সিপিএলে দ্বিতীয় ম্যাচেও মিরাজের ঝলক, দিলেন 'নাগিন ড্যান্স'

স্পোর্টস ডেস্ক

মেহেদী হাসান মিরাজের দারুণ বোলিং আর উইকেট উদযাপনে চেনা 'নাগিন ড্যান্স'—ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) নিজের দ্বিতীয় ম্যাচেও মাত করলেন এই বাংলাদেশি অলরাউন্ডার। প্রথম ম্যাচে ৩ উইকেট নেওয়ার পর এবার নিলেন ৪ উইকেট। 

মিরাজের এমন বোলিংয়ের পর শাই হোপের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সকে ৬ উইকেটে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছে গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স। অন্যদিকে এই হারে টানা সপ্তম পরাজয় নিয়ে তলানিতে থেকে আসর শেষ করল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন নাইট রাইডার্স।

প্রভিডেন্সে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় আমাজন ওয়ারিয়র্স। ব্যাট করতে নেমে পাওয়ারপ্লেতে ৪৩ রান তুললেও মিরাজের স্পিন আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়ে নাইট রাইডার্স। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে টানা দুই বলে কলিন মুনরো (২৬) ও নিকোলাস পুরানকে ফিরিয়ে ম্যাচে প্রথম আঘাত হানেন মিরাজ। উইকেট পাওয়ার পরপরই চেনা ভঙ্গিতে 'নাগিন ড্যান্স' দিয়ে উল্লাসে মাতেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৪ ওভারে ২৩ রান দিয়ে ৪টি উইকেট শিকার করেন এই অলরাউন্ডার। 

মোহাম্মদ নবীর বদলি হিসেবে দলে এসে প্রথম ম্যাচে ৩ উইকেটের পর এবার নিলেন ৪টি—সব মিলিয়ে ২ ম্যাচে মাত্র ৩৬ রান খরচায় মিরাজের ঝুলিতে জমা হলো ৭ উইকেট। তার ঘূর্ণিতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১২৬ রানের বেশি তুলতে পারেনি নাইট রাইডার্স, যেখানে সর্বোচ্চ ৩৫ রান করেন জাস্টিন গ্রিভস।

১২৭ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খেলেও শাই হোপের ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে জয়ের দিকে এগোতে থাকে গায়ানা। শিমরন হেটমায়ারের সঙ্গে ৫১ রানের জুটিতে দলকে নিয়ন্ত্রণে নেন হোপ। হেটমায়ার ১৯ বলে ২৮ রান করে আউট হলেও এক প্রান্ত ধরে রেখে ৪২ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয় এনে দেন হোপ।

৮ বল বাকি থাকতেই ৪ উইকেটে ১২৭ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে আমাজন ওয়ারিয়র্স। ৯ ম্যাচে এটি তাদের অষ্টম জয়, যা সিপিএলের ইতিহাসে তাদের ১০০তম জয়ের মাইলফলক এনে দিল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

  • ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্স: ১২৬/৮ (২০ ওভার) (গ্রিভস ৩৫, মুনরো ২৬; মিরাজ ৪/২৩, শামার জোসেফ ২/২৭)।

  • গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স: ১২৭/৪ (১৮.৪ ওভার) (হোপ ৪২*, হেটমায়ার ২৮; নারাইন ১/১৩)।

  • ফল: গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স ৬ উইকেটে জয়ী।