অসম্ভবকে সম্ভব করতে চায় বার্সেলোনা

স্পোর্টস ডেস্ক

অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের মাঠে গিয়ে চার চারটি গোল হজম করে ফিরেছে বার্সেলোনা। কোপা দেল রে'র ফাইনাল তাই অনেকটাই ফিকে হয়ে এসেছে। চার গোলের ব্যবধান ঘুচিয়ে জয় তুলে নেওয়া এক প্রকার অসম্ভবই বটে। তবে এই অসম্ভব কাজটাই করতে চান হ্যান্সি ফ্লিক। কঠিন চ্যালেঞ্জ হলেও ইতিহাস গড়ার সুযোগ নিয়ে নিজের দলকে উজ্জীবিত করছেন এই জার্মান কোচ।

ফ্লিক জানেন, সামনে যে কাজটি অপেক্ষা করছে তা সহজ নয়। তবুও হাল ছাড়ার প্রশ্নই নেই। বরং তিনি জোর দিচ্ছেন দলগত ফুটবলে। সাম্প্রতিক ম্যাচে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে দলের বদলে যাওয়া মানসিকতা তাকে আশাবাদী করে তুলেছে। তার ভাষায়, সবাই যদি একসঙ্গে লড়ে, এক ইউনিট হিসেবে খেলে, তবেই মিলবে সাফল্যের চাবিকাঠি।

বিশেষ অনুপ্রেরণার প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন না তিনি। খেলোয়াড়রা নিজেরাই জানে সামনে কী অপেক্ষা করছে। “আমরা অসম্ভবকে সম্ভব করতে চাই। কঠিন জানি, কিন্তু হাল ছাড়ব না,” এভাবেই দলের মানসিকতা তুলে ধরেন ফ্লিক। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন গত মৌসুমে বোরুসিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে ৪-০ ব্যবধানে জয়ের কথা, যা বড় ম্যাচে আত্মবিশ্বাসের জ্বালানি হতে পারে।

সমর্থকদের প্রতিও রয়েছে তার অগাধ আস্থা। তার মতে, গ্যালারির প্রতিটি মানুষই দলের শক্তি। শুধু নির্দিষ্ট অংশ নয়, পুরো স্টেডিয়াম যদি একসঙ্গে দাঁড়ায়, তাহলে সেই শক্তিই পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। যদিও প্রতিপক্ষকে তিনি “দারুণ দল” হিসেবে স্বীকার করেছেন, যারা আগের ম্যাচে বার্সেলোনাকে ভোগান্তিতে ফেলেছিল।

এমন ম্যাচে যেখানে একাধিক গোল করা জরুরি, সেখানে তাড়াহুড়ো আর ঠাণ্ডা মাথার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ফ্লিক। তার মতে, বুদ্ধিদীপ্ত খেলাই এনে দিতে পারে কাঙ্ক্ষিত ফল, তবে তার সঙ্গে থাকতে হবে প্রবল ক্ষুধা, জয়ের ক্ষুধা।

তবে চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন হয়েছে দলের প্রধান গোলদাতা রবার্ট লেভানডোভস্কির চোটে ছিটকে যাওয়ায়। সঙ্গে অনুপস্থিত ফ্রেংকি ডি ইয়ং, গাভি ও আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলাররাও। তবুও ফ্লিক এটিকে দেখছেন নতুনদের জন্য সুযোগ হিসেবে, নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের মঞ্চ।

প্রতিপক্ষের পাল্টা আক্রমণ নিয়েও সতর্ক এই কোচ। তার নির্দেশনা স্পষ্ট, একক লড়াইয়ে জিততে হবে, চাপ সৃষ্টি করতে হবে এবং সর্বোপরি দল হিসেবে খেলতে হবে।

ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা নিয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে চাননি তিনি। তবে লক্ষ্য একটাই, জয়। “আমরা ফাইনালে যেতে চাই, আর জিততে হলে অনেক কিছুই ঠিকভাবে করতে হবে। সবই সম্ভব,” বলেছেন তিনি।

ইনজুরি থেকে সদ্য ফেরা পেদ্রি খেলবেন কি না, সে বিষয়ে কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন ফ্লিক। ম্যাচটির গুরুত্ব স্বীকার করলেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পরিকল্পনা গোপন রাখতে চান তিনি। 

অতীতের দিকে না তাকিয়ে ভবিষ্যতের দিকেই চোখ তার, “ইতিহাস জানা আছে, কিন্তু এখন আমাদের কাজ নিজেদের সেরা ফুটবল খেলাটা উপহার দেওয়া।”