রোজা ভাঙার বিরতিতে দুয়োধ্বনি, ধর্মের প্রতি সম্মানের আহ্বান গার্দিওলার
ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগ প্রিমিয়ার লিগে শনিবারের ম্যাচে এক বিব্রতকর ঘটনার জন্ম দিয়েছে কিছু সমর্থকের আচরণ। লিডস ইউনাইটেড বনাম ম্যানচেস্টার সিটি ম্যাচ চলাকালে মুসলিম ফুটবলারদের রোজা ভাঙার সুযোগ দিতে খেলা সাময়িক থামানো হলে গ্যালারির একাংশ থেকে শোনা যায় দুয়োধ্বনি। ঘটনার পর সকল ধর্ম ও বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন সিটির কোচ পেপ গার্দিওলা।
ম্যাচের ১১তম মিনিটে সূর্যাস্তের সময় হওয়ায় মাঠে থাকা মুসলিম খেলোয়াড়রা যেন ইফতার করতে পারেন, সে জন্য সংক্ষিপ্ত বিরতি দেওয়া হয়। স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হলেও কিছু লিডস সমর্থক তখন অসন্তোষ প্রকাশ করে।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে গার্দিওলা বলেন, “এটা তো আধুনিক বিশ্ব। চারদিকে কী ঘটছে দেখুন। ধর্মকে সম্মান করুন, বৈচিত্র্যকে সম্মান করুন।”
প্রিমিয়ার লিগে গত কয়েক বছর ধরেই এমন বিরতির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। দলগুলোর অধিনায়ক ও রেফারির পারস্পরিক সমঝোতায় গোল কিক, ফাউল বা থ্রো–ইনের মতো স্বাভাবিক বিরতির সময় খেলোয়াড়রা পানি পান বা এনার্জি জেল গ্রহণ করতে পারেন। ২০২১ সালে লেস্টার সিটি ও ক্রিস্টাল প্যালেসের ম্যাচে প্রথম এ ব্যবস্থা চালু হয় এবং ইসলামের পবিত্র মাসে এটি এখন নিয়মিত প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে।
গার্দিওলা আরও বলেন, “ওরা এক–দুই মিনিট সময় দেয়, খেলোয়াড়রা বিষয়টি জানে। আজ যাদের মতো রায়ান চেরকি ও রায়ান এইত-নুরি সারাদিন কিছু খায়নি, তারা সামান্য ভিটামিন নিয়েছে, এতেই বা সমস্যা কোথায়?”
সমর্থকদের দুয়োধ্বনির ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের ফুটবলের প্রধান বর্ণবাদবিরোধী সংস্থা কিক ইট আউট। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, এল্যান্ড রোডে প্রথমার্ধে খেলোয়াড়রা রোজা ভাঙার সময় কিছু সমর্থকের এমন আচরণ “চরম হতাশাজনক” এবং বহু বছর আগে সম্মত হওয়া এই প্রোটোকল মুসলিমদের জন্য ফুটবলকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তোলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে এই ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে, শিক্ষা ও সচেতনতার ক্ষেত্রে ফুটবলের এখনও অনেক পথ পাড়ি দেওয়া বাকি।
ঘটনা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি লিডস ইউনাইটেড। তবে কোচ ড্যানিয়েল ফার্কে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার পর সংবাদ সম্মেলনে দায়িত্ব নেওয়া সহকারী কোচ এডি রিমার বলেন, গ্যালারি থেকে এমন প্রতিক্রিয়া শোনা “হতাশাজনক” এবং ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আরও ভালো আচরণ প্রত্যাশা করেন তিনি।