ধর্ষণ মামলায় বিচারের মুখে হাকিমি

স্পোর্টস ডেস্ক

মরক্কোর তারকা ডিফেন্ডার আশরাফ হাকিমির ধর্ষণের অভিযোগের মামলায় আবারো আলোড়ন তুলেছে ফুটবল অঙ্গনে। ফ্রান্স ইনফোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযোগ অস্বীকার করলেও বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে তাকে। বিশ্ব ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত এই রাইট-ব্যাক বর্তমানে ফরাসি ক্লাব পিএসজির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে হাকিমি বলেন, “আজকের দিনে শুধু ধর্ষণের অভিযোগই একটি বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য যথেষ্ট, যদিও আমি তা অস্বীকার করছি এবং সবকিছুই প্রমাণ করে অভিযোগটি মিথ্যা। এটি নির্দোষ মানুষের প্রতি যেমন অবিচার, তেমনি প্রকৃত ভুক্তভোগীদের প্রতিও। আমি শান্তভাবে এই বিচারের অপেক্ষা করছি, যেখানে সত্য প্রকাশ পাবে।”

ফ্রান্সের নঁতের প্রসিকিউটর দপ্তর ২০২৩ সালে অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করে। একই বছর মার্চে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়, এক ২৪ বছর বয়সী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে। ওই নারী প্যারিসের এক উপশহরে একটি থানায় গিয়ে ঘটনাটি বর্ণনা করেন, যদিও সে সময় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেননি।

হাকিমির আইনজীবী ফ্যানি কলিন দাবি করেছেন, মামলাটি দাঁড়িয়ে আছে কেবল এক নারীর বক্তব্যের ওপর। তার অভিযোগ, ওই নারী তদন্তে সহযোগিতা করেননি, চিকিৎসা পরীক্ষা, ডিএনএ টেস্ট কিংবা মোবাইল ফোন বিশ্লেষণ, সবই নাকি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এমনকি একজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর নামও দেননি।

কলিন আরও বলেন, মনস্তাত্ত্বিক মূল্যায়নে ঘটনাবর্ণনায় অস্পষ্টতা পাওয়া গেছে এবং কিছু বার্তা লুকানোর চেষ্টা করা হয়েছে, যেখানে নাকি হাকিমিকে “লুট করার পরিকল্পনা” উল্লেখ ছিল। তিনি জানান, “ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।”

অভিযোগকারী নারীর আইনজীবী রাশেল-ফ্লোর পার্দো এসব দাবিকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার মতে, মামলাটিতে চাঁদাবাজির কোনো প্রমাণ নেই। তিনি বলেন, ধর্ষণের অভিযোগ আনা নারীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর প্রবণতা খুবই সাধারণ, এবং তার মক্কেলও এর শিকার হচ্ছেন।

২০২১ সালে ইন্টার মিলান থেকে পিএসজিতে যোগ দেওয়া হাকিমি ক্লাবটির হয়ে একাধিক শিরোপা জিতেছেন। ২০২৫ সালে তিনি আফ্রিকার বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কারও পান। জাতীয় দলের হয়ে ৯৩ ম্যাচ খেলা এই ডিফেন্ডার ২০২২ বিশ্বকাপে মরক্কোকে সেমিফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।