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার (২০২৩-২৪ মৌসুমে) জিতলেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে ওই ফর্মের প্রতিফলন খুব কমই ঘটাতে পেরেছেন ফোডেন। এমনকি ইংল্যান্ডের ২০২৪ ইউরোর ফাইনালে ওঠার পথেও তার পারফরম্যান্স ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। এবারের বিশ্বকাপের স্কোয়াডে অ্যাটাকিং মিডফিল্ড পজিশনের জন্য তাকে জুড বেলিংহ্যাম, কোল পালমার ও মরগান রজার্সের মতো তারকাদের সঙ্গে কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হচ্ছে। ফর্মহীন কোনো খেলোয়াড়কে দলে রাখা হবে কি না জানতে চাওয়া হবে জার্মান কোচ টুখেল সোজাসুজি বলেন, 'তার দলে থাকার কোনো নিশ্চয়তা নেই।'

জাপানের বিপক্ষে এই হারটি ইংল্যান্ডের কোচ হিসেবে ১২ ম্যাচে টুখেলের দ্বিতীয় পরাজয়। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরের বেশি সময় পার হলেও ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ বিশের ভেতর থাকা কোনো দলকেই এখনও হারাতে পারেনি তার শিষ্যরা। আর গত সপ্তাহে হওয়া প্রীতি ম্যাচে উরুগুয়ের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছিল তারা।

তবুও ১৯৬৬ সালের পর বড় কোনো শিরোপার জন্য ইংল্যান্ডের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান চলতি গ্রীষ্মেই ঘটবে বলে আত্মবিশ্বাসী টুখেল। চেলসির সাবেক এই কোচ বলেন, 'আমরা আমাদের স্বপ্ন থেকে বিচ্যুত হব না। "কেন নয়?"— এই প্রশ্নটি আমরা বয়ে বেড়াব। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, খেলোয়াড়রা তাদের ক্লাবে ফিরবে এবং মৌসুমটা ভালোভাবে শেষ করবে। এরপর আমরা তাদেরকে বিশ্বকাপ পূর্ববর্তী ক্যাম্পে পাব এবং পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য সঠিকভাবে প্রস্তুত করব।'